অগ্নিগর্ভ ইঞ্জিন থেকে গলগল করে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া, আর ট্রেনের ভেতরে তখন শত শত যাত্রীর বাঁচার আকুতি। সোমবার (১৫ জুন) এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলযাত্রীরা। একই দিনে দুটি পৃথক ট্রেনে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্কে কাটে হাজারো মানুষের জীবন।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড এবং ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনের কাপলিং ভেঙে বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় থমকে যায় রেল যোগাযোগ। পরে রেল কর্তৃপক্ষের সাড়ে তিন ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় বিকল্প উপায়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আঠারবাড়িতে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, আতঙ্কে যাত্রীদের দিকবিদিক ছোটাছুটি
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই যেন নিয়তি থমকে দাঁড়ায় বিজয় এক্সপ্রেসের। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে হঠাৎ দাউদাউ করে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখে চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীদের মাঝে হুড়োহুড়ি আর চিৎকার শুরু হয়ে যায়। ভাগ্যবশত বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও ইঞ্জিনটি পুরোপুরি বিকল হয়ে মাঝপথেই আটকে থাকে ট্রেনটি।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, "বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি আঠারবাড়ি স্টেশন অতিক্রম করার সময় ইঞ্জিনে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।" তিনি আরও বলেন, "বিকল্প লাইন ব্যবহার করে অন্যান্য ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে বড় ধরনের যানজট বা দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটেনি।" পরবর্তীতে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
মশাখালীতে ছিঁড়ে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মাঝরাস্তায় বগি রেখে চলে গেল চালক
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই গফরগাঁওয়ের মশাখালী এলাকায় ঘটে আরেক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মশাখালী এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে আকস্মিকভাবে ইঞ্জিনের কাপলিং ভেঙে যায়। বগিগুলোকে লাইনে রেখেই ইঞ্জিনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে বেশ কিছুদূর এগিয়ে যায়। এতে গফরগাঁও-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রখর রোদে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে একটি রিলিফ ইঞ্জিন পাঠিয়ে বিকল ইঞ্জিনটি সরিয়ে নিলে দুপুর আড়াইটার দিকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
একই দিনে পর পর দুটি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে রেলওয়ের পুরোনো ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, উভয় ঘটনার কারণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
অগ্নিগর্ভ ইঞ্জিন থেকে গলগল করে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া, আর ট্রেনের ভেতরে তখন শত শত যাত্রীর বাঁচার আকুতি। সোমবার (১৫ জুন) এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলযাত্রীরা। একই দিনে দুটি পৃথক ট্রেনে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্কে কাটে হাজারো মানুষের জীবন।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড এবং ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনের কাপলিং ভেঙে বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় থমকে যায় রেল যোগাযোগ। পরে রেল কর্তৃপক্ষের সাড়ে তিন ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় বিকল্প উপায়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আঠারবাড়িতে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, আতঙ্কে যাত্রীদের দিকবিদিক ছোটাছুটি
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই যেন নিয়তি থমকে দাঁড়ায় বিজয় এক্সপ্রেসের। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে হঠাৎ দাউদাউ করে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখে চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীদের মাঝে হুড়োহুড়ি আর চিৎকার শুরু হয়ে যায়। ভাগ্যবশত বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও ইঞ্জিনটি পুরোপুরি বিকল হয়ে মাঝপথেই আটকে থাকে ট্রেনটি।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, "বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি আঠারবাড়ি স্টেশন অতিক্রম করার সময় ইঞ্জিনে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।" তিনি আরও বলেন, "বিকল্প লাইন ব্যবহার করে অন্যান্য ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে বড় ধরনের যানজট বা দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটেনি।" পরবর্তীতে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
মশাখালীতে ছিঁড়ে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মাঝরাস্তায় বগি রেখে চলে গেল চালক
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই গফরগাঁওয়ের মশাখালী এলাকায় ঘটে আরেক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মশাখালী এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে আকস্মিকভাবে ইঞ্জিনের কাপলিং ভেঙে যায়। বগিগুলোকে লাইনে রেখেই ইঞ্জিনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে বেশ কিছুদূর এগিয়ে যায়। এতে গফরগাঁও-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রখর রোদে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে একটি রিলিফ ইঞ্জিন পাঠিয়ে বিকল ইঞ্জিনটি সরিয়ে নিলে দুপুর আড়াইটার দিকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
একই দিনে পর পর দুটি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে রেলওয়ের পুরোনো ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, উভয় ঘটনার কারণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন