২০১৮ সালের বিশ্বজয় এবং ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে সেই হৃদয়ভাঙা হারের পর আরও একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামছে ফ্রান্স। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ এবং শেষবারের মতো ফরাসিদের সেনাপতি হয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছেন।
একঝাঁক তরুণ তারকা নিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে নামা ফ্রান্সের সামনে আফ্রিকার এক সিংহ-গর্জন, যাদের নাম ‘লায়ন্স অব তেরেঙ্গা’। ২৪ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক স্তব্ধতার স্মৃতি সঙ্গী করে সেনেগাল এবারও তৈরি ফরাসি সৌরভের জৌলুস কেড়ে নিতে। নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে আজ (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে সেনেগাল। বিশ্বকাপে অনেকের মতে ‘গ্রুপ অব ডেথের’ এই ম্যাচ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ফ্রান্সের মনে উকি দিতে পারে ২০০২ বিশ্বকাপের সেই অঘটনের স্মৃতি। দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে সে সময়ের ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে যখন ইতিহাস গড়েছিল সেনেগাল, আফ্রিকার দলটির বর্তমান কোচ পাপে থিয়াও তখন সেই স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়; ২২ বছর পর বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচেই আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০০২ বিশ্বকাপের সেই উদ্বোধনী ম্যাচের কথা তুলতেই পাপে থিয়াওয়ের মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
সেনেগালের বর্তমান ম্যানেজারের সরল স্বীকারোক্তি, "ওটা ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।" ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
অবশ্য পুরোনো সেই ইতিহাসকে একদমই পাত্তা দিচ্ছেন না ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। এক অনুবাদকের মাধ্যমে তিনি বলেন, "ফুটবলে প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা পাতা লেখার সময়। ২০০২ সালে যা হয়েছিল, সেটার জন্য সেনেগালকে অভিনন্দন। তখনকার জন্য সেটা নিশ্চয়ই দারুণ ছিল, তবে এবার যেন ফলাফল আমাদের পক্ষে আসে, আমরা সেটাই নিশ্চিত করব।"
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ফরাসিদের অবস্থান এখন তিন নম্বরে, আর সেনেগাল আছে ১৬তম স্থানে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধান নিয়ে একদমই ভাবছেন না ফ্রান্সের মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বেশি সতর্ক হয়ে তিনি বলেন, "আমাদের আসল প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু আমরা নিজেরাই। নিজেদের অতিরিক্ত সুন্দর বা বেশি শক্তিশালী ভেবে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই।"
পূর্ণশক্তির এক স্কোয়াড নিয়েই বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামছে ফ্রান্স। ফরাসি শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, পিঠের চোট পুরোপুরি কাটিয়ে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের তারকা ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। পাশাপাশি, হালকা চোটের ধাক্কা সামলে শুরুর একাদশে থাকার জন্য সম্পূর্ণ ফিট রাইট-ব্যাক জুলেস কুন্দেও। ম্যাচের রণকৌশল হিসেবে হেড কোচ দিদিয়ের দেশম সম্ভবত তাঁর চেনা এবং ধারালো ৪-২-৩-১ ফর্মেশন বেছে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পোস্টের নিচে ফরাসিদের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেখা যাবে মাইক মেইয়াঁকে। তার সামনে রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন থিও হার্নান্দেস, উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো এবং জুলেস কুন্দে।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণের ঢাল হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত আক্রমণে বল জোগানোর মূল কাজটি সামলাবেন অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি এবং আদ্রিয়েন রাবিও শক্তিশালী মিডফিল্ড জুটি। আক্রমণভাগে ফরাসিদের সৃষ্টিশীলতার জোগান দিতে প্রস্তুত দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল অলিসে, যাঁদের মূল লক্ষ্যই থাকবে দলের মহাতারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেকে বলের জোগান দেওয়া। গতির ঝড় তোলা ফ্রান্সের এই বিধ্বংসী আক্রমণভাগ ম্যাচের শুরু থেকেই সেনেগালের রক্ষণভাগের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা নিতে যাচ্ছে।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সেনেগালকেও বেশ শক্তিশালী এবং ফুরফুরে মেজাজে দেখা যাচ্ছে। সম্পূর্ণ ফিট আছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা সাদিও মানে। চোটের কারণে গত বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ ভুলে এবার বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে মরিয়া তিনি। মাঠে নামতে পুরোপুরি প্রস্তুত অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেই। অনুশীলনে হালকা চোটের যে শঙ্কা জেগেছিল, তা দ্রুতই কাটিয়ে উঠেছেন তিনি।
স্কোয়াডের মধ্যে কেবল ফরোয়ার্ড শেরিফ নিয়ায়ে এবং উইঙ্গার আসানে দিয়াওকে নিয়ে সামান্য সংশয় রয়েছে, দুজনেই ভুগছেন হালকা চোটে। ফরাসিদের আক্রমণভাগ রুখে দিতে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও সম্ভবত একটি নিরেট ৪-৩-৩ ফর্মেশন বেছে নেবেন। পোস্টের নিচে যথারীতি বিশ্বস্ত হাত হিসেবে থাকছেন এদুয়ার্দ মেন্দি। রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালি, তার সঙ্গী হিসেবে থাকবেন মুসা নিয়াখাতে। আর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করবেন লামিন কামারা এবং পাপে গেয়ি।
আক্রমণভাগে গোল করার মূল দায়িত্বে থাকবেন নিকোলাস জ্যাকসন, যাঁকে দুই প্রান্ত থেকে অনবরত বলের জোগান দিয়ে সাহায্য করার জন্য আছেন সাদিও মানে এবং ইলিমান এনদিয়ায়ে।
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে দুর্দান্ত ছন্দে আছে ফ্রান্স। নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয়ের শেষ হাসি হেসেছে তারা। গত মার্চে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটি জয় তুলে নেয় ফরাসিরা। আইভরি কোস্টের কাছে একটি ছোট ধাক্কা খেলেও দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ দাপটের সঙ্গেই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
অন্যদিকে, সেনেগালের সাম্প্রতিক ছন্দ কিছুটা অম্ল-মধুর। নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জয়, একটি ড্র এবং দুটিতে হারের মুখ দেখেছে তারা। প্রীতি ম্যাচগুলোতে পেরু এবং গাম্বিয়ার বিপক্ষে সহজ জয় পেলেও শেষদিকের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে বেশ ভালোই খাবি খেয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পর সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয় আফ্রিকান এই পরাশক্তিকে।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
২০১৮ সালের বিশ্বজয় এবং ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে সেই হৃদয়ভাঙা হারের পর আরও একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামছে ফ্রান্স। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ এবং শেষবারের মতো ফরাসিদের সেনাপতি হয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছেন।
একঝাঁক তরুণ তারকা নিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে নামা ফ্রান্সের সামনে আফ্রিকার এক সিংহ-গর্জন, যাদের নাম ‘লায়ন্স অব তেরেঙ্গা’। ২৪ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক স্তব্ধতার স্মৃতি সঙ্গী করে সেনেগাল এবারও তৈরি ফরাসি সৌরভের জৌলুস কেড়ে নিতে। নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে আজ (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে সেনেগাল। বিশ্বকাপে অনেকের মতে ‘গ্রুপ অব ডেথের’ এই ম্যাচ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ফ্রান্সের মনে উকি দিতে পারে ২০০২ বিশ্বকাপের সেই অঘটনের স্মৃতি। দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে সে সময়ের ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে যখন ইতিহাস গড়েছিল সেনেগাল, আফ্রিকার দলটির বর্তমান কোচ পাপে থিয়াও তখন সেই স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়; ২২ বছর পর বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচেই আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০০২ বিশ্বকাপের সেই উদ্বোধনী ম্যাচের কথা তুলতেই পাপে থিয়াওয়ের মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
সেনেগালের বর্তমান ম্যানেজারের সরল স্বীকারোক্তি, "ওটা ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।" ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
অবশ্য পুরোনো সেই ইতিহাসকে একদমই পাত্তা দিচ্ছেন না ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। এক অনুবাদকের মাধ্যমে তিনি বলেন, "ফুটবলে প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা পাতা লেখার সময়। ২০০২ সালে যা হয়েছিল, সেটার জন্য সেনেগালকে অভিনন্দন। তখনকার জন্য সেটা নিশ্চয়ই দারুণ ছিল, তবে এবার যেন ফলাফল আমাদের পক্ষে আসে, আমরা সেটাই নিশ্চিত করব।"
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ফরাসিদের অবস্থান এখন তিন নম্বরে, আর সেনেগাল আছে ১৬তম স্থানে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধান নিয়ে একদমই ভাবছেন না ফ্রান্সের মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বেশি সতর্ক হয়ে তিনি বলেন, "আমাদের আসল প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু আমরা নিজেরাই। নিজেদের অতিরিক্ত সুন্দর বা বেশি শক্তিশালী ভেবে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই।"
পূর্ণশক্তির এক স্কোয়াড নিয়েই বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামছে ফ্রান্স। ফরাসি শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, পিঠের চোট পুরোপুরি কাটিয়ে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের তারকা ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। পাশাপাশি, হালকা চোটের ধাক্কা সামলে শুরুর একাদশে থাকার জন্য সম্পূর্ণ ফিট রাইট-ব্যাক জুলেস কুন্দেও। ম্যাচের রণকৌশল হিসেবে হেড কোচ দিদিয়ের দেশম সম্ভবত তাঁর চেনা এবং ধারালো ৪-২-৩-১ ফর্মেশন বেছে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পোস্টের নিচে ফরাসিদের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেখা যাবে মাইক মেইয়াঁকে। তার সামনে রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন থিও হার্নান্দেস, উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো এবং জুলেস কুন্দে।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণের ঢাল হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত আক্রমণে বল জোগানোর মূল কাজটি সামলাবেন অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি এবং আদ্রিয়েন রাবিও শক্তিশালী মিডফিল্ড জুটি। আক্রমণভাগে ফরাসিদের সৃষ্টিশীলতার জোগান দিতে প্রস্তুত দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল অলিসে, যাঁদের মূল লক্ষ্যই থাকবে দলের মহাতারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেকে বলের জোগান দেওয়া। গতির ঝড় তোলা ফ্রান্সের এই বিধ্বংসী আক্রমণভাগ ম্যাচের শুরু থেকেই সেনেগালের রক্ষণভাগের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা নিতে যাচ্ছে।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সেনেগালকেও বেশ শক্তিশালী এবং ফুরফুরে মেজাজে দেখা যাচ্ছে। সম্পূর্ণ ফিট আছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা সাদিও মানে। চোটের কারণে গত বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ ভুলে এবার বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে মরিয়া তিনি। মাঠে নামতে পুরোপুরি প্রস্তুত অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেই। অনুশীলনে হালকা চোটের যে শঙ্কা জেগেছিল, তা দ্রুতই কাটিয়ে উঠেছেন তিনি।
স্কোয়াডের মধ্যে কেবল ফরোয়ার্ড শেরিফ নিয়ায়ে এবং উইঙ্গার আসানে দিয়াওকে নিয়ে সামান্য সংশয় রয়েছে, দুজনেই ভুগছেন হালকা চোটে। ফরাসিদের আক্রমণভাগ রুখে দিতে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও সম্ভবত একটি নিরেট ৪-৩-৩ ফর্মেশন বেছে নেবেন। পোস্টের নিচে যথারীতি বিশ্বস্ত হাত হিসেবে থাকছেন এদুয়ার্দ মেন্দি। রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালি, তার সঙ্গী হিসেবে থাকবেন মুসা নিয়াখাতে। আর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করবেন লামিন কামারা এবং পাপে গেয়ি।
আক্রমণভাগে গোল করার মূল দায়িত্বে থাকবেন নিকোলাস জ্যাকসন, যাঁকে দুই প্রান্ত থেকে অনবরত বলের জোগান দিয়ে সাহায্য করার জন্য আছেন সাদিও মানে এবং ইলিমান এনদিয়ায়ে।
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে দুর্দান্ত ছন্দে আছে ফ্রান্স। নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয়ের শেষ হাসি হেসেছে তারা। গত মার্চে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটি জয় তুলে নেয় ফরাসিরা। আইভরি কোস্টের কাছে একটি ছোট ধাক্কা খেলেও দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ দাপটের সঙ্গেই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
অন্যদিকে, সেনেগালের সাম্প্রতিক ছন্দ কিছুটা অম্ল-মধুর। নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জয়, একটি ড্র এবং দুটিতে হারের মুখ দেখেছে তারা। প্রীতি ম্যাচগুলোতে পেরু এবং গাম্বিয়ার বিপক্ষে সহজ জয় পেলেও শেষদিকের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে বেশ ভালোই খাবি খেয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পর সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয় আফ্রিকান এই পরাশক্তিকে।

আপনার মতামত লিখুন