সংবাদ

ঝিনাইদহ ‘নামসর্বস্ব’ সংগঠনের ভাগ্যে জুটল সরকারি অনুদান


প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

ঝিনাইদহ ‘নামসর্বস্ব’ সংগঠনের ভাগ্যে জুটল সরকারি অনুদান
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহ জেলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি অনুদান বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, অনুদানপ্রাপ্ত ২৬টি সংগঠনের তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের কোনো বাস্তব কার্যক্রম নেই। এমনকি কয়েকটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ও নামসর্বস্ব হলেও তারা বড় অঙ্কের বরাদ্দ পেয়েছে। এর ফলে জেলার অনেক সক্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝিনাইদহ জেলার ২৬টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ১৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা অনুদান মঞ্জুর করা হয়েছে। গত ১৬ জুন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার অঙ্কুর নাট্য একাডেমি, ঝিনাইদহ থিয়েটার, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা, বিহঙ্গ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রসহ ১০-১২টি সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম দেখা যায়। তবে তালিকার বাকি সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক কোনো তৎপরতা বা দৃশ্যমান কর্মকাণ্ডের তথ্য নেই বলে দাবি সাংস্কৃতিক কর্মীদের। বিশেষ করে কোটচাঁদপুর ও শৈলকুপা উপজেলার কয়েকটি সংগঠনের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শৈলকুপার সংগীতশিল্পী ও শৈলবালা সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি খন্দকার ফারুক হোসেন বলেন, ‘সরকারি অনুদান প্রকৃত কার্যক্রমের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় বা বিলুপ্ত সংগঠনের নামে অনুদান বরাদ্দ হওয়া দুঃখজনক। জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

একই অভিযোগ ঝিনাইদহের ‘পথ শিল্পাঙ্গন’-এর সভাপতি আলমগীর অরণ্যের। তিনি বলেন, সারা বছর যারা নাটক, সংগীত বা সাহিত্যচর্চা করে না, তাদের অনুদান দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অনুদান দেওয়ার আগে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা ও কর্মকাণ্ড যাচাই করা জরুরি ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘এটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেই জানা সম্ভব।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি, অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট এবং মাঠপর্যায়ে তদন্ত প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ঝিনাইদহ ‘নামসর্বস্ব’ সংগঠনের ভাগ্যে জুটল সরকারি অনুদান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহ জেলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি অনুদান বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, অনুদানপ্রাপ্ত ২৬টি সংগঠনের তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের কোনো বাস্তব কার্যক্রম নেই। এমনকি কয়েকটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ও নামসর্বস্ব হলেও তারা বড় অঙ্কের বরাদ্দ পেয়েছে। এর ফলে জেলার অনেক সক্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝিনাইদহ জেলার ২৬টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ১৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা অনুদান মঞ্জুর করা হয়েছে। গত ১৬ জুন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার অঙ্কুর নাট্য একাডেমি, ঝিনাইদহ থিয়েটার, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা, বিহঙ্গ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রসহ ১০-১২টি সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম দেখা যায়। তবে তালিকার বাকি সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক কোনো তৎপরতা বা দৃশ্যমান কর্মকাণ্ডের তথ্য নেই বলে দাবি সাংস্কৃতিক কর্মীদের। বিশেষ করে কোটচাঁদপুর ও শৈলকুপা উপজেলার কয়েকটি সংগঠনের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শৈলকুপার সংগীতশিল্পী ও শৈলবালা সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি খন্দকার ফারুক হোসেন বলেন, ‘সরকারি অনুদান প্রকৃত কার্যক্রমের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় বা বিলুপ্ত সংগঠনের নামে অনুদান বরাদ্দ হওয়া দুঃখজনক। জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

একই অভিযোগ ঝিনাইদহের ‘পথ শিল্পাঙ্গন’-এর সভাপতি আলমগীর অরণ্যের। তিনি বলেন, সারা বছর যারা নাটক, সংগীত বা সাহিত্যচর্চা করে না, তাদের অনুদান দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অনুদান দেওয়ার আগে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা ও কর্মকাণ্ড যাচাই করা জরুরি ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘এটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেই জানা সম্ভব।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি, অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট এবং মাঠপর্যায়ে তদন্ত প্রয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত