সংবাদ

সাত দাবিতে অনড় গ্রাহকরা, ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

সাত দাবিতে অনড় গ্রাহকরা, ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ র‌বিবারও রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারী ও গ্রাহকরা।

সকাল ১০টার দিকে মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এই বিক্ষোভ থেকে তারা তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এসব দাবির বিষয়ে দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
​অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারী ও গ্রাহকরা জানান, দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু গ্রাহকদের নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট থেকে ব্যাংকটিকে রক্ষা করা গ্রাহকদেরও দায়িত্ব। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেছে। ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে আমানতকারীদের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া।
আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি বড় অংশের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার জন্য তারা স্বচ্ছতা ও গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণের দাবি তুলছেন।
​এর আগে, শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফোরামের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র নুর উন-নবী আন্দোলনের লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেন, "গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতিবাদে আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি।"
​ফোরামের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে এই খাতে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা, অপপ্রচার রোধ করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকের দায় পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
এর আগে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই এই অসন্তোষের সূত্রপাত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


সাত দাবিতে অনড় গ্রাহকরা, ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ র‌বিবারও রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারী ও গ্রাহকরা।

সকাল ১০টার দিকে মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এই বিক্ষোভ থেকে তারা তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এসব দাবির বিষয়ে দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
​অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারী ও গ্রাহকরা জানান, দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু গ্রাহকদের নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট থেকে ব্যাংকটিকে রক্ষা করা গ্রাহকদেরও দায়িত্ব। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেছে। ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে আমানতকারীদের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া।
আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি বড় অংশের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার জন্য তারা স্বচ্ছতা ও গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণের দাবি তুলছেন।
​এর আগে, শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফোরামের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র নুর উন-নবী আন্দোলনের লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেন, "গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতিবাদে আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি।"
​ফোরামের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে এই খাতে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা, অপপ্রচার রোধ করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকের দায় পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
এর আগে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই এই অসন্তোষের সূত্রপাত হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত