মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের (২০২৬) ৩১ মে পর্যন্ত ৫ মাসে নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ ও নিবন্ধিত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ২৯ জন রোহিঙ্গা।
সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত ইউএনএইচসিআর-এর মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
গত ৩১ মে পর্যন্ত সংস্থাটি ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন করেছে, যারা ১৯৯০ এবং ২০১৭ সালের পর মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৩৭ জন ১৯৯০ সালের পর এসেছেন এবং ১০ লাখ ৫ হাজার ৬৪৫ জন ২০১৭ সালের পর এসেছেন।
ইউএনএইচসিআর জানায়, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত মে মাসেই নতুন আগত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা। এর আগে গত মার্চ মাস পর্যন্ত নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন।
২০২৪ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন শরণার্থীদের এই বড় ঢেউ দেখা দেয়। জীবন বাঁচাতে ও নিরাপত্তার খোঁজে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে মোট ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১১ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন বলে চিহ্নিত করা গেছে।
সংস্থাটি জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার ফলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা খুঁজছেন।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে শরণার্থীদের মানবিক ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নতুন ও পুরোনো শরণার্থীদের একটি বিশাল অংশই চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শরণার্থীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ নারী এবং শিশু, বাকিদের মধ্যে ১২ শতাংশ মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। যার মধ্যে রয়েছেন, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একক পিতা-মাতা, গুরুতর অসুস্থ রোগী, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং ঝুঁকিতে থাকা বয়োবৃদ্ধ মানুষ।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এই মুহূর্তে জরুরি আইনি ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে দিন দিন বিপুলসংখ্যক মানুষের এই অনুপ্রবেশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের চাপ তৈরি করছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের (২০২৬) ৩১ মে পর্যন্ত ৫ মাসে নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ ও নিবন্ধিত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ২৯ জন রোহিঙ্গা।
সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত ইউএনএইচসিআর-এর মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
গত ৩১ মে পর্যন্ত সংস্থাটি ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন করেছে, যারা ১৯৯০ এবং ২০১৭ সালের পর মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৩৭ জন ১৯৯০ সালের পর এসেছেন এবং ১০ লাখ ৫ হাজার ৬৪৫ জন ২০১৭ সালের পর এসেছেন।
ইউএনএইচসিআর জানায়, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত মে মাসেই নতুন আগত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা। এর আগে গত মার্চ মাস পর্যন্ত নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন।
২০২৪ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন শরণার্থীদের এই বড় ঢেউ দেখা দেয়। জীবন বাঁচাতে ও নিরাপত্তার খোঁজে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে মোট ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১১ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন বলে চিহ্নিত করা গেছে।
সংস্থাটি জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার ফলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা খুঁজছেন।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে শরণার্থীদের মানবিক ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নতুন ও পুরোনো শরণার্থীদের একটি বিশাল অংশই চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শরণার্থীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ নারী এবং শিশু, বাকিদের মধ্যে ১২ শতাংশ মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। যার মধ্যে রয়েছেন, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একক পিতা-মাতা, গুরুতর অসুস্থ রোগী, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং ঝুঁকিতে থাকা বয়োবৃদ্ধ মানুষ।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এই মুহূর্তে জরুরি আইনি ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে দিন দিন বিপুলসংখ্যক মানুষের এই অনুপ্রবেশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের চাপ তৈরি করছে।

আপনার মতামত লিখুন