ভোরের আলো ফুটতেই বালতি, কলসি আর পানির জার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার বাসিন্দারা। কারও গন্তব্য সিটি করপোরেশনের পানির গাড়ির লাইন, কারও আবার পাশের মহল্লার টিউবওয়েল। গত ১৮ দিন ধরে সুপেয় পানির জন্য এভাবেই লড়ছেন এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ মে কায়েমপুর এলাকার গভীর নলকূপটি বিকল হয়ে যায়। একবার মেরামত করা হলেও দুই দিনের মাথায় সেটি আবার অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও গৃহিণীদের দিনের বড় একটি অংশ কাটছে পানি সংগ্রহের যুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পানি নেই। সিটি করপোরেশনের গাড়ি আসে, কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না। এভাবে কত দিন চলা যায়?’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পানি সরবরাহ বিভাগ জানায়, কায়েমপুর এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬০ লাখ লিটার। বিপরীতে নাসিকের তিনটি পানিবাহী গাড়ি দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ মাত্র ৩০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিকল্প উৎস না থাকায় অনেক মানুষ পুকুর বা ডোবার পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নাসিকের পানি সরবরাহ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, ‘গভীর নলকূপটির ফিল্টার জ্যাম হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে মেরামতের কাজ চলছে। এটি সময়সাপেক্ষ কাজ। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’ তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ সংকট এড়াতে নতুন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে, যার কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু হবে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী এই ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বয়স্ক বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। জনপ্রতিনিধিরাও আমাদের কষ্ট বুঝছেন না।’
/

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
ভোরের আলো ফুটতেই বালতি, কলসি আর পানির জার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার বাসিন্দারা। কারও গন্তব্য সিটি করপোরেশনের পানির গাড়ির লাইন, কারও আবার পাশের মহল্লার টিউবওয়েল। গত ১৮ দিন ধরে সুপেয় পানির জন্য এভাবেই লড়ছেন এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ মে কায়েমপুর এলাকার গভীর নলকূপটি বিকল হয়ে যায়। একবার মেরামত করা হলেও দুই দিনের মাথায় সেটি আবার অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও গৃহিণীদের দিনের বড় একটি অংশ কাটছে পানি সংগ্রহের যুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পানি নেই। সিটি করপোরেশনের গাড়ি আসে, কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না। এভাবে কত দিন চলা যায়?’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পানি সরবরাহ বিভাগ জানায়, কায়েমপুর এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬০ লাখ লিটার। বিপরীতে নাসিকের তিনটি পানিবাহী গাড়ি দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ মাত্র ৩০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিকল্প উৎস না থাকায় অনেক মানুষ পুকুর বা ডোবার পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নাসিকের পানি সরবরাহ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, ‘গভীর নলকূপটির ফিল্টার জ্যাম হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে মেরামতের কাজ চলছে। এটি সময়সাপেক্ষ কাজ। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’ তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ সংকট এড়াতে নতুন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে, যার কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু হবে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী এই ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বয়স্ক বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। জনপ্রতিনিধিরাও আমাদের কষ্ট বুঝছেন না।’
/

আপনার মতামত লিখুন