যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য নতুন একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে ইরান। দেশটির পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) শুক্রবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে এই নতুন নীতিমালা ঘোষণা করে।
পিজিএসএ-র পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী এখন থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে
ইচ্ছুক যেকোনো জাহাজকে নির্ধারিত দাপ্তরিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের কাছে ট্রানজিটের
জন্য আবেদন করতে হবে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল জাহাজগুলো
এই প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি পাবে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে
বলা হয়েছে, পিজিএসএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ই-মেইল ঠিকানাই হবে ট্রানজিট আবেদন প্রক্রিয়ার
একমাত্র অনুমোদিত মাধ্যম। এর বাইরে অন্য কোনো উপায়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া
আবেদনকারী জাহাজগুলোকে যোগাযোগের জন্য অবশ্যই বৈধ ও সার্বক্ষণিক কার্যকর তথ্য সরবরাহ
করতে হবে।
প্রণালির প্রবেশ
বা প্রস্থান পয়েন্টে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর বিলম্ব ও জট এড়াতে জাহাজ মালিকদের বিশেষ
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা
আগে পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট আবেদন জমা দিতে হবে।
তবে জাহাজ মালিকদের
জন্য একটি স্বস্তির খবরও দিয়েছে পিজিএসএ। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রণালি পারাপারের
সময় নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি বীমা
বাবদ যে চার্জ আসে, তা আগামী ৬০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ মওকুফ থাকবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন
সময়ের সমস্ত ব্যয় ইরান সরকার নিজেই বহন করবে।
একই সাথে নৌ-যানগুলোকে
বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রণালির কিছু সুনির্দিষ্ট
এলাকায় এখনো মাইনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার স্বার্থে জাহাজগুলোকে
আগে থেকেই পিজিএসএ-র সাথে যোগাযোগ করে তাদের নির্ধারিত রুট ও যাতায়াতের সময়সূচি সমন্বয়
করে নিতে হবে। এই নির্দেশনা অমান্য করে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এবং তার ফলে কোনো দুর্ঘটনা
ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জাহাজ মালিকদের ওপর বর্তাবে।
এর আগে, গত
বুধবার রাতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে একটি ১৪ দফার ঐতিহাসিক
সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক
নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান
আগামী ৬০ দিনব্যাপী নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাবে; প্রয়োজনে যার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
পরদিন বৃহস্পতিবার
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বিশ্ববাসীকে জানান, এই চুক্তির অংশ হিসেবেই
ইরান অবিলম্বে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দিচ্ছে,
যার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে তাদের দেওয়া বিতর্কিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে
নেবে। ইরানের এই নতুন নির্দেশনা মূলত সেই চুক্তিরই প্রথম বাস্তব প্রতিফলন।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য নতুন একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে ইরান। দেশটির পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) শুক্রবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে এই নতুন নীতিমালা ঘোষণা করে।
পিজিএসএ-র পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী এখন থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে
ইচ্ছুক যেকোনো জাহাজকে নির্ধারিত দাপ্তরিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের কাছে ট্রানজিটের
জন্য আবেদন করতে হবে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল জাহাজগুলো
এই প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি পাবে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে
বলা হয়েছে, পিজিএসএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ই-মেইল ঠিকানাই হবে ট্রানজিট আবেদন প্রক্রিয়ার
একমাত্র অনুমোদিত মাধ্যম। এর বাইরে অন্য কোনো উপায়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া
আবেদনকারী জাহাজগুলোকে যোগাযোগের জন্য অবশ্যই বৈধ ও সার্বক্ষণিক কার্যকর তথ্য সরবরাহ
করতে হবে।
প্রণালির প্রবেশ
বা প্রস্থান পয়েন্টে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর বিলম্ব ও জট এড়াতে জাহাজ মালিকদের বিশেষ
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা
আগে পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট আবেদন জমা দিতে হবে।
তবে জাহাজ মালিকদের
জন্য একটি স্বস্তির খবরও দিয়েছে পিজিএসএ। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রণালি পারাপারের
সময় নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি বীমা
বাবদ যে চার্জ আসে, তা আগামী ৬০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ মওকুফ থাকবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন
সময়ের সমস্ত ব্যয় ইরান সরকার নিজেই বহন করবে।
একই সাথে নৌ-যানগুলোকে
বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রণালির কিছু সুনির্দিষ্ট
এলাকায় এখনো মাইনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার স্বার্থে জাহাজগুলোকে
আগে থেকেই পিজিএসএ-র সাথে যোগাযোগ করে তাদের নির্ধারিত রুট ও যাতায়াতের সময়সূচি সমন্বয়
করে নিতে হবে। এই নির্দেশনা অমান্য করে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এবং তার ফলে কোনো দুর্ঘটনা
ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জাহাজ মালিকদের ওপর বর্তাবে।
এর আগে, গত
বুধবার রাতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে একটি ১৪ দফার ঐতিহাসিক
সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক
নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান
আগামী ৬০ দিনব্যাপী নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাবে; প্রয়োজনে যার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
পরদিন বৃহস্পতিবার
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বিশ্ববাসীকে জানান, এই চুক্তির অংশ হিসেবেই
ইরান অবিলম্বে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দিচ্ছে,
যার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে তাদের দেওয়া বিতর্কিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে
নেবে। ইরানের এই নতুন নির্দেশনা মূলত সেই চুক্তিরই প্রথম বাস্তব প্রতিফলন।

আপনার মতামত লিখুন