ওমরাহ হজে পাঠানোর নামে বিভিন্ন কাফেলা ও সাধারণ যাত্রীদের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন-হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা চাঁদপুর ও কুমিল্লার আদালতে একাধিক মামলা করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে এক অভিযুক্ত ঢাকায় আত্মগোপনে আছেন এবং অন্যজন দেশের বাইরে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার ‘হোসাইনিয়া হজ্জ কাফেলা’র প্রধান মাওলানা মো. গোলাম মাওলা ২০২৫ সালের ওমরাহ যাত্রীদের পাঠানোর জন্য হাম্মাদ ও মিশকাতের সঙ্গে চুক্তি করেন। তিনি ৬৫ জন যাত্রীর বিপরীতে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ওমরাহ পাঠাতে গড়িমসি শুরু করলে গোলাম মাওলার সন্দেহ হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে তাদের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। একপর্যায়ে তারা যাত্রীদের ভুয়া ভিসা ও এয়ার টিকিট সরবরাহ করেন।
টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ব্যাংক চেক দিলেও তা ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় গোলাম মাওলা ঢাকার সিএমএম আদালতে হাম্মাদ চৌধুরীকে আসামি করে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দুটি মামলা করেছেন। তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নছরুল্লাহ হুসাইন। তিনি জানান, ১৭৬ জন ওমরাহ যাত্রীর ভিসা ও টিকিটের জন্য মিশকাত চৌধুরী ও তার ভাইদের ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। কাজ করতে না পেরে তারা ৭৫ লাখ টাকার চেক দিলেও তা নগদায়ন হয়নি। এ নিয়ে তিনি কুমিল্লা আদালতে দুটি মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে অভিযুক্তদের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরী বলেন, "ছেলেরা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা নিজেদের ব্যবসা করে। তাদের লেনদেনের বিষয়ে আমাকে জড়ানো ঠিক নয়। লোকজনের সাথে ঝামেলার কারণে আমি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখি না।"
/

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
ওমরাহ হজে পাঠানোর নামে বিভিন্ন কাফেলা ও সাধারণ যাত্রীদের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন-হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা চাঁদপুর ও কুমিল্লার আদালতে একাধিক মামলা করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে এক অভিযুক্ত ঢাকায় আত্মগোপনে আছেন এবং অন্যজন দেশের বাইরে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার ‘হোসাইনিয়া হজ্জ কাফেলা’র প্রধান মাওলানা মো. গোলাম মাওলা ২০২৫ সালের ওমরাহ যাত্রীদের পাঠানোর জন্য হাম্মাদ ও মিশকাতের সঙ্গে চুক্তি করেন। তিনি ৬৫ জন যাত্রীর বিপরীতে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ওমরাহ পাঠাতে গড়িমসি শুরু করলে গোলাম মাওলার সন্দেহ হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে তাদের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। একপর্যায়ে তারা যাত্রীদের ভুয়া ভিসা ও এয়ার টিকিট সরবরাহ করেন।
টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ব্যাংক চেক দিলেও তা ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় গোলাম মাওলা ঢাকার সিএমএম আদালতে হাম্মাদ চৌধুরীকে আসামি করে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দুটি মামলা করেছেন। তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নছরুল্লাহ হুসাইন। তিনি জানান, ১৭৬ জন ওমরাহ যাত্রীর ভিসা ও টিকিটের জন্য মিশকাত চৌধুরী ও তার ভাইদের ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। কাজ করতে না পেরে তারা ৭৫ লাখ টাকার চেক দিলেও তা নগদায়ন হয়নি। এ নিয়ে তিনি কুমিল্লা আদালতে দুটি মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে অভিযুক্তদের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরী বলেন, "ছেলেরা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা নিজেদের ব্যবসা করে। তাদের লেনদেনের বিষয়ে আমাকে জড়ানো ঠিক নয়। লোকজনের সাথে ঝামেলার কারণে আমি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখি না।"
/

আপনার মতামত লিখুন