সংবাদ

প্রতারণার ফাঁদে লাখ লাখ মানুষ: এআই ব্যবহার করা চীনা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

প্রতারণার ফাঁদে লাখ লাখ মানুষ: এআই ব্যবহার করা চীনা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা

প্রযুক্তির আশীর্বাদকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ‘আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি চীনা সাইবার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। অভিনব এই প্রতারণার জালে জড়িয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

গুগলের মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে এআই ব্যবহার করে গুগল এবং অন্যান্য সুপরিচিত ব্র্যান্ডের পরিচয় নকল করত। এরপর সাধারণ মানুষের কাছে ভুয়া টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে তাদের পাসওয়ার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিত। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষের প্রায় ১৯০ কোটি ডলার (১.৯ বিলিয়ন) ক্ষতি হয়েছে এবং চক্রটি প্রায় ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করেছে।

প্রতারণার ব্যাপ্তি ছিল রীতিমতো চমকে ওঠার মতো। গুগল জানায়, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চক্রটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাছে ২৫ লাখ মেসেজ পাঠিয়েছে। তারা ৯ হাজার ভুয়া ওয়েবসাইট এবং ১০ লাখ প্রতারণামূলক ওয়েব ডোমেইন তৈরি করেছিল। গত মে মাসে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৫৫ হাজার স্প্যাম মেসেজের অভিযোগ করেছিলেন ব্যবহারকারীরা।

গুগল জানিয়েছে, এআই চালিত এই ভয়ংকর স্ক্যাম ঠেকাতে তারা নিজেদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ হাজার কোটির বেশি (১০ বিলিয়ন) স্ক্যাম মেসেজ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর আগেই আটকে দিচ্ছে তারা। প্রতারকদের ঠেকাতে গুগল ইতিমধ্যে এটিঅ্যান্ডটি, টি মোবাইল এবং ভেরাইজনের মতো টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করছে এবং এফবিআইয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আউটসাইডার’ নামের একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই চক্রটি কাজ করত। সপ্তাহে ৮৮ ডলার অথবা মাসে ২০০ ডলারের বিনিময়ে যে কেউ এই সফটওয়্যারটি কিনে প্রতারণায় অংশ নিতে পারত। চক্রটি টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত এবং নতুন প্রতারণার ছক কষত। এই চক্রের সদস্যরা গুগলের নিজস্ব এআই জেমিনিসহ অন্যান্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব সহজেই ব্যাংক, সরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হুবহু নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলত।

২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে গুগল এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার ইউআরএল শনাক্ত করেছে। মামলায় গুগল এই চক্রের প্রতারণামূলক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশ চাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ডিজিটাল প্রতারকদের ফাঁদও ততটাই ভয়ংকর হয়ে উঠছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


প্রতারণার ফাঁদে লাখ লাখ মানুষ: এআই ব্যবহার করা চীনা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

প্রযুক্তির আশীর্বাদকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ‘আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি চীনা সাইবার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। অভিনব এই প্রতারণার জালে জড়িয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

গুগলের মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে এআই ব্যবহার করে গুগল এবং অন্যান্য সুপরিচিত ব্র্যান্ডের পরিচয় নকল করত। এরপর সাধারণ মানুষের কাছে ভুয়া টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে তাদের পাসওয়ার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিত। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষের প্রায় ১৯০ কোটি ডলার (১.৯ বিলিয়ন) ক্ষতি হয়েছে এবং চক্রটি প্রায় ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করেছে।

প্রতারণার ব্যাপ্তি ছিল রীতিমতো চমকে ওঠার মতো। গুগল জানায়, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চক্রটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাছে ২৫ লাখ মেসেজ পাঠিয়েছে। তারা ৯ হাজার ভুয়া ওয়েবসাইট এবং ১০ লাখ প্রতারণামূলক ওয়েব ডোমেইন তৈরি করেছিল। গত মে মাসে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৫৫ হাজার স্প্যাম মেসেজের অভিযোগ করেছিলেন ব্যবহারকারীরা।

গুগল জানিয়েছে, এআই চালিত এই ভয়ংকর স্ক্যাম ঠেকাতে তারা নিজেদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ হাজার কোটির বেশি (১০ বিলিয়ন) স্ক্যাম মেসেজ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর আগেই আটকে দিচ্ছে তারা। প্রতারকদের ঠেকাতে গুগল ইতিমধ্যে এটিঅ্যান্ডটি, টি মোবাইল এবং ভেরাইজনের মতো টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করছে এবং এফবিআইয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আউটসাইডার’ নামের একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই চক্রটি কাজ করত। সপ্তাহে ৮৮ ডলার অথবা মাসে ২০০ ডলারের বিনিময়ে যে কেউ এই সফটওয়্যারটি কিনে প্রতারণায় অংশ নিতে পারত। চক্রটি টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত এবং নতুন প্রতারণার ছক কষত। এই চক্রের সদস্যরা গুগলের নিজস্ব এআই জেমিনিসহ অন্যান্য এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব সহজেই ব্যাংক, সরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হুবহু নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলত।

২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে গুগল এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার ইউআরএল শনাক্ত করেছে। মামলায় গুগল এই চক্রের প্রতারণামূলক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশ চাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ডিজিটাল প্রতারকদের ফাঁদও ততটাই ভয়ংকর হয়ে উঠছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত