সংবাদ

বাজেট ২০২৬-২৭ : কী ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

বাজেট ২০২৬-২৭ : কী ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ও ভাবনার কথা জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় বাজেট কেবল একটি রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির রূপরেখা। এই রূপরেখা নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা। কারণ, তাদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ওপরই নির্ভর করে দেশের ভবিষ্যৎ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান মনে করেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ এখনো চাহিদার তুলনায় কম বলে তার অভিমত। হাবিবুর বলেন, ‘বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়নের ওপর।’

উন্নয়নের অঙ্গীকার ও বাস্তব ঝুঁকি

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জ্যোতি দত্ত অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ওপর গুরুত্বারোপকে ইতিবাচক মনে করলেও কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। তার মতে, বাজেটের পরিকল্পনা যতটা শক্তিশালী, বাস্তবায়নের গতি ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বের দাবি

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশার মনে করেন, আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। কারিগরি শিক্ষা ও স্টেম (STEM) ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধারার শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

স্বচ্ছতা ও সুষম বণ্টন জরুরি

অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিব রানা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সম্পদের অসম বণ্টন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করেন। হাসিবের মতে, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত নিরীক্ষা ও স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বাজেট ২০২৬-২৭ : কী ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় বাজেট কেবল একটি রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির রূপরেখা। এই রূপরেখা নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা। কারণ, তাদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ওপরই নির্ভর করে দেশের ভবিষ্যৎ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান মনে করেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ এখনো চাহিদার তুলনায় কম বলে তার অভিমত। হাবিবুর বলেন, ‘বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়নের ওপর।’

উন্নয়নের অঙ্গীকার ও বাস্তব ঝুঁকি

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জ্যোতি দত্ত অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ওপর গুরুত্বারোপকে ইতিবাচক মনে করলেও কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। তার মতে, বাজেটের পরিকল্পনা যতটা শক্তিশালী, বাস্তবায়নের গতি ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বের দাবি

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশার মনে করেন, আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। কারিগরি শিক্ষা ও স্টেম (STEM) ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধারার শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

স্বচ্ছতা ও সুষম বণ্টন জরুরি

অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিব রানা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সম্পদের অসম বণ্টন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করেন। হাসিবের মতে, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত নিরীক্ষা ও স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত