সংবাদ

৯১ তম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : আমাদের এসময়ের ‘বাতিঘর’


সাঈদ বারী
সাঈদ বারী
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : আমাদের এসময়ের ‘বাতিঘর’
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বাংলাদেশের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাঁরা কেবল তাঁদের নিজস্ব কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, বরং সময়ের প্রবাহকে বুঝতে এবং বোঝাতে একটি আলোকবর্তিকার মতো ভূমিকা পালন করেন| তাঁদের উপস্থিতি সমাজকে চিন্তার নতুন দিক নির্দেশ করে, স্থবিরতার বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলে| এই বিরল ক’জনের অন্যতম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী| তিনি আমাদের এসময়ের এমন এক ‘বাতিঘর’, যাঁর চিন্তা, মনন ও বিশ্লেষণ ক্রমাগত আমাদের জিজ্ঞাসু করে তোলে|

একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর যাত্রা ছিল দীর্ঘ এবং গভীরভাবে প্রভাববিস্তারী| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতে গিয়ে তিনি কেবল পাঠ্যবইয়ের সীমার ভেতরে আবদ্ধ থাকেননি; তাঁর ক্লাসরুম ছিল মুক্ত চিন্তার এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র, যেখানে ছাত্ররা শুধু তথ্য শিখত না, বরং শিখত কীভাবে চিন্তা করতে হয়| সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি এবং সমাজবাস্তবতার মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে, তা তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরতেন| ফলে তাঁর শিক্ষার্থীরা কেবল ভালো ছাত্র নয়, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে পেরেছে|

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখালেখির প্রধান ˆবশিষ্ট্য হলো তাঁর গভীর বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা| তিনি সাহিত্যের ভেতরে কেবল নান্দনিকতার অনুসন্ধান করেন না, বরং এর ভেতর দিয়ে সমাজের অন্তর্গত সংকট ও সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করেন| তাঁর প্রবন্ধগুলোতে বারবার ফিরে আসে শ্রেণিবৈষম্য, শোষণ, সাংস্কৃতিক বিপর্যয় এবং মানুষের মুক্তির প্রশ্ন| তাঁর চিন্তার ভিত্তিতে মার্কসবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, তিনি কোনো মতাদর্শকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেন না| বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাসের আলোকে তিনি নিজের বোধকে ক্রমাগত পরিশীলিত করেছেন|

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের একটি বড় সংকট হলো আপস এবং নীরবতা| অনেকেই সত্য উচ্চারণে দ্বিধাগ্রস্ত হন, কিংবা সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন| এই প্রেক্ষাপটে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অবস্থান একেবারেই ভিন্ন| তিনি কখনোই সহজ বা জনপ্রিয় অবস্থান বেছে নেন না; বরং তিনি সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকেন, তা যতই অপ্রিয় হোক না কেন| তাঁর লেখায় এবং বক্তৃতায় যে নির্ভীকতা দেখা যায়, তা আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষার উৎস| তিনি দেখিয়ে দেন, একজন বুদ্ধিজীবীর কাজ শুধু ব্যাখ্যা করা নয়, বরং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করাও|

তরুণ প্রজন্মের জন্য তাঁর গুরুত্ব বিশেষভাবে অন স্বীকার্য| তিনি সবসময়ই তরুণদের মধ্যে মুক্তবুদ্ধি এবং সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ দেখতে চান| তাঁর মতে, শিক্ষা কেবল চাকরির প্রস্তুতির জন্য নয়; বরং এটি মানুষের ভেতরে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরি করে| এই দৃষ্টিভঙ্গি আজকের সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যখন শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রায়ই কেবল অর্থনৈতিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়| তিনি তরুণদের আহ্বান জানান, তারা যেন কেবল তথ্যের ভাণ্ডার না হয়ে ওঠে, বরং হয়ে ওঠে প্রশ্নমুখর এবং সচেতন|

সাংস্কৃতিক পরিসরেও তাঁর অবদান গভীর| তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন যে সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ| ভোগবাদ এবং বাজারকেন্দ্রিক প্রবণতা যখন সংস্কৃতিকে পণ্যতে পরিণত করছে, তখন তিনি সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন| তাঁর মতে, একটি সমাজ যদি তার সংস্কৃতির গভীরতা হারিয়ে ফেলে, তবে তার বৌদ্ধিক শক্তিও ক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়|

রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিক চেতনার সম্পর্ক নিয়েও তাঁর ভাবনা সুস্পষ্ট এবং প্রখর| তিনি বিশ্বাস করেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য| নিছক দর্শক হয়ে থেকে কোনো সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না| তাঁর এই চিন্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বই একটি সুস্থ রাষ্ট্রের ভিত্তি|

সমকালীন বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে তিনি যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেন, সেগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| তিনি দেখান, বিশ্বায়ন একদিকে যেমন সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে এটি বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক সংকটও বাড়িয়ে দিতে পারে| এই ˆদ্বত বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি আমাদের সতর্ক করেন, যেন আমরা নিজেদের স্বকীয়তা এবং মানবিক মূল্যবোধকে হারিয়ে না ফেলি|

এই দীর্ঘ বৌদ্ধিক যাত্রায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কেবল একজন লেখক বা শিক্ষক হিসেবেই নয়, বরং এক ধারাবাহিক চিন্তার আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন| তাঁর প্রতিটি লেখা, প্রতিটি বক্তব্য আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়| তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া যাবে না, অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যাবে না, এবং চিন্তার স্বাধীনতাকে কখনোই বিসর্জন দেওয়া যাবে না|

এই কারণেই তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি প্রতীক| তিনি সেই আলো, যা অন্ধকারের ভেতর থেকেও পথ দেখায়| আমাদের সময়ের জটিলতা, বিভ্রান্তি এবং সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি যে বোধের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন, সেটিই তাঁকে আমাদের এসময়ের সত্যিকারের বাতিঘর করে তুলেছে| তাঁর উপস্থিতি আমাদের আশ্বস্ত করে যে, এখনও চিন্তার আলো নিভে যায়নি; এখনও এমন মানুষ আছেন, যাঁরা আমাদের পথ দেখাতে পারেন|

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : আমাদের এসময়ের ‘বাতিঘর’

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাঁরা কেবল তাঁদের নিজস্ব কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, বরং সময়ের প্রবাহকে বুঝতে এবং বোঝাতে একটি আলোকবর্তিকার মতো ভূমিকা পালন করেন| তাঁদের উপস্থিতি সমাজকে চিন্তার নতুন দিক নির্দেশ করে, স্থবিরতার বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলে| এই বিরল ক’জনের অন্যতম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী| তিনি আমাদের এসময়ের এমন এক ‘বাতিঘর’, যাঁর চিন্তা, মনন ও বিশ্লেষণ ক্রমাগত আমাদের জিজ্ঞাসু করে তোলে|

একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর যাত্রা ছিল দীর্ঘ এবং গভীরভাবে প্রভাববিস্তারী| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতে গিয়ে তিনি কেবল পাঠ্যবইয়ের সীমার ভেতরে আবদ্ধ থাকেননি; তাঁর ক্লাসরুম ছিল মুক্ত চিন্তার এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র, যেখানে ছাত্ররা শুধু তথ্য শিখত না, বরং শিখত কীভাবে চিন্তা করতে হয়| সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি এবং সমাজবাস্তবতার মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে, তা তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরতেন| ফলে তাঁর শিক্ষার্থীরা কেবল ভালো ছাত্র নয়, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে পেরেছে|

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখালেখির প্রধান ˆবশিষ্ট্য হলো তাঁর গভীর বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা| তিনি সাহিত্যের ভেতরে কেবল নান্দনিকতার অনুসন্ধান করেন না, বরং এর ভেতর দিয়ে সমাজের অন্তর্গত সংকট ও সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করেন| তাঁর প্রবন্ধগুলোতে বারবার ফিরে আসে শ্রেণিবৈষম্য, শোষণ, সাংস্কৃতিক বিপর্যয় এবং মানুষের মুক্তির প্রশ্ন| তাঁর চিন্তার ভিত্তিতে মার্কসবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, তিনি কোনো মতাদর্শকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেন না| বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাসের আলোকে তিনি নিজের বোধকে ক্রমাগত পরিশীলিত করেছেন|

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের একটি বড় সংকট হলো আপস এবং নীরবতা| অনেকেই সত্য উচ্চারণে দ্বিধাগ্রস্ত হন, কিংবা সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন| এই প্রেক্ষাপটে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অবস্থান একেবারেই ভিন্ন| তিনি কখনোই সহজ বা জনপ্রিয় অবস্থান বেছে নেন না; বরং তিনি সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকেন, তা যতই অপ্রিয় হোক না কেন| তাঁর লেখায় এবং বক্তৃতায় যে নির্ভীকতা দেখা যায়, তা আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষার উৎস| তিনি দেখিয়ে দেন, একজন বুদ্ধিজীবীর কাজ শুধু ব্যাখ্যা করা নয়, বরং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করাও|

তরুণ প্রজন্মের জন্য তাঁর গুরুত্ব বিশেষভাবে অন স্বীকার্য| তিনি সবসময়ই তরুণদের মধ্যে মুক্তবুদ্ধি এবং সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ দেখতে চান| তাঁর মতে, শিক্ষা কেবল চাকরির প্রস্তুতির জন্য নয়; বরং এটি মানুষের ভেতরে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরি করে| এই দৃষ্টিভঙ্গি আজকের সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যখন শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রায়ই কেবল অর্থনৈতিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়| তিনি তরুণদের আহ্বান জানান, তারা যেন কেবল তথ্যের ভাণ্ডার না হয়ে ওঠে, বরং হয়ে ওঠে প্রশ্নমুখর এবং সচেতন|

সাংস্কৃতিক পরিসরেও তাঁর অবদান গভীর| তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন যে সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ| ভোগবাদ এবং বাজারকেন্দ্রিক প্রবণতা যখন সংস্কৃতিকে পণ্যতে পরিণত করছে, তখন তিনি সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন| তাঁর মতে, একটি সমাজ যদি তার সংস্কৃতির গভীরতা হারিয়ে ফেলে, তবে তার বৌদ্ধিক শক্তিও ক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়|

রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিক চেতনার সম্পর্ক নিয়েও তাঁর ভাবনা সুস্পষ্ট এবং প্রখর| তিনি বিশ্বাস করেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য| নিছক দর্শক হয়ে থেকে কোনো সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না| তাঁর এই চিন্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বই একটি সুস্থ রাষ্ট্রের ভিত্তি|

সমকালীন বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে তিনি যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেন, সেগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| তিনি দেখান, বিশ্বায়ন একদিকে যেমন সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে এটি বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক সংকটও বাড়িয়ে দিতে পারে| এই ˆদ্বত বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি আমাদের সতর্ক করেন, যেন আমরা নিজেদের স্বকীয়তা এবং মানবিক মূল্যবোধকে হারিয়ে না ফেলি|

এই দীর্ঘ বৌদ্ধিক যাত্রায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কেবল একজন লেখক বা শিক্ষক হিসেবেই নয়, বরং এক ধারাবাহিক চিন্তার আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন| তাঁর প্রতিটি লেখা, প্রতিটি বক্তব্য আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়| তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া যাবে না, অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যাবে না, এবং চিন্তার স্বাধীনতাকে কখনোই বিসর্জন দেওয়া যাবে না|

এই কারণেই তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি প্রতীক| তিনি সেই আলো, যা অন্ধকারের ভেতর থেকেও পথ দেখায়| আমাদের সময়ের জটিলতা, বিভ্রান্তি এবং সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি যে বোধের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন, সেটিই তাঁকে আমাদের এসময়ের সত্যিকারের বাতিঘর করে তুলেছে| তাঁর উপস্থিতি আমাদের আশ্বস্ত করে যে, এখনও চিন্তার আলো নিভে যায়নি; এখনও এমন মানুষ আছেন, যাঁরা আমাদের পথ দেখাতে পারেন|


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত