দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনর্গঠন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ মোকাবিলা এবং সব ধরনের অপচয় রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়েছে। নতুন এই বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ কোটি টাকা। তবে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে মিতব্যয়িতার এক ব্যতিক্রমী নজির গড়ে এবার সরকারি ব্যয় কমানো হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা।
সোমবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে এই সংশোধিত
ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির
খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে
বাজেট পেশের সময় দেশের বর্তমান
অর্থনীতির একটি বাস্তব চিত্র
তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি
জানান, চলতি অর্থবছরের মূল
বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় প্রাক্কলন
করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০
হাজার কোটি টাকা। তবে
নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন
কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের
গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় দুই হাজার
কোটি টাকা কমিয়ে ৭
লাখ ৮৮ হাজার কোটি
টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই
সঙ্গে সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতি প্রস্তাব
করা হয়েছে দুই লাখ কোটি
টাকা, যা দেশের মোট
জিডিপির ৩ দশমিক ৩
শতাংশ।
দেশের
চলমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির
খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ
অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা দূর করে অর্থনীতিকে
পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান সরকারের
প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন
ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে
মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।"
তবে
ব্যয় কমলেও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া
হচ্ছে না জানিয়ে তিনি
আরও বলেন, "বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে
ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও ফ্যামিলি
কার্ড, কৃষক কার্ড এবং
ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী
দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও
সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এ
কার্যক্রমগুলোর প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির
কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।"
অর্থমন্ত্রীর
বাজেট বক্তব্যের পরপরই স্পিকার সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের
প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য
ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া
শুরু করেন।
এ সময় সংবিধানের ৮৯
অনুচ্ছেদ মনে করিয়ে দিয়ে
স্পিকার জানান, দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত
হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত
নয়। এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি
দাবি রয়েছে এবং এসব দাবির
বিপরীতে রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ
বিরোধী দলের ২০ জন
সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই
প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট
সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিরোধী দলের
পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগ,
পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়,
স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়,
খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন
কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয়
ও বিভাগ সম্পর্কিত খাতে ছাঁটাই প্রস্তাব
উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা
দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার
জানান, এই নির্দিষ্ট খাতগুলোতে
তালিকাভুক্ত সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানানো হবে এবং অন্য
দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা
হবে। সব মিলিয়ে, এক
সংকটকালীন অর্থনীতিতে দাঁড়িয়ে জনমানুষের স্বস্তি ও মিতব্যয়িতার এক
মানবিক মেলবন্ধন হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই
সংশোধিত বাজেটকে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনর্গঠন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ মোকাবিলা এবং সব ধরনের অপচয় রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়েছে। নতুন এই বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ কোটি টাকা। তবে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে মিতব্যয়িতার এক ব্যতিক্রমী নজির গড়ে এবার সরকারি ব্যয় কমানো হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা।
সোমবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে এই সংশোধিত
ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির
খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে
বাজেট পেশের সময় দেশের বর্তমান
অর্থনীতির একটি বাস্তব চিত্র
তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি
জানান, চলতি অর্থবছরের মূল
বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় প্রাক্কলন
করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০
হাজার কোটি টাকা। তবে
নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন
কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের
গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় দুই হাজার
কোটি টাকা কমিয়ে ৭
লাখ ৮৮ হাজার কোটি
টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই
সঙ্গে সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতি প্রস্তাব
করা হয়েছে দুই লাখ কোটি
টাকা, যা দেশের মোট
জিডিপির ৩ দশমিক ৩
শতাংশ।
দেশের
চলমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির
খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ
অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা দূর করে অর্থনীতিকে
পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান সরকারের
প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন
ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে
মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।"
তবে
ব্যয় কমলেও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া
হচ্ছে না জানিয়ে তিনি
আরও বলেন, "বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে
ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও ফ্যামিলি
কার্ড, কৃষক কার্ড এবং
ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী
দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও
সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এ
কার্যক্রমগুলোর প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির
কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।"
অর্থমন্ত্রীর
বাজেট বক্তব্যের পরপরই স্পিকার সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের
প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য
ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া
শুরু করেন।
এ সময় সংবিধানের ৮৯
অনুচ্ছেদ মনে করিয়ে দিয়ে
স্পিকার জানান, দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত
হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত
নয়। এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি
দাবি রয়েছে এবং এসব দাবির
বিপরীতে রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ
বিরোধী দলের ২০ জন
সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই
প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট
সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিরোধী দলের
পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগ,
পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়,
স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়,
খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন
কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয়
ও বিভাগ সম্পর্কিত খাতে ছাঁটাই প্রস্তাব
উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা
দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার
জানান, এই নির্দিষ্ট খাতগুলোতে
তালিকাভুক্ত সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানানো হবে এবং অন্য
দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা
হবে। সব মিলিয়ে, এক
সংকটকালীন অর্থনীতিতে দাঁড়িয়ে জনমানুষের স্বস্তি ও মিতব্যয়িতার এক
মানবিক মেলবন্ধন হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই
সংশোধিত বাজেটকে।

আপনার মতামত লিখুন