ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ৩০ মিনিটের কথা বলে টানা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে গভীর রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ অফিসের কাস্টমার কেয়ারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাজিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ করেন। কখন বিদ্যুৎ আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ যখন আসবে তখনই পাবেন, কখন পাওয়া যাবে তা বলা যাবে না।" বারবার সঠিক তথ্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত, যা মানুষের বিশ্রামের প্রধান সময়, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নিয়মিত বিল দিয়েও আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। বিদ্যুৎ বিভাগের এই উদাসীনতা দেখার কি কেউ নেই?"
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, "চাহিদার তুলনায় আমরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি না। উৎপাদন কম হওয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।"
সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট থাকায় বর্তমানে মাত্র একটি ইউনিট দিয়ে সরবরাহ সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত না হলে শুধু দুই ঘণ্টা নয়, সারারাতও লোডশেডিং হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে গভীর রাতে বিদ্যুৎহীন থাকায় একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়েও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান এবং বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কচমচারীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
/

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ৩০ মিনিটের কথা বলে টানা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে গভীর রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ অফিসের কাস্টমার কেয়ারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাজিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ করেন। কখন বিদ্যুৎ আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ যখন আসবে তখনই পাবেন, কখন পাওয়া যাবে তা বলা যাবে না।" বারবার সঠিক তথ্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত, যা মানুষের বিশ্রামের প্রধান সময়, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নিয়মিত বিল দিয়েও আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। বিদ্যুৎ বিভাগের এই উদাসীনতা দেখার কি কেউ নেই?"
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, "চাহিদার তুলনায় আমরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি না। উৎপাদন কম হওয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।"
সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট থাকায় বর্তমানে মাত্র একটি ইউনিট দিয়ে সরবরাহ সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত না হলে শুধু দুই ঘণ্টা নয়, সারারাতও লোডশেডিং হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে গভীর রাতে বিদ্যুৎহীন থাকায় একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়েও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান এবং বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কচমচারীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
/

আপনার মতামত লিখুন