কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে কুমিল্লার ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এই নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার হওয়া জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই রাতেই দাউদকান্দি থানায় এক নারী জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর জিসান অসুস্থতা দাবি করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার তাঁর সুস্থতা যাচাইয়ে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, বোর্ড জিসানকে সুস্থ বলে ছাড়পত্র দেয়। এরপরই মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী জানান, এই মামলায় জিসান ছাড়াও সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব নামের আরও তিনজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জিসানকে পরবর্তীতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
এদিকে জিসানকে আদালতে হাজির করার খবরে এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিকেলে হেলমেট পরিয়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে আনা হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন চাইলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাঁকে গর্ভপাতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান।
আপনার মতামত লিখুন