বিয়ে হলেই কি মেয়ের বাপের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়? আর ছেলে? সে দিব্যি বিয়ের পরেও বাবা-মায়ের পরিবারের অংশ হয়েই থেকে যায়! এই দ্বিচারিতা, এই গভীর লিঙ্গবৈষম্যের ধারণাকেই এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ করল সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া। একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সহানুভূতিমূলক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েকেও পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করতেই হবে, কারণ পরিবার মানে শুধুই ছেলে নয়, মেয়েও সমান অধিকার নিয়ে সেই পরিবারের অংশ।
এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছিল, বিয়ের পর মেয়েরা আর বাবার পরিবারের আওতায় পড়ে না। এই রায়ের বিরুদ্ধেই লড়াই শুরু করেন এক মৃত রেশন ডিলারের মেয়ে। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি পৌঁছলে বিচারপতি পি.এস নারাসিমহা এবং বিচারপতি আলোক আরাধির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়-“বিয়ে হলেই মেয়ে আর বাবার উপর নির্ভরশীল থাকবে না, এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।” আদালত আরও বলে, বহু ক্ষেত্রেই বিবাহিত মেয়েরাও বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে বা তাঁদের সঙ্গেই বসবাস করে।
শুধু তাই নয়, আদালত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে—ছেলেরা বিয়ের পরেও পরিবারের সদস্য হিসেবে থেকে যায়, অথচ মেয়েদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ধারণা সমাজে চালু রয়েছে। এই মানসিকতাই লিঙ্গবৈষম্যকে আরও জোরদার করে। আর সেই কারণেই এই ধারণাকে ভাঙা জরুরি বলে মনে করছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই রায় তাই শুধু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এটি বহু পুরনো একটি বৈষম্যমূলক চিন্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
এখানেই শেষ নয়-গৃহিণীদের ক্ষেত্রেও অতীতে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালত জানিয়েছে, সংসার সামলানো, সন্তান পালন, পরিবারের প্রতিটি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া—এই সমস্ত কাজের একটি বাস্তব অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে। যদিও আদালত কোথাও নির্দিষ্ট করে বেতন নির্ধারণ করেনি, তবুও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক সময় একজন গৃহিণীর আনুমানিক মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি ধরে হিসাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—গৃহিণীদের কাজকে ‘অদৃশ্য’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, তাদের পরিশ্রমেরও সমান মূল্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। একদিকে বিবাহিত মেয়েদের পরিবারের অধিকার স্বীকার করা, অন্যদিকে গৃহিণীদের কাজের অর্থনৈতিক মূল্য তুলে ধরা—এই দুই দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজে নারীদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক মনোভাবকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
উচ্চ সদালতের পরিষ্কার বার্তা—মেয়ের বিয়ে মানেই সম্পর্কের শেষ নয়।
আর সংসার চালানো মানেই ‘কাজ নয়’—এই ধারণাও আর টিকবে না। কূটনীতি, রাজনীতি বা সমাজ—যেখানেই হোক, সমতার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট এবার স্পষ্ট করে দিল—অধিকার লিঙ্গ দেখে নয়, ন্যায়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
বিয়ে হলেই কি মেয়ের বাপের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়? আর ছেলে? সে দিব্যি বিয়ের পরেও বাবা-মায়ের পরিবারের অংশ হয়েই থেকে যায়! এই দ্বিচারিতা, এই গভীর লিঙ্গবৈষম্যের ধারণাকেই এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ করল সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া। একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সহানুভূতিমূলক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েকেও পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করতেই হবে, কারণ পরিবার মানে শুধুই ছেলে নয়, মেয়েও সমান অধিকার নিয়ে সেই পরিবারের অংশ।
এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছিল, বিয়ের পর মেয়েরা আর বাবার পরিবারের আওতায় পড়ে না। এই রায়ের বিরুদ্ধেই লড়াই শুরু করেন এক মৃত রেশন ডিলারের মেয়ে। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি পৌঁছলে বিচারপতি পি.এস নারাসিমহা এবং বিচারপতি আলোক আরাধির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়-“বিয়ে হলেই মেয়ে আর বাবার উপর নির্ভরশীল থাকবে না, এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।” আদালত আরও বলে, বহু ক্ষেত্রেই বিবাহিত মেয়েরাও বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে বা তাঁদের সঙ্গেই বসবাস করে।
শুধু তাই নয়, আদালত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে—ছেলেরা বিয়ের পরেও পরিবারের সদস্য হিসেবে থেকে যায়, অথচ মেয়েদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ধারণা সমাজে চালু রয়েছে। এই মানসিকতাই লিঙ্গবৈষম্যকে আরও জোরদার করে। আর সেই কারণেই এই ধারণাকে ভাঙা জরুরি বলে মনে করছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই রায় তাই শুধু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এটি বহু পুরনো একটি বৈষম্যমূলক চিন্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
এখানেই শেষ নয়-গৃহিণীদের ক্ষেত্রেও অতীতে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালত জানিয়েছে, সংসার সামলানো, সন্তান পালন, পরিবারের প্রতিটি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া—এই সমস্ত কাজের একটি বাস্তব অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে। যদিও আদালত কোথাও নির্দিষ্ট করে বেতন নির্ধারণ করেনি, তবুও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক সময় একজন গৃহিণীর আনুমানিক মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি ধরে হিসাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—গৃহিণীদের কাজকে ‘অদৃশ্য’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, তাদের পরিশ্রমেরও সমান মূল্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। একদিকে বিবাহিত মেয়েদের পরিবারের অধিকার স্বীকার করা, অন্যদিকে গৃহিণীদের কাজের অর্থনৈতিক মূল্য তুলে ধরা—এই দুই দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজে নারীদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক মনোভাবকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
উচ্চ সদালতের পরিষ্কার বার্তা—মেয়ের বিয়ে মানেই সম্পর্কের শেষ নয়।
আর সংসার চালানো মানেই ‘কাজ নয়’—এই ধারণাও আর টিকবে না। কূটনীতি, রাজনীতি বা সমাজ—যেখানেই হোক, সমতার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট এবার স্পষ্ট করে দিল—অধিকার লিঙ্গ দেখে নয়, ন্যায়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন