এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী দল পর্তুগাল। নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজদের নিয়ে গড়া দলটির বিশ্বকাপ অভিযান শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে, তুলনামূলক দুর্বল দল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে। এই হতাশাজনক ফলাফলের পর কোচ রবার্তো মার্টিনেজের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল।
ডেনিশ
কিংবদন্তি স্মাইকেলের অভিমত, মার্টিনেজ যেভাবে বেলজিয়ামের প্রতিভাবান প্রজন্মের
সম্ভাবনা নষ্ট করেছিলেন, পর্তুগালের ক্ষেত্রেও তিনি সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি
করছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর তিনি মার্টিনেজের কৌশল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
করেন।
হিউস্টনে এই
হতাশাজনক ফলাফলের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে, যার সামনের সারিতে ছিলেন স্মাইকেল নিজেই।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবের তারকাদের নিয়ে গড়া দল হওয়া সত্ত্বেও পর্তুগাল ডিআর
কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা একটি দলের
বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর মার্টিনেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি
খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছেন না।
ম্যাচ শেষে
স্মাইকেল বলেন, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে হতাশাজনক কোচদের একজন হলেন রবার্তো
মার্টিনেজ। তার মতে, বেলজিয়ামের প্রতিভাবান প্রজন্মকে যেভাবে তিনি কাজে লাগাতে
ব্যর্থ হয়েছিলেন, পর্তুগালের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে
তার। বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ একটি দল থেকেও মার্টিনেজ সর্বোচ্চটা আদায় করতে
পারছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্মাইকেলের
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ ছিল আক্রমণভাগের কয়েকজন তারকাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা।
দল গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করার সময় রাফায়েল লিয়াও ও জোয়াও ফেলিক্সের
মতো খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে কাজে না লাগানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে,
মার্টিনেজ এমন একটি কৌশলে আঁকড়ে আছেন যা বর্তমান খেলোয়াড়দের সক্ষমতার সঙ্গে খাপ
খায় না।
তিনি আরও
বলেন, যে পদ্ধতি স্পষ্টভাবে কার্যকর হচ্ছে না, তা ধরে রেখে জোয়াও ফেলিক্স বা
রাফায়েল লিয়াওর মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসিয়ে রাখাটা মেনে নেওয়া
যায় না। এত প্রতিভা থাকার পরও দলকে অনুমানযোগ্য ও সতর্ক খেলতে দেখাটা গ্রহণযোগ্য
নয় বলে মনে করেন তিনি।
স্মাইকেলের
মতে, মার্টিনেজের কৌশল অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক। আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব, মাঝমাঠে
সমন্বয়হীনতা এবং বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে নেওয়ার কারণে
ম্যাচের মোড় ঘোরানো কঠিন হয়ে পড়ে।
কৌশলগত দিক
নিয়ে স্মাইকেল সমালোচনা করলেও অন্য বিশ্লেষকরা ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো
ম্যাচ খেলেও রোনালদো লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেননি। এ নিয়ে সাবেক ফুটবলার টনি
ক্যাসকারিনোসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, মার্টিনেজ কঠিন সিদ্ধান্তের বদলে পছন্দের
খেলোয়াড়দের প্রতি বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন।
উজবেকিস্তানের
বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মার্টিনেজের ওপর চাপ বাড়ছে। সহজে হারানোর কথা
থাকা দলের বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্ট না পাওয়ায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান নিয়ে
শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আক্রমণে গতিশীলতা ও সৃজনশীলতা যুক্ত করতে না পারলে দলটি বড়
সমস্যায় পড়তে পারে।
সতর্কবার্তা
দিয়ে স্মাইকেল বলেন, পর্তুগাল এই টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হলেও তারা
নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলছে না। দ্রুত পরিবর্তন না এলে বিশ্বকাপ জয়ের আরেকটি
স্বর্ণসুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
মার্টিনেজের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তারকাখচিত দল, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের প্রভাব এবং কৌশলগত বাস্তবতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা, যা পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী দল পর্তুগাল। নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজদের নিয়ে গড়া দলটির বিশ্বকাপ অভিযান শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে, তুলনামূলক দুর্বল দল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে। এই হতাশাজনক ফলাফলের পর কোচ রবার্তো মার্টিনেজের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল।
ডেনিশ
কিংবদন্তি স্মাইকেলের অভিমত, মার্টিনেজ যেভাবে বেলজিয়ামের প্রতিভাবান প্রজন্মের
সম্ভাবনা নষ্ট করেছিলেন, পর্তুগালের ক্ষেত্রেও তিনি সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি
করছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর তিনি মার্টিনেজের কৌশল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
করেন।
হিউস্টনে এই
হতাশাজনক ফলাফলের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে, যার সামনের সারিতে ছিলেন স্মাইকেল নিজেই।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবের তারকাদের নিয়ে গড়া দল হওয়া সত্ত্বেও পর্তুগাল ডিআর
কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা একটি দলের
বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর মার্টিনেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি
খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছেন না।
ম্যাচ শেষে
স্মাইকেল বলেন, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে হতাশাজনক কোচদের একজন হলেন রবার্তো
মার্টিনেজ। তার মতে, বেলজিয়ামের প্রতিভাবান প্রজন্মকে যেভাবে তিনি কাজে লাগাতে
ব্যর্থ হয়েছিলেন, পর্তুগালের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে
তার। বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ একটি দল থেকেও মার্টিনেজ সর্বোচ্চটা আদায় করতে
পারছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্মাইকেলের
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ ছিল আক্রমণভাগের কয়েকজন তারকাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা।
দল গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করার সময় রাফায়েল লিয়াও ও জোয়াও ফেলিক্সের
মতো খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে কাজে না লাগানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে,
মার্টিনেজ এমন একটি কৌশলে আঁকড়ে আছেন যা বর্তমান খেলোয়াড়দের সক্ষমতার সঙ্গে খাপ
খায় না।
তিনি আরও
বলেন, যে পদ্ধতি স্পষ্টভাবে কার্যকর হচ্ছে না, তা ধরে রেখে জোয়াও ফেলিক্স বা
রাফায়েল লিয়াওর মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসিয়ে রাখাটা মেনে নেওয়া
যায় না। এত প্রতিভা থাকার পরও দলকে অনুমানযোগ্য ও সতর্ক খেলতে দেখাটা গ্রহণযোগ্য
নয় বলে মনে করেন তিনি।
স্মাইকেলের
মতে, মার্টিনেজের কৌশল অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক। আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব, মাঝমাঠে
সমন্বয়হীনতা এবং বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে নেওয়ার কারণে
ম্যাচের মোড় ঘোরানো কঠিন হয়ে পড়ে।
কৌশলগত দিক
নিয়ে স্মাইকেল সমালোচনা করলেও অন্য বিশ্লেষকরা ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো
ম্যাচ খেলেও রোনালদো লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেননি। এ নিয়ে সাবেক ফুটবলার টনি
ক্যাসকারিনোসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, মার্টিনেজ কঠিন সিদ্ধান্তের বদলে পছন্দের
খেলোয়াড়দের প্রতি বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন।
উজবেকিস্তানের
বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মার্টিনেজের ওপর চাপ বাড়ছে। সহজে হারানোর কথা
থাকা দলের বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্ট না পাওয়ায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান নিয়ে
শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আক্রমণে গতিশীলতা ও সৃজনশীলতা যুক্ত করতে না পারলে দলটি বড়
সমস্যায় পড়তে পারে।
সতর্কবার্তা
দিয়ে স্মাইকেল বলেন, পর্তুগাল এই টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হলেও তারা
নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলছে না। দ্রুত পরিবর্তন না এলে বিশ্বকাপ জয়ের আরেকটি
স্বর্ণসুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
মার্টিনেজের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তারকাখচিত দল, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের প্রভাব এবং কৌশলগত বাস্তবতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা, যা পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন