সংবাদ

টাঙ্গাইলের আনারস জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলেও মেলেনি হিমাগার


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

টাঙ্গাইলের আনারস জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলেও মেলেনি হিমাগার
মধুপুরের লাল মাটিতে বাম্পার ফলন হয়েছে রসালো জলঢুগি আনারসের। ছবি : সংবাদ

টাঙ্গাইলের লাল মাটিতে উৎপাদিত জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আনারস দেশজুড়ে সমাদৃত। তবে চলতি মৌসুমে ‘ক্যালেন্ডার’ জাতের আনারস চাষ করে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন মধুপুর, ঘাটাইল ও সখিপুর উপজেলার কৃষকেরা। এর বিপরীতে অল্প সময়ে ফলন ও অধিক লাভের আশায় স্থানীয় চাষিরা এখন ‘জলঢুগি’ জাতের আনারস চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যালেন্ডার জাতের আনারস ফলন পেতে সময় লাগে প্রায় ১৮ মাস। অন্যদিকে জলঢুগি জাতের আনারস মাত্র ৮ মাসেই বাজারজাত করা যায়। এ ছাড়া জলঢুগি আনারস বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তবে বর্তমানে বাজারে আম, লিচু ও কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের সরবরাহ বেশি থাকায় আনারসের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এতে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা।

মধুপুরের গারো বাজারের চাষি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘৩০০ শতাংশ জমিতে জলঢুগি আনারস চাষ করেছি। পাইকারি দরে প্রতিটি ২৭ টাকা করে কিছু বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন মৌসুমি ফলে বাজার সয়লাব থাকায় পাইকার কম।’ সখিপুরের মোনছের আলী জানান, আনারস সংরক্ষণের জন্য হিমাগার থাকলে বাজার পরিস্থিতি বুঝে ফল বিক্রি করা যেত। এখন বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মধুপুরের জলছত্র বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোরে এই হাটে কোটি টাকার আনারস কেনাবেচা হয়। এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপে করে আনারস যাচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে। তবে পচনশীল এই ফল দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে লোকসানে পড়তে হয় চাষিদের।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, মধুপুরে মূলত ক্যালেন্ডার, জলঢুগি ও এমডি-২ জাতের আনারস চাষ হয়। এর মধ্যে চার হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে জলঢুগি চাষ হচ্ছে। ক্যালেন্ডারের তুলনায় একই জমিতে জলঢুগির চারা বেশি রোপণ করা যায় এবং লাভও দ্বিগুণ হয়।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শোয়েব মাহমুদ বলেন, জেলায় এ বছর ৭ হাজার ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। হিমাগার না থাকায় কৃষকেরা ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। দ্রুত একটি হিমাগার স্থাপনের চেষ্টা চলছে, যা সম্ভব হলে আনারস বিদেশে রপ্তানি করাও সহজ হবে।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


টাঙ্গাইলের আনারস জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলেও মেলেনি হিমাগার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের লাল মাটিতে উৎপাদিত জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আনারস দেশজুড়ে সমাদৃত। তবে চলতি মৌসুমে ‘ক্যালেন্ডার’ জাতের আনারস চাষ করে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন মধুপুর, ঘাটাইল ও সখিপুর উপজেলার কৃষকেরা। এর বিপরীতে অল্প সময়ে ফলন ও অধিক লাভের আশায় স্থানীয় চাষিরা এখন ‘জলঢুগি’ জাতের আনারস চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যালেন্ডার জাতের আনারস ফলন পেতে সময় লাগে প্রায় ১৮ মাস। অন্যদিকে জলঢুগি জাতের আনারস মাত্র ৮ মাসেই বাজারজাত করা যায়। এ ছাড়া জলঢুগি আনারস বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তবে বর্তমানে বাজারে আম, লিচু ও কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের সরবরাহ বেশি থাকায় আনারসের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এতে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা।

মধুপুরের গারো বাজারের চাষি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘৩০০ শতাংশ জমিতে জলঢুগি আনারস চাষ করেছি। পাইকারি দরে প্রতিটি ২৭ টাকা করে কিছু বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন মৌসুমি ফলে বাজার সয়লাব থাকায় পাইকার কম।’ সখিপুরের মোনছের আলী জানান, আনারস সংরক্ষণের জন্য হিমাগার থাকলে বাজার পরিস্থিতি বুঝে ফল বিক্রি করা যেত। এখন বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মধুপুরের জলছত্র বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোরে এই হাটে কোটি টাকার আনারস কেনাবেচা হয়। এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপে করে আনারস যাচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে। তবে পচনশীল এই ফল দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে লোকসানে পড়তে হয় চাষিদের।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, মধুপুরে মূলত ক্যালেন্ডার, জলঢুগি ও এমডি-২ জাতের আনারস চাষ হয়। এর মধ্যে চার হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে জলঢুগি চাষ হচ্ছে। ক্যালেন্ডারের তুলনায় একই জমিতে জলঢুগির চারা বেশি রোপণ করা যায় এবং লাভও দ্বিগুণ হয়।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শোয়েব মাহমুদ বলেন, জেলায় এ বছর ৭ হাজার ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। হিমাগার না থাকায় কৃষকেরা ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। দ্রুত একটি হিমাগার স্থাপনের চেষ্টা চলছে, যা সম্ভব হলে আনারস বিদেশে রপ্তানি করাও সহজ হবে।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত