সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুবাইয়ের আদালতে তার জামিনের আবেদন ও প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত শুনানি শুরু হলেও তা মুলতবি করা হয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।
মঙ্গলবার দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীরের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দল তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আলাদা আবেদন করে। আদালত উভয় আবেদনের নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং দুবাইয়ের আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার জন্য সময় নিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দুবাই পৌঁছেছে। দলটিতে এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বা ইন্টারপোলের কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ সদর দপ্তরের তিনজন এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার দুইজন সদস্য রয়েছেন। তারা দুবাই আদালতে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ও ইন্টারপোল নোটিশ-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
আবেদনের পর আদালত তা গ্রহণ করলেও জামিনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জামিনের বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেনজীরের আইনজীবী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত দেখবে- বেনজীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দুবাইয়ের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, অভিযোগটি রাজনৈতিক নাকি অপরাধমূলক, বাংলাদেশের কাগজপত্র যথাযথ কিনা এবং তাঁর গোল্ড কার্ড বা বিনিয়োগকারীর মর্যাদা ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গোল্ড কার্ডধারী বিনিয়োগকারী। তবে আইনজীবীরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারী হিসেবে আইনি শিথিলতা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। বরং বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
দুবাইয়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে প্রথমে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এরপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়। সেখানে প্রসিকিউশন ইন্টারপোলের রেড নোটিশের বৈধতা ও অভিযোগকারী রাষ্ট্রের পাঠানো নথিপত্র যাচাই করে। পরে মামলাটি যায় কোর্ট অব আপিলে। আপিল আদালতের রায়ে অসন্তুষ্ট হলে সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশনে আপিল করা যায়।
জামিনের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পাশাপাশি দুবাইয়ের কোনো প্রভাবশালী নাগরিককে জামিনদার হিসেবে উপস্থাপন করতে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্থের বন্ড জমা দিতে হয়।
আদালত প্রত্যর্পণের পক্ষে রায় দিলেও অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করা হয় না। আদালতের রায়ের পর প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয়। তাদের অনুমোদনের পরই প্রত্যর্পণ কার্যকর হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি কূটনৈতিক ও আইনি উভয় চ্যানেলে চলছে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুবাইয়ের আদালতে তার জামিনের আবেদন ও প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত শুনানি শুরু হলেও তা মুলতবি করা হয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।
মঙ্গলবার দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীরের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দল তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আলাদা আবেদন করে। আদালত উভয় আবেদনের নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং দুবাইয়ের আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার জন্য সময় নিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দুবাই পৌঁছেছে। দলটিতে এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বা ইন্টারপোলের কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ সদর দপ্তরের তিনজন এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার দুইজন সদস্য রয়েছেন। তারা দুবাই আদালতে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ও ইন্টারপোল নোটিশ-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
আবেদনের পর আদালত তা গ্রহণ করলেও জামিনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জামিনের বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেনজীরের আইনজীবী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত দেখবে- বেনজীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দুবাইয়ের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, অভিযোগটি রাজনৈতিক নাকি অপরাধমূলক, বাংলাদেশের কাগজপত্র যথাযথ কিনা এবং তাঁর গোল্ড কার্ড বা বিনিয়োগকারীর মর্যাদা ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গোল্ড কার্ডধারী বিনিয়োগকারী। তবে আইনজীবীরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারী হিসেবে আইনি শিথিলতা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। বরং বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
দুবাইয়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে প্রথমে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এরপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়। সেখানে প্রসিকিউশন ইন্টারপোলের রেড নোটিশের বৈধতা ও অভিযোগকারী রাষ্ট্রের পাঠানো নথিপত্র যাচাই করে। পরে মামলাটি যায় কোর্ট অব আপিলে। আপিল আদালতের রায়ে অসন্তুষ্ট হলে সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশনে আপিল করা যায়।
জামিনের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পাশাপাশি দুবাইয়ের কোনো প্রভাবশালী নাগরিককে জামিনদার হিসেবে উপস্থাপন করতে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্থের বন্ড জমা দিতে হয়।
আদালত প্রত্যর্পণের পক্ষে রায় দিলেও অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করা হয় না। আদালতের রায়ের পর প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয়। তাদের অনুমোদনের পরই প্রত্যর্পণ কার্যকর হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি কূটনৈতিক ও আইনি উভয় চ্যানেলে চলছে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে।

আপনার মতামত লিখুন