সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু, ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত ও যথাযথ একাডেমিক পরিবেশের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২১ জুন) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের এই অবস্থানের কারণে বর্তমানে কলেজটিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে একটি মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে তারা হাসপাতাল ভবনের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হন। এতে কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের কয়েক শ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ, রাফাত রেজা আকাশ ও সুরাইয়া আক্তার স্মৃতি। তারা বলেন, ‘একটি মেডিকেল কলেজের প্রাণ হলো তার হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আমাদের এখানে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু করা হয়নি। এর ফলে আমরা ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও হাতে-কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল শিক্ষা অন্ধের মতো। অসম্পূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আমরা সুচিকিৎসক হতে পারব না।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত বছরের ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে আন্দোলনের পর দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু ১৪ মাস পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। উল্টো একাডেমিক কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বারবার আশ্বাসের বেড়াজালে বন্দী হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী পৃথ্বীরাজ চৌধুরী, সাইদুল ইসলাম, প্রিয়াস চন্দ্র, ফারজানা আহমেদ মিম ও কেয়া গোস্বামী; চতুর্থ বর্ষের মো. শাহপরান, তামিমা রহমান ও জারিন তাসনিম অথৈ এবং তৃতীয় বর্ষের কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল ও মোহাম্মদ তানভীর হোসেনসহ আরও অনেকে।
শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, যতক্ষণ না হাসপাতাল চালুর কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে এবং একাডেমিক অব্যবস্থাপনা দূর হবে, ততক্ষণ তারা ক্লাসে ফিরবেন না। সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন