ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে এক ঐতিহাসিক সাক্ষী হলো গোটা বিশ্ব। টুর্নামেন্টের ইতিহাসের ১ হাজারতম ম্যাচটিকে নিজেদের ফুটবল রূপকথার এক সোনালী অধ্যায় বানিয়ে নিল সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। এস্তাদিও মন্টেরিতে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ৪-০ গোলের মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়েছে সামুরাইরা।
তিউনিসিয়াকে নিয়ে
ছেলেখেলা করার এই ম্যাচে বিশ্বমঞ্চে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এক ম্যাচে চার গোল করার
অবিশ্বাস্য এক নতুন ইতিহাস গড়ল এশিয়ান জায়ান্টরা।
রবিবার সকালে ম্যাচ
শুরু হতে না হতেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জাপান। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটে দাইচি
কামাদা জাল কাঁপিয়ে দলকে উল্লাসে ভাসান, যা বিশ্বকাপে জাপানের ইতিহাসের দ্রুততম গোলের
রেকর্ড। এর আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন কামাদা।
এর মাধ্যমে ২০০২
সালের জুনিচি ইনামোতোর পর জাপানের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে
গোলের কীর্তি গড়লেন তিনি। এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখের পলকে
এক দুর্দান্ত জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উএদা।
বিরতির পর ফিরে
এসেও জাপানের আক্রমণের ধার কমেনি। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে উএদার নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে
নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলের তৃতীয় গোলটি উপহার দেন ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জুনিয়া ইতো।
তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনো বাকি ছিল।
৮৩ মিনিটে এক অনবদ্য
হেডে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি পূর্ণ করেন উএদা। আর এই গোলের মাধ্যমে ফিফা
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জাপানের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোলের অনন্য এক কীর্তি
নিজের করে নেন এই ফরোয়ার্ড।
পুরো ম্যাচে প্রায়
৫৮ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে তিউনিসিয়াকে দাঁড়াতেই দেয়নি জাপান। জাপানি
ফুটবলারদের নিখুঁত পাসিং আর গতিময় ফুটবলের সামনে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ ছিল পুরোপুরি
দিশেহারা। গোলের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১০টি শটের মধ্যে ৫টিই লক্ষ্যে রাখে জাপান, যার ৪টিই
তারা গোলে পরিণত করে। বিপরীতে তিউনিসিয়া মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল।
এই ঐতিহাসিক জয়ে
'এফ' গ্রুপ থেকে জাপানের নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা এখন ভীষণ উজ্জ্বল। দুই ম্যাচ শেষে
৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তারা। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে
এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে টানা দুই
ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল তিউনিসিয়ার।
বিশ্বকাপের হাজারতম
ম্যাচের এই অবিস্মরণীয় জয় জাপানি ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। আগামী শুক্রবার
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইডেনের মুখোমুখি হবে অপ্রতিরোধ্য এই জাপান।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে এক ঐতিহাসিক সাক্ষী হলো গোটা বিশ্ব। টুর্নামেন্টের ইতিহাসের ১ হাজারতম ম্যাচটিকে নিজেদের ফুটবল রূপকথার এক সোনালী অধ্যায় বানিয়ে নিল সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। এস্তাদিও মন্টেরিতে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ৪-০ গোলের মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়েছে সামুরাইরা।
তিউনিসিয়াকে নিয়ে
ছেলেখেলা করার এই ম্যাচে বিশ্বমঞ্চে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এক ম্যাচে চার গোল করার
অবিশ্বাস্য এক নতুন ইতিহাস গড়ল এশিয়ান জায়ান্টরা।
রবিবার সকালে ম্যাচ
শুরু হতে না হতেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জাপান। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটে দাইচি
কামাদা জাল কাঁপিয়ে দলকে উল্লাসে ভাসান, যা বিশ্বকাপে জাপানের ইতিহাসের দ্রুততম গোলের
রেকর্ড। এর আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন কামাদা।
এর মাধ্যমে ২০০২
সালের জুনিচি ইনামোতোর পর জাপানের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে
গোলের কীর্তি গড়লেন তিনি। এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখের পলকে
এক দুর্দান্ত জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উএদা।
বিরতির পর ফিরে
এসেও জাপানের আক্রমণের ধার কমেনি। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে উএদার নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে
নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলের তৃতীয় গোলটি উপহার দেন ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জুনিয়া ইতো।
তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনো বাকি ছিল।
৮৩ মিনিটে এক অনবদ্য
হেডে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি পূর্ণ করেন উএদা। আর এই গোলের মাধ্যমে ফিফা
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জাপানের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোলের অনন্য এক কীর্তি
নিজের করে নেন এই ফরোয়ার্ড।
পুরো ম্যাচে প্রায়
৫৮ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে তিউনিসিয়াকে দাঁড়াতেই দেয়নি জাপান। জাপানি
ফুটবলারদের নিখুঁত পাসিং আর গতিময় ফুটবলের সামনে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ ছিল পুরোপুরি
দিশেহারা। গোলের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১০টি শটের মধ্যে ৫টিই লক্ষ্যে রাখে জাপান, যার ৪টিই
তারা গোলে পরিণত করে। বিপরীতে তিউনিসিয়া মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল।
এই ঐতিহাসিক জয়ে
'এফ' গ্রুপ থেকে জাপানের নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা এখন ভীষণ উজ্জ্বল। দুই ম্যাচ শেষে
৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তারা। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে
এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে টানা দুই
ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল তিউনিসিয়ার।
বিশ্বকাপের হাজারতম
ম্যাচের এই অবিস্মরণীয় জয় জাপানি ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। আগামী শুক্রবার
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইডেনের মুখোমুখি হবে অপ্রতিরোধ্য এই জাপান।

আপনার মতামত লিখুন