সংবাদ

গ্রন্থপাঠ

বায়তুল্লাহ কাদেরীর ‘কাব্যসমগ্র’: কালিক পরিক্রমা ও নন্দনচিন্তা


সুহৃদ সাদিক
সুহৃদ সাদিক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম

বায়তুল্লাহ কাদেরীর ‘কাব্যসমগ্র’:   কালিক পরিক্রমা ও নন্দনচিন্তা

বায়তুল্লাহ কাদেরীর কবিতার প্রধান শক্তি তাঁর অর্জিত ও ক্রমবিকাশমান সচেতনতা| এই সচেতনতা কোনো বাহ্যিক আরোপ নয়, বরং জীবনানুভবের গভীরতল থেকে উৎসারিত এক সংবেদী বোধ| দুঃখ-ক্রোধ-তিক্ততা কিংবা মাধুর্যের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়ে তাঁর কাব্যসত্তা উপলব্ধির যে স্তরে পৌঁছেছে, কবিতাগুলো তারই শিল্পিত প্রকাশ| প্রতিটি নতুন সৃষ্টিকে পূর্বের চেয়ে অধিক গভীর ও মানবিক করে তোলার নিরন্তর বিকাশমান চেতনায় একজন সত্যিকারের কবির পরিচয় নিহিত৷ কবিত্বের মূল্যায়নে মৌলিক রূপকল্প ও ভাবসৃষ্টির গুরুত্ব অনস্বীকার্য| সেই মৌলিকতার উৎস একদিকে কল্পনার প্রাচুর্য, অন্যদিকে অভিজ্ঞতার স্বাতন্ত্র্য এবং জীবন সম্পর্কে স্বকীয় প্রত্যয়| বিচ্ছিন্ন ও বিসদৃশ বাস্তবতার অন্তর্নিহিত সম্পর্ক আবিষ্কার করে তাকে শিল্পরূপ দেওয়া নিঃসন্দেহে একজন কবির বড় কৃতিত্বের জায়গা| কিন্তু তারও গভীরে কাজ করে জীবন ও জগৎকে দেখার এক অনন্য দৃষ্টি| কাদেরীর কবিতা সেই দৃষ্টিরই উজ্জ্বল সাক্ষ্য| তাঁর কাব্যে বহুরৈখিক অনুভব ও চিন্তার প্রবাহ এক অনিবার্য স্পন্দনে বিকশিত হয়েছে; আত্মসাক্ষাৎকার ও আত্মদর্শন সেখানে অস্তিত্বের গভীর অনুসন্ধান|

নয়ের দশকেই বাংলা একাডেমি পরিচালিত তরুণ লেখক প্রকল্পের একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি হিসেবে কাদেরীর আত্মপ্রকাশ ঘটে| বাংলাদেশের প্রধান কবিদের কাব্য-ঐতিহ্যের উত্তরসূরি হয়ে তিনি স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্পবোধে সমৃদ্ধ এক কাব্যাভিযাত্রার সূচনা করেন| অবশ্য কাব্যচর্চার শুরু থেকেই তিনি অগ্রজদের অনুবর্তী না হয়ে ভিন্নপথে হাঁটতে চেয়েছেন| এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন: ‘আমার বাবা যে জমিটি কিনেছেন, অট্টালিকা বানাতে চেয়েও পারেননি, আমি সেখানে প্রাসাদ বানাতে চাই— এই হলো অগ্রজ এবং অনুজের সম্পর্ক|’ ২০১০ সালের বইমেলায় প্রকাশিত তাঁর ‘কাব্যসমগ্রে’র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘শীতাভ সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য’ (১৯৯৬), ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’ (২০০২), ‘কিম্ভূত হবার কথা ছিল’ (২০০৫), ‘প্রজন্ম লোহিত’ (২০০৭), ‘আড়¤^র’ (২০০৮) এবং ‘বিতিকিচ্ছিরি লাইফ যাচ্ছে’ (২০০৮)| ১৯৯২ সালে কলকাতার খ্যাতিমান ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর আলোচিত কবিতা ‘অনার্য মাদুলি’| সেই প্রকাশনার মাত্র চার বছর পরই তিনি গ্রন্থকার কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং বাংলা কবিতায় নিজের ¯^তন্ত্র অবস্থান নির্মাণে এগিয়ে যান|

‘শীতাভ সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা’ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ| এটি তিনটি পর্বে বিন্যস্ত— ‘শীতাভ সনেটগুচ্ছ’, ‘বর্ষাতী সনেটগুচ্ছ’ এবং ‘মানুষ পাখির মতো অতি ক্ষুদ্র হবে যে তখন’| এই কাব্যগ্রন্থে কবি বাঙালি জীবনের বহুমাত্রিক চিত্র উপস্থাপন করেছেন| তিনি দেখিয়েছেন: মানুষের অন্তরালে লোকায়ত জীবন প্রবাহমান; আর বহিরঙ্গে ধ্রুপদী, চিরায়ত জীবনব্যবস্থা বিরাজমান, যার যাত্রা অনন্ত| কবির দৃষ্টিতে শীত শুধু ঋতুই নয়, বাস্তব, কর্ম, শ্রেণি ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এক প্রগাঢ় সখা| বর্ষার কবিতাগুলোতে দেখা যায়: ˆকফিয়তপূর্ণ ক্রীড়াচাঞ্চল্য ও যৌনশৈলীর খেলায় কবি মগ্ন| আধুনিক সভ্যতা, প্রযুক্তি ও আর্থসামাজিক কাঠামোর সঙ্গে প্রতিটি কবির অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের মতো কাদেরীর কাব্যেও এক প্রতিরোধী মনোভাব প্রকাশ পায়| তিনি মানুষের ক্ষুদ্রতা, অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ অšে^ষণ করতে চেয়ে সচেতনভাবে ছন্দিত, মন্ত্রিত এবং গভীর অর্থবোধক ‘কবিতাবাক্য’ রচনা করেছেন|

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’-এ কবি জীবনের বহুমাত্রিক ও বহুকৌণিক প্রতিচ্ছবিকে গভীর শিল্পসৌকর্যে তুলে ধরেছেন| উপনিষদীয় ব্রহ্মতত্ত্বের আলোকে তিনি সমকালীন বিশ্বের জটিলতা ও অস্তিত্ববোধকে অনুধাবনের প্রয়াস নিয়েছেন| এ প্রসঙ্গে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা: ‘ভাবলাম, এবারে আদিতে যাব, এবারে অনাদি, এবারে সৃষ্টি-স্রষ্টা-জ্ঞান-বোধি-পরা-অপরার জগতে| অতএব গন্তব্য উপনিষদ|...ব্রহ্মকে জানতে চাই, স্থূল আধ্যাত্মিকতায় নয়, টেকনোলজির সঙ্গে মিলিয়ে| হকিংয়ের সৃষ্টিতত্ত্ব, ব্ল্যাকহোলের অনন্ত গহ্বরে চালান করে দিয়ে ‘মানবজ্ঞান’ (ব্রহ্ম) প্রতীকের মধ্যে এলো, চাইলাম ব্রহ্মকে প্রতীক করে তুলতে জটিল বিশ্ব ঘটনাবর্তের উপলব্ধিরূপে|’ ব্রহ্মজ্ঞান অনুসন্ধানের এই যাত্রা আধুনিক চেতনার সঙ্গে মিশে লোকজীবনের কোমল নৃত্যভঙ্গি ও প্রতীক-ব্যঞ্জনায় এক অনন্য রূপ লাভ করেছে| নৃত্যের দৃশ্যমান বিভঙ্গকে ছাড়িয়ে ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’ কবিতাটি ‘অস্তিত্বের গভীর অধিবাস্তব নিরঞ্জন শূন্যলোকে’ উত্তরণের অভিজ্ঞতা নির্মাণ করে:

“নাড়িয়ে রসের মন সন্ধ্যা নামে অতি অবহেলায়

কমলাসুন্দরী বড়ো থেকে যায় বুদ্ধির গুহায়

রসগ্রাহী মন রোজ সূক্ষ্ম জৈব আত্মিক সুধায়

নৃত্য করে করে শেষে কমলায় অদ্বৈত জাগায়|”

কেবল শব্দের পর শব্দ সাজানো নয়, প্রতিটি কবিতা এখানে হাজারো ঘুঙুরের অনুরণনে সজীব হয়ে ওঠা এক নান্দনিক মুদ্রা| প্রাচীন থেকে আধুনিক কাব্যধারায় অনুচ্চারিত ও উপেক্ষিত অনুভবগুলোকে কবি সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতায় ধারণ করেছেন| শব্দশিল্পের নিপুণ কারিগরি, ভাবের গভীরতা এবং প্রতীকের অভিনব ব্যবহারে ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’ একটি স্বতন্ত্র ও স্মরণীয় কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে|

কবির তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কিম্ভূত হবার কথা ছিল’ ভারতীয় পুরাণপ্রসূত ভাবনার এক আধুনিক কাব্যিক পুনর্নির্মাণ| পৌরাণিক কালে মানবাত্মার কিম্ভূত রূপ ছিল এক মর্যাদাময় অস্তিত্বের প্রতীক; কিন্তু আধুনিক সভ্যতার আত্মবিধ্বংসী অভিযাত্রায় সেই আত্মাই আজ ক্ষতবিক্ষত, বিকৃত ও বিচ্ছিন্ন| এই কাব্যে কবি মানবসত্তার সেই বিপর্যস্ত রূপকে গভীর সংবেদন ও দার্শনিক অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে অন্বেষণ করেছেন| সৃষ্টির গতি, স্রষ্টার অনিবার্য নির্দেশনা, প্রকৃতির রহস্য, সময়ের প্রভাব, অস্তিত্বের নিঃসঙ্গতা এবং আত্মার আত্মপরিচয় সন্ধান—এসব বিষয় কাব্যটিকে দিয়েছে বিশেষ মাত্রা| এখানে ‘আমি’ ও জীবনকে দেখা হয়েছে উদ্ভটতার শিকার এক সত্তা হিসেবে| কাব্যটির রীতি নিয়ে গবেষক বেগম আকতার কামালের অভিমত:

“কাদেরীর কবিতায়, অন্তত এই কাব্যটিতে পরাচেতনাস্পর্শী জগচ্চিত্র দুর্লক্ষ্য, তাঁর বিশ্বজগৎ-জীবন-পরিপার্শ্ব-ইতিহাস-সভ্যতা-প্রযুক্তি-সময়— সবই প্রখর মনন ˆচতন্যে বিধৃত হয়ে নান্দনিক হয় শব্দছন্দের দ্বন্দ্বে-সিনথিসিসে| তবু উল্লিখিত কাব্যটিতে দেখি উদ্ভট দৃশ্যায়ন, জ্যামিতিভাঙা কৌণিকতার নানারকম রূপভঙ্গি— যেনবা কিউবিস্ট রীতির আনাগোনা|”

কাব্যটি যুগপৎ কবির বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার স্বাতন্ত্র্যেরও উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে|

‘প্রজন্ম লোহিত’ কাব্যের ৪৪টি কবিতায় কবির গভীর জীবনবোধ ও তীব্র অনুভূতির শিল্পিত প্রকাশ ঘটেছে| মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন, সংকট ও রক্তাক্ত বাস্তবতা এখানে এক অনন্য কাব্যভাষায় রূপ পেয়েছে| কবির দৃষ্টিতে, সবুজ-রক্তিম সম্ভাবনার দেশ একসময় নিজেই লোহিত বর্ণ ধারণ করেছে—হতাশা, ক্লান্তি, ক্ষোভ, দহন ও প্রতিকূলতার ভারে| ইতিহাস, ভূগোল ও মানবিক নিয়তির অদ্ভুত সাযুজ্যকে ধারণ করে কবি নির্মাণ করেছেন এক প্রতীকী ‘লাল যাত্রা’র বয়ান| তাঁর কাছে একুশ শতকের প্রজন্ম লোহিতবর্ণের— সংগ্রামী, ক্ষতবিক্ষত, তবু ঊর্ধ্বমুখী ও অগ্রযাত্রাপ্রত্যয়ী এক মানবসমষ্টি|

যুগের সংকট ও চৈতন্যের ওঠাপড়াকে কবি গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন ‘আড়ম্বর’ কাব্যগ্রন্থে| এখানে তিনি বহমান জীবনসংসারের অন্তর্নিহিত সত্যকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন| কাব্যটিতে সৃষ্টির আড়ম্বর, প্রাচীন প্রকৃতি, জীবন ও লোকাচারের ছাপ ফুটে উঠেছে| শতবর্ষী প্রকৃতি, রাজার বিস্তৃত সাম্রাজ্য—সবই কালের প্রবাহে ক্ষয়প্রাপ্ত, নিঃশব্দে বিলীন; তবু তাদের আড়ম্বরের ছায়া আজও বর্তমান| মানুষের আগমন ও অবসান, রাজার উত্থান ও পতন— সবই সাময়িক; কিন্তু বীতংস সংসারে বহু অনুভূতির মৃত্যুস্তূপে বেঁচে থাকার আড়ম্বর অমর-অজর| কবি এই কাব্যে সময়, ইতিহাস ও অস্তিত্বের আন্তঃসংযোগকে শৈল্পিক ভঙ্গিতে চিত্রিত করেছেন|

দার্শনিক অনুসন্ধান, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং লোকায়ত ও ধ্রুপদী জীবনের সমন্বয়ে অখণ্ড জীবনবোধ নির্মাণ কাদেরীর কাব্যচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য| তবে তিনি কেবল অতীতচারী আত্মমগ্ন কবি নন; ‘বিতিকিচ্ছিরি লাইফ যাচ্ছে’ তাঁর সমকালসচেতন কাব্যভাষ্যের উজ্জ্বল উদাহরণ| এ গ্রন্থে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের ˆদনন্দিন সংগ্রাম গভীর সংবেদনশীলতায় উপস্থাপিত হয়েছে| স্বাধীন দেশের রাজনীতির ক্রমাবনতি কীভাবে জাতির স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার বেদনাময় প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে আছে কবিতাগুলোর পরতে পরতে| পাশাপাশি ˆবশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাবও এখানে অনুপুঙ্খভাবে ধরা পড়েছে| তবু এই অন্ধকারের ভেতরও কবি আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্বস্তিময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় উন্মুখ জনতার স্বপ্নকে তিনি এ কাব্যে ফুটিয়ে তুলেছেন|

কাদেরী বিশ শতকের নয়ের দশকের বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ কবি কি না তা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে| থাকাই স্বাভাবিক| কারণ শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা শেষ পর্যন্ত পাঠকের রুচি ও গ্রহণবোধের সঙ্গেই গভীরভাবে সম্পর্কিত| কিন্তু তিনি যে সমসাময়িকদের ভিড়ে এক অনন্য ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর— এ বিষয়ে দ্বিমতের অবকাশ খুব কম| তাঁর কাব্যজগৎ বিস্তৃত হয়েছে মহাজাগতিক অভিযাত্রার আকাঙ্ক্ষা থেকে লোকপুরাণ ও ধ্রুপদী পুরাণের নবনির্মাণে| ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সমকালীন বাস্তবতাকে যুক্ত করে তিনি নির্মাণ করেছেন এক ¯^তন্ত্র কাব্যভুবন| স্বকীয় দর্শনচিন্তার সঙ্গে লোকদর্শন ও আধ্যাত্মিক অনুভবের যে সৃজনশীল সমš^য় তাঁর কবিতায় লক্ষ করা যায় তা বাংলা কবিতায় অভিনব সংযোজন হিসেবেই বিবেচিত| ভাবনার ক্ষেত্রে যেমন তিনি স্বাতন্ত্র্যের দীপ্ত স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি ভাষা ও প্রকরণেও ছিলেন অসামান্য সচেতন| দৃশ্য নির্মাণ, শব্দ নির্বাচন, চিত্রকল্প সৃজন এবং বাক্যের অন্তর্গত শব্দবিন্যাসে তিনি এমন এক স্বকীয় কৌশল গড়ে তুলেছেন যা সহজেই তাঁর কবিতাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে| কাব্যসমগ্র পাঠে জ্ঞাত হওয়া যায়, তাঁর ভাষা সংবেদী ও ভারবহনক্ষম| এই প্রাকরণিক বৈশিষ্ট্য ও প্রকাশভঙ্গির অভিনবত্ব তাঁর সহজাত কবিপ্রতিভার স্বাভাবিক প্রকাশ|

কাব্যসমগ্র| বায়তুল্লাহ কাদেরী| লেখাপ্রকাশ| প্রচ্ছদ: তারিক ফেরদৌস খান| প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৭| পৃষ্ঠা: ৩০৪| মূল্য: ৬০০| 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


বায়তুল্লাহ কাদেরীর ‘কাব্যসমগ্র’: কালিক পরিক্রমা ও নন্দনচিন্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

বায়তুল্লাহ কাদেরীর কবিতার প্রধান শক্তি তাঁর অর্জিত ও ক্রমবিকাশমান সচেতনতা| এই সচেতনতা কোনো বাহ্যিক আরোপ নয়, বরং জীবনানুভবের গভীরতল থেকে উৎসারিত এক সংবেদী বোধ| দুঃখ-ক্রোধ-তিক্ততা কিংবা মাধুর্যের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়ে তাঁর কাব্যসত্তা উপলব্ধির যে স্তরে পৌঁছেছে, কবিতাগুলো তারই শিল্পিত প্রকাশ| প্রতিটি নতুন সৃষ্টিকে পূর্বের চেয়ে অধিক গভীর ও মানবিক করে তোলার নিরন্তর বিকাশমান চেতনায় একজন সত্যিকারের কবির পরিচয় নিহিত৷ কবিত্বের মূল্যায়নে মৌলিক রূপকল্প ও ভাবসৃষ্টির গুরুত্ব অনস্বীকার্য| সেই মৌলিকতার উৎস একদিকে কল্পনার প্রাচুর্য, অন্যদিকে অভিজ্ঞতার স্বাতন্ত্র্য এবং জীবন সম্পর্কে স্বকীয় প্রত্যয়| বিচ্ছিন্ন ও বিসদৃশ বাস্তবতার অন্তর্নিহিত সম্পর্ক আবিষ্কার করে তাকে শিল্পরূপ দেওয়া নিঃসন্দেহে একজন কবির বড় কৃতিত্বের জায়গা| কিন্তু তারও গভীরে কাজ করে জীবন ও জগৎকে দেখার এক অনন্য দৃষ্টি| কাদেরীর কবিতা সেই দৃষ্টিরই উজ্জ্বল সাক্ষ্য| তাঁর কাব্যে বহুরৈখিক অনুভব ও চিন্তার প্রবাহ এক অনিবার্য স্পন্দনে বিকশিত হয়েছে; আত্মসাক্ষাৎকার ও আত্মদর্শন সেখানে অস্তিত্বের গভীর অনুসন্ধান|

নয়ের দশকেই বাংলা একাডেমি পরিচালিত তরুণ লেখক প্রকল্পের একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি হিসেবে কাদেরীর আত্মপ্রকাশ ঘটে| বাংলাদেশের প্রধান কবিদের কাব্য-ঐতিহ্যের উত্তরসূরি হয়ে তিনি স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্পবোধে সমৃদ্ধ এক কাব্যাভিযাত্রার সূচনা করেন| অবশ্য কাব্যচর্চার শুরু থেকেই তিনি অগ্রজদের অনুবর্তী না হয়ে ভিন্নপথে হাঁটতে চেয়েছেন| এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন: ‘আমার বাবা যে জমিটি কিনেছেন, অট্টালিকা বানাতে চেয়েও পারেননি, আমি সেখানে প্রাসাদ বানাতে চাই— এই হলো অগ্রজ এবং অনুজের সম্পর্ক|’ ২০১০ সালের বইমেলায় প্রকাশিত তাঁর ‘কাব্যসমগ্রে’র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘শীতাভ সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য’ (১৯৯৬), ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’ (২০০২), ‘কিম্ভূত হবার কথা ছিল’ (২০০৫), ‘প্রজন্ম লোহিত’ (২০০৭), ‘আড়¤^র’ (২০০৮) এবং ‘বিতিকিচ্ছিরি লাইফ যাচ্ছে’ (২০০৮)| ১৯৯২ সালে কলকাতার খ্যাতিমান ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর আলোচিত কবিতা ‘অনার্য মাদুলি’| সেই প্রকাশনার মাত্র চার বছর পরই তিনি গ্রন্থকার কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং বাংলা কবিতায় নিজের ¯^তন্ত্র অবস্থান নির্মাণে এগিয়ে যান|

‘শীতাভ সনেটগুচ্ছ ও অন্যান্য কবিতা’ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ| এটি তিনটি পর্বে বিন্যস্ত— ‘শীতাভ সনেটগুচ্ছ’, ‘বর্ষাতী সনেটগুচ্ছ’ এবং ‘মানুষ পাখির মতো অতি ক্ষুদ্র হবে যে তখন’| এই কাব্যগ্রন্থে কবি বাঙালি জীবনের বহুমাত্রিক চিত্র উপস্থাপন করেছেন| তিনি দেখিয়েছেন: মানুষের অন্তরালে লোকায়ত জীবন প্রবাহমান; আর বহিরঙ্গে ধ্রুপদী, চিরায়ত জীবনব্যবস্থা বিরাজমান, যার যাত্রা অনন্ত| কবির দৃষ্টিতে শীত শুধু ঋতুই নয়, বাস্তব, কর্ম, শ্রেণি ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এক প্রগাঢ় সখা| বর্ষার কবিতাগুলোতে দেখা যায়: ˆকফিয়তপূর্ণ ক্রীড়াচাঞ্চল্য ও যৌনশৈলীর খেলায় কবি মগ্ন| আধুনিক সভ্যতা, প্রযুক্তি ও আর্থসামাজিক কাঠামোর সঙ্গে প্রতিটি কবির অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের মতো কাদেরীর কাব্যেও এক প্রতিরোধী মনোভাব প্রকাশ পায়| তিনি মানুষের ক্ষুদ্রতা, অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ অšে^ষণ করতে চেয়ে সচেতনভাবে ছন্দিত, মন্ত্রিত এবং গভীর অর্থবোধক ‘কবিতাবাক্য’ রচনা করেছেন|

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’-এ কবি জীবনের বহুমাত্রিক ও বহুকৌণিক প্রতিচ্ছবিকে গভীর শিল্পসৌকর্যে তুলে ধরেছেন| উপনিষদীয় ব্রহ্মতত্ত্বের আলোকে তিনি সমকালীন বিশ্বের জটিলতা ও অস্তিত্ববোধকে অনুধাবনের প্রয়াস নিয়েছেন| এ প্রসঙ্গে তাঁর নিজের ব্যাখ্যা: ‘ভাবলাম, এবারে আদিতে যাব, এবারে অনাদি, এবারে সৃষ্টি-স্রষ্টা-জ্ঞান-বোধি-পরা-অপরার জগতে| অতএব গন্তব্য উপনিষদ|...ব্রহ্মকে জানতে চাই, স্থূল আধ্যাত্মিকতায় নয়, টেকনোলজির সঙ্গে মিলিয়ে| হকিংয়ের সৃষ্টিতত্ত্ব, ব্ল্যাকহোলের অনন্ত গহ্বরে চালান করে দিয়ে ‘মানবজ্ঞান’ (ব্রহ্ম) প্রতীকের মধ্যে এলো, চাইলাম ব্রহ্মকে প্রতীক করে তুলতে জটিল বিশ্ব ঘটনাবর্তের উপলব্ধিরূপে|’ ব্রহ্মজ্ঞান অনুসন্ধানের এই যাত্রা আধুনিক চেতনার সঙ্গে মিশে লোকজীবনের কোমল নৃত্যভঙ্গি ও প্রতীক-ব্যঞ্জনায় এক অনন্য রূপ লাভ করেছে| নৃত্যের দৃশ্যমান বিভঙ্গকে ছাড়িয়ে ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’ কবিতাটি ‘অস্তিত্বের গভীর অধিবাস্তব নিরঞ্জন শূন্যলোকে’ উত্তরণের অভিজ্ঞতা নির্মাণ করে:

“নাড়িয়ে রসের মন সন্ধ্যা নামে অতি অবহেলায়

কমলাসুন্দরী বড়ো থেকে যায় বুদ্ধির গুহায়

রসগ্রাহী মন রোজ সূক্ষ্ম জৈব আত্মিক সুধায়

নৃত্য করে করে শেষে কমলায় অদ্বৈত জাগায়|”

কেবল শব্দের পর শব্দ সাজানো নয়, প্রতিটি কবিতা এখানে হাজারো ঘুঙুরের অনুরণনে সজীব হয়ে ওঠা এক নান্দনিক মুদ্রা| প্রাচীন থেকে আধুনিক কাব্যধারায় অনুচ্চারিত ও উপেক্ষিত অনুভবগুলোকে কবি সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতায় ধারণ করেছেন| শব্দশিল্পের নিপুণ কারিগরি, ভাবের গভীরতা এবং প্রতীকের অভিনব ব্যবহারে ‘ত্রিণাচিকেতের নাচ’ একটি স্বতন্ত্র ও স্মরণীয় কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে|

কবির তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কিম্ভূত হবার কথা ছিল’ ভারতীয় পুরাণপ্রসূত ভাবনার এক আধুনিক কাব্যিক পুনর্নির্মাণ| পৌরাণিক কালে মানবাত্মার কিম্ভূত রূপ ছিল এক মর্যাদাময় অস্তিত্বের প্রতীক; কিন্তু আধুনিক সভ্যতার আত্মবিধ্বংসী অভিযাত্রায় সেই আত্মাই আজ ক্ষতবিক্ষত, বিকৃত ও বিচ্ছিন্ন| এই কাব্যে কবি মানবসত্তার সেই বিপর্যস্ত রূপকে গভীর সংবেদন ও দার্শনিক অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে অন্বেষণ করেছেন| সৃষ্টির গতি, স্রষ্টার অনিবার্য নির্দেশনা, প্রকৃতির রহস্য, সময়ের প্রভাব, অস্তিত্বের নিঃসঙ্গতা এবং আত্মার আত্মপরিচয় সন্ধান—এসব বিষয় কাব্যটিকে দিয়েছে বিশেষ মাত্রা| এখানে ‘আমি’ ও জীবনকে দেখা হয়েছে উদ্ভটতার শিকার এক সত্তা হিসেবে| কাব্যটির রীতি নিয়ে গবেষক বেগম আকতার কামালের অভিমত:

“কাদেরীর কবিতায়, অন্তত এই কাব্যটিতে পরাচেতনাস্পর্শী জগচ্চিত্র দুর্লক্ষ্য, তাঁর বিশ্বজগৎ-জীবন-পরিপার্শ্ব-ইতিহাস-সভ্যতা-প্রযুক্তি-সময়— সবই প্রখর মনন ˆচতন্যে বিধৃত হয়ে নান্দনিক হয় শব্দছন্দের দ্বন্দ্বে-সিনথিসিসে| তবু উল্লিখিত কাব্যটিতে দেখি উদ্ভট দৃশ্যায়ন, জ্যামিতিভাঙা কৌণিকতার নানারকম রূপভঙ্গি— যেনবা কিউবিস্ট রীতির আনাগোনা|”

কাব্যটি যুগপৎ কবির বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার স্বাতন্ত্র্যেরও উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে|

‘প্রজন্ম লোহিত’ কাব্যের ৪৪টি কবিতায় কবির গভীর জীবনবোধ ও তীব্র অনুভূতির শিল্পিত প্রকাশ ঘটেছে| মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের স্বপ্ন, সংকট ও রক্তাক্ত বাস্তবতা এখানে এক অনন্য কাব্যভাষায় রূপ পেয়েছে| কবির দৃষ্টিতে, সবুজ-রক্তিম সম্ভাবনার দেশ একসময় নিজেই লোহিত বর্ণ ধারণ করেছে—হতাশা, ক্লান্তি, ক্ষোভ, দহন ও প্রতিকূলতার ভারে| ইতিহাস, ভূগোল ও মানবিক নিয়তির অদ্ভুত সাযুজ্যকে ধারণ করে কবি নির্মাণ করেছেন এক প্রতীকী ‘লাল যাত্রা’র বয়ান| তাঁর কাছে একুশ শতকের প্রজন্ম লোহিতবর্ণের— সংগ্রামী, ক্ষতবিক্ষত, তবু ঊর্ধ্বমুখী ও অগ্রযাত্রাপ্রত্যয়ী এক মানবসমষ্টি|

যুগের সংকট ও চৈতন্যের ওঠাপড়াকে কবি গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন ‘আড়ম্বর’ কাব্যগ্রন্থে| এখানে তিনি বহমান জীবনসংসারের অন্তর্নিহিত সত্যকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন| কাব্যটিতে সৃষ্টির আড়ম্বর, প্রাচীন প্রকৃতি, জীবন ও লোকাচারের ছাপ ফুটে উঠেছে| শতবর্ষী প্রকৃতি, রাজার বিস্তৃত সাম্রাজ্য—সবই কালের প্রবাহে ক্ষয়প্রাপ্ত, নিঃশব্দে বিলীন; তবু তাদের আড়ম্বরের ছায়া আজও বর্তমান| মানুষের আগমন ও অবসান, রাজার উত্থান ও পতন— সবই সাময়িক; কিন্তু বীতংস সংসারে বহু অনুভূতির মৃত্যুস্তূপে বেঁচে থাকার আড়ম্বর অমর-অজর| কবি এই কাব্যে সময়, ইতিহাস ও অস্তিত্বের আন্তঃসংযোগকে শৈল্পিক ভঙ্গিতে চিত্রিত করেছেন|

দার্শনিক অনুসন্ধান, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং লোকায়ত ও ধ্রুপদী জীবনের সমন্বয়ে অখণ্ড জীবনবোধ নির্মাণ কাদেরীর কাব্যচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য| তবে তিনি কেবল অতীতচারী আত্মমগ্ন কবি নন; ‘বিতিকিচ্ছিরি লাইফ যাচ্ছে’ তাঁর সমকালসচেতন কাব্যভাষ্যের উজ্জ্বল উদাহরণ| এ গ্রন্থে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের ˆদনন্দিন সংগ্রাম গভীর সংবেদনশীলতায় উপস্থাপিত হয়েছে| স্বাধীন দেশের রাজনীতির ক্রমাবনতি কীভাবে জাতির স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার বেদনাময় প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে আছে কবিতাগুলোর পরতে পরতে| পাশাপাশি ˆবশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাবও এখানে অনুপুঙ্খভাবে ধরা পড়েছে| তবু এই অন্ধকারের ভেতরও কবি আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্বস্তিময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় উন্মুখ জনতার স্বপ্নকে তিনি এ কাব্যে ফুটিয়ে তুলেছেন|

কাদেরী বিশ শতকের নয়ের দশকের বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ কবি কি না তা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে| থাকাই স্বাভাবিক| কারণ শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা শেষ পর্যন্ত পাঠকের রুচি ও গ্রহণবোধের সঙ্গেই গভীরভাবে সম্পর্কিত| কিন্তু তিনি যে সমসাময়িকদের ভিড়ে এক অনন্য ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর— এ বিষয়ে দ্বিমতের অবকাশ খুব কম| তাঁর কাব্যজগৎ বিস্তৃত হয়েছে মহাজাগতিক অভিযাত্রার আকাঙ্ক্ষা থেকে লোকপুরাণ ও ধ্রুপদী পুরাণের নবনির্মাণে| ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সমকালীন বাস্তবতাকে যুক্ত করে তিনি নির্মাণ করেছেন এক ¯^তন্ত্র কাব্যভুবন| স্বকীয় দর্শনচিন্তার সঙ্গে লোকদর্শন ও আধ্যাত্মিক অনুভবের যে সৃজনশীল সমš^য় তাঁর কবিতায় লক্ষ করা যায় তা বাংলা কবিতায় অভিনব সংযোজন হিসেবেই বিবেচিত| ভাবনার ক্ষেত্রে যেমন তিনি স্বাতন্ত্র্যের দীপ্ত স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি ভাষা ও প্রকরণেও ছিলেন অসামান্য সচেতন| দৃশ্য নির্মাণ, শব্দ নির্বাচন, চিত্রকল্প সৃজন এবং বাক্যের অন্তর্গত শব্দবিন্যাসে তিনি এমন এক স্বকীয় কৌশল গড়ে তুলেছেন যা সহজেই তাঁর কবিতাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে| কাব্যসমগ্র পাঠে জ্ঞাত হওয়া যায়, তাঁর ভাষা সংবেদী ও ভারবহনক্ষম| এই প্রাকরণিক বৈশিষ্ট্য ও প্রকাশভঙ্গির অভিনবত্ব তাঁর সহজাত কবিপ্রতিভার স্বাভাবিক প্রকাশ|

কাব্যসমগ্র| বায়তুল্লাহ কাদেরী| লেখাপ্রকাশ| প্রচ্ছদ: তারিক ফেরদৌস খান| প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৭| পৃষ্ঠা: ৩০৪| মূল্য: ৬০০| 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত