যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক বড় ধরনের নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা এবং যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন?
ডাউনিং স্ট্রিটের এই দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র এবং মেকারফিল্ড আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যান্ডি বার্নহাম।
স্টারমারের বিদায় এবং বার্নহামের ফ্রন্টলাইনে চলে আসার ঘটনা ওয়েস্টমিনস্টারে ক্ষমতার বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। অ্যান্ডি বার্নহাম যদি শেষ পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব নেন, তবে তিনি হবেন গত চার বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী।
তবে তার এই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে নানামুখী আলোচনা ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যিনি সংসদ সদস্য ছিলেন না, তিনি আগামী মাসেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বিষয়টি লেবার পার্টির অনেককেই চমকে দিয়েছে এবং দলের ভেতরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বার্নহাম এর আগেও দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নেমে পরাজিত হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের বর্তমান জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তাকে একজন ‘জয়ী নেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিপরীতে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে দেখা হচ্ছে ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে উগ্র ডানপন্থী দল 'রিফর্ম ইউকে'র শক্তিশালী উত্থানের মধ্যেও বার্নহাম নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যা তাকে লাইমলাইটে নিয়ে এসেছে।
ম্যানচেস্টারে তুমুল জনপ্রিয় হলেও জাতীয় নেতা হিসেবে বার্নহামের গ্রহণযোগ্যতা এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত নয় বলে মনে করেন অনেকে। তার সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, জাতীয় নীতিমালা এবং রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত অনেক কিছুই ধোঁয়াশা।
স্টারমারের পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বার্নহাম বলেন: "জনগণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জনসেবা, আবাসন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ দেখতে চায়।"
তবে এই বিশাল লক্ষ্যগুলো তিনি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, তা নিয়ে এখন থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে।
লেবার পার্টির একাংশ ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনস-কে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জোনসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, তার এই প্রতিযোগিতায় আসার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম।
প্রধানমন্ত্রী হলে বার্নহামের সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, সামরিক বাজেট বৃদ্ধি এবং সেই বাজেটের অর্থ কোথা থেকে আসবে এই জটিল প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হতে হবে তাকে।
আগামী কয়েক সপ্তাহ ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তখনই পরিষ্কার হবে অ্যান্ডি বার্নহাম সব চ্যালেঞ্জ টপকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারেন কি না।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক বড় ধরনের নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা এবং যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন?
ডাউনিং স্ট্রিটের এই দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র এবং মেকারফিল্ড আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যান্ডি বার্নহাম।
স্টারমারের বিদায় এবং বার্নহামের ফ্রন্টলাইনে চলে আসার ঘটনা ওয়েস্টমিনস্টারে ক্ষমতার বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। অ্যান্ডি বার্নহাম যদি শেষ পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব নেন, তবে তিনি হবেন গত চার বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী।
তবে তার এই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে নানামুখী আলোচনা ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যিনি সংসদ সদস্য ছিলেন না, তিনি আগামী মাসেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বিষয়টি লেবার পার্টির অনেককেই চমকে দিয়েছে এবং দলের ভেতরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বার্নহাম এর আগেও দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নেমে পরাজিত হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের বর্তমান জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তাকে একজন ‘জয়ী নেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিপরীতে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে দেখা হচ্ছে ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে উগ্র ডানপন্থী দল 'রিফর্ম ইউকে'র শক্তিশালী উত্থানের মধ্যেও বার্নহাম নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যা তাকে লাইমলাইটে নিয়ে এসেছে।
ম্যানচেস্টারে তুমুল জনপ্রিয় হলেও জাতীয় নেতা হিসেবে বার্নহামের গ্রহণযোগ্যতা এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত নয় বলে মনে করেন অনেকে। তার সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, জাতীয় নীতিমালা এবং রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত অনেক কিছুই ধোঁয়াশা।
স্টারমারের পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বার্নহাম বলেন: "জনগণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জনসেবা, আবাসন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ দেখতে চায়।"
তবে এই বিশাল লক্ষ্যগুলো তিনি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, তা নিয়ে এখন থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে।
লেবার পার্টির একাংশ ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনস-কে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জোনসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, তার এই প্রতিযোগিতায় আসার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম।
প্রধানমন্ত্রী হলে বার্নহামের সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, সামরিক বাজেট বৃদ্ধি এবং সেই বাজেটের অর্থ কোথা থেকে আসবে এই জটিল প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হতে হবে তাকে।
আগামী কয়েক সপ্তাহ ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তখনই পরিষ্কার হবে অ্যান্ডি বার্নহাম সব চ্যালেঞ্জ টপকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারেন কি না।

আপনার মতামত লিখুন