চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের এই ম্যাচে প্রথমার্ধের খেলা ২-২ গোলে সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ইংলিশদের একের পর এক আক্রমণের তোড়ে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে বাধ্য হয় ক্রোয়াটরা। থ্রি লায়ন্সদের হয়ে অধিনায়ক হ্যারি কেইন জোড়া গোল করেন এবং একটি করে গোল পান জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড।
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে মার্তিন বাতুরিনা ও পিটার মুসা একটি করে গোল শোধ করেন। পুরো ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ সাতটি চমৎকার সেভ করে ব্যবধান বাড়তে না দিলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। নবম মিনিটে বক্সে মাদুয়েকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের প্রথম শটটি ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দিলেও, শট নেওয়ার আগেই ক্রোয়াট ডিফেন্ডার ভার্দিওল বক্সে ঢুকে পড়ায় রেফারি পুনরায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে আর ভুল করেননি কেইন; একই দিকে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায়। পিটার সুচিচের কাটব্যাক থেকে চমৎকার ও গতিময় শটে ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান মার্তিন বাতুরিনা।
তবে ক্রোয়াটদের এই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় মিনিট। ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের কীর্তি স্পর্শ করেন তিনি। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইংল্যান্ড যখন প্রথমার্ধ শেষ করার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মারিও পাসালিচের লং বল থেকে পেরেসিচের ব্যাক হেড পান পিটার মুসা। সেখান থেকে চমৎকার এক সাইড ভলিতে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচটিতে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনেন মুসা।
বিরতির পর মাঠে নেমেই ম্যাচের ৪৭ মিনিটে আবার লিড নেয় ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের বাড়ানো বল ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে আড়াআড়ি শট নেন জুড বেলিংহাম, যা দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ইংলিশরা।
ম্যাচের ৫২ ও ৫৫ মিনিটে লিভাকোভিচ যথাক্রমে ডেকলান রাইস, নিকো ও’রাইলি এবং অ্যান্থনি গর্ডনের নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা রুখে দেন। এরপর ৫৭ মিনিটে কেইনের আরও একটি নিচু ও গতিময় শট অবিশ্বাস্যভাবে আটকে দিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।
তবে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ডিফেন্ডারকে বোকা বানান মার্কাস রাশফোর্ড। এরপর তার নেওয়া চমৎকার বাঁকানো শটটি লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে জাল ছুঁলে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপদের বিপক্ষে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের এই ম্যাচে প্রথমার্ধের খেলা ২-২ গোলে সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ইংলিশদের একের পর এক আক্রমণের তোড়ে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে বাধ্য হয় ক্রোয়াটরা। থ্রি লায়ন্সদের হয়ে অধিনায়ক হ্যারি কেইন জোড়া গোল করেন এবং একটি করে গোল পান জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড।
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে মার্তিন বাতুরিনা ও পিটার মুসা একটি করে গোল শোধ করেন। পুরো ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ সাতটি চমৎকার সেভ করে ব্যবধান বাড়তে না দিলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। নবম মিনিটে বক্সে মাদুয়েকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের প্রথম শটটি ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দিলেও, শট নেওয়ার আগেই ক্রোয়াট ডিফেন্ডার ভার্দিওল বক্সে ঢুকে পড়ায় রেফারি পুনরায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে আর ভুল করেননি কেইন; একই দিকে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায়। পিটার সুচিচের কাটব্যাক থেকে চমৎকার ও গতিময় শটে ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান মার্তিন বাতুরিনা।
তবে ক্রোয়াটদের এই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় মিনিট। ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের কীর্তি স্পর্শ করেন তিনি। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইংল্যান্ড যখন প্রথমার্ধ শেষ করার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মারিও পাসালিচের লং বল থেকে পেরেসিচের ব্যাক হেড পান পিটার মুসা। সেখান থেকে চমৎকার এক সাইড ভলিতে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচটিতে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনেন মুসা।
বিরতির পর মাঠে নেমেই ম্যাচের ৪৭ মিনিটে আবার লিড নেয় ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের বাড়ানো বল ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে আড়াআড়ি শট নেন জুড বেলিংহাম, যা দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ইংলিশরা।
ম্যাচের ৫২ ও ৫৫ মিনিটে লিভাকোভিচ যথাক্রমে ডেকলান রাইস, নিকো ও’রাইলি এবং অ্যান্থনি গর্ডনের নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা রুখে দেন। এরপর ৫৭ মিনিটে কেইনের আরও একটি নিচু ও গতিময় শট অবিশ্বাস্যভাবে আটকে দিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।
তবে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ডিফেন্ডারকে বোকা বানান মার্কাস রাশফোর্ড। এরপর তার নেওয়া চমৎকার বাঁকানো শটটি লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে জাল ছুঁলে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপদের বিপক্ষে।

আপনার মতামত লিখুন