শতবর্ষী মাদার গর্জন গাছের জন্য বিখ্যাত কক্সবাজারের চকরিয়ার ‘মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। একদিকে স্থানীয় বনখেকো সিন্ডিকেটের থাবায় উজাড় হচ্ছে বিশাল বনভূমি, অন্যদিকে বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাণিজ্যিক বাগান ও খামার। গত কয়েক বছরে উদ্যানটির প্রায় ৪০ শতাংশ বনভূমি এরই মধ্যে বেদখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের খুটাখালী ইউনিয়নে ৩৯৬ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চলটি অবস্থিত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। এখানকার শতবর্ষী গর্জনের বীজ থেকেই মূলত সারা দেশে বনায়ন কার্যক্রম চালায় বন বিভাগ। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বনের গহীনে কৃষি জমি ও পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ হেক্টর বনভূমি সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে গেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বন ধ্বংসের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননভূমি কমে যাচ্ছে। এতে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হানা ও সংঘাত বাড়ছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় এই উদ্যান রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।’
তবে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘স্বল্প জনবল নিয়ে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন রক্ষা করছি। জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও মামলা চলছে। একটি চক্র সুবিধা করতে না পেরে বন বিভাগকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মারুফ হোসেন জানান, উদ্যানটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এক কিলোমিটার দীর্ঘ হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উদ্যান দখল ও গর্জন বাগান উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শতবর্ষী গর্জন বাগান ও কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারলে মেধাকচ্ছপিয়া উদ্যানটি দেশের অন্যতম পর্যটন ও গবেষণা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
/

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
শতবর্ষী মাদার গর্জন গাছের জন্য বিখ্যাত কক্সবাজারের চকরিয়ার ‘মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। একদিকে স্থানীয় বনখেকো সিন্ডিকেটের থাবায় উজাড় হচ্ছে বিশাল বনভূমি, অন্যদিকে বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাণিজ্যিক বাগান ও খামার। গত কয়েক বছরে উদ্যানটির প্রায় ৪০ শতাংশ বনভূমি এরই মধ্যে বেদখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের খুটাখালী ইউনিয়নে ৩৯৬ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চলটি অবস্থিত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। এখানকার শতবর্ষী গর্জনের বীজ থেকেই মূলত সারা দেশে বনায়ন কার্যক্রম চালায় বন বিভাগ। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বনের গহীনে কৃষি জমি ও পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ হেক্টর বনভূমি সম্পূর্ণ উজাড় হয়ে গেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বন ধ্বংসের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননভূমি কমে যাচ্ছে। এতে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হানা ও সংঘাত বাড়ছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় এই উদ্যান রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।’
তবে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘স্বল্প জনবল নিয়ে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন রক্ষা করছি। জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও মামলা চলছে। একটি চক্র সুবিধা করতে না পেরে বন বিভাগকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মারুফ হোসেন জানান, উদ্যানটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এক কিলোমিটার দীর্ঘ হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উদ্যান দখল ও গর্জন বাগান উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শতবর্ষী গর্জন বাগান ও কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারলে মেধাকচ্ছপিয়া উদ্যানটি দেশের অন্যতম পর্যটন ও গবেষণা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
/

আপনার মতামত লিখুন