সংবাদ

জমি বিবাদে আটকে আছে নতুন সেতু


প্রতিনিধি, ত্রিশাল ( ময়মনসিংহ)
প্রতিনিধি, ত্রিশাল ( ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

জমি বিবাদে আটকে আছে নতুন সেতু
ত্রিশালের পোড়াবাড়ী বাজারে খিরু নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। ছবি : সংবাদ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার খিরু নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি চলাচলের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে না পারায় সেটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তিন দশকের পুরোনো একটি জরাজীর্ণ বেইলি সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই উপজেলার লাখো মানুষ।

ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ী বাজারে খিরু নদীর ওপর আশির দশকে নির্মিত বেইলি সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটির পাটাতন ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যানবাহন উঠলে এটি প্রবলভাবে কাঁপতে থাকে। প্রতিদিন ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার হাজারো মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই নড়বড়ে সেতু দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয়দের ভোগান্তি কমাতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে খিরু নদীর ওপর প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৩ সালের আগস্টে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় দুই দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে বিরোধ থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

জমির অন্যতম মালিক বাসন্তী রানী চৌধুরী বলেন, “আমার ভিটেমাটি সেতুর জন্য পড়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণের কোনো টাকা পাইনি। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত জমি ছাড়া সম্ভব নয়।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন জানান, জমি সমস্যার সমাধান হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব।

ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, জমির মালিকদের বাধার কারণে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাট করা যাচ্ছে না। ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজ করতে দিচ্ছেন না।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “সংযোগ সড়কের জমি পরিমাপ ও মূল্য নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত বাজেটের একটি প্রস্তাবনা এলজিইডিতে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই অর্থ পরিশোধ করে দ্রুত সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


জমি বিবাদে আটকে আছে নতুন সেতু

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার খিরু নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি চলাচলের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে না পারায় সেটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তিন দশকের পুরোনো একটি জরাজীর্ণ বেইলি সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই উপজেলার লাখো মানুষ।

ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ী বাজারে খিরু নদীর ওপর আশির দশকে নির্মিত বেইলি সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটির পাটাতন ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যানবাহন উঠলে এটি প্রবলভাবে কাঁপতে থাকে। প্রতিদিন ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার হাজারো মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই নড়বড়ে সেতু দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয়দের ভোগান্তি কমাতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে খিরু নদীর ওপর প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৩ সালের আগস্টে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় দুই দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে বিরোধ থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

জমির অন্যতম মালিক বাসন্তী রানী চৌধুরী বলেন, “আমার ভিটেমাটি সেতুর জন্য পড়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণের কোনো টাকা পাইনি। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত জমি ছাড়া সম্ভব নয়।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন জানান, জমি সমস্যার সমাধান হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব।

ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, জমির মালিকদের বাধার কারণে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাট করা যাচ্ছে না। ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজ করতে দিচ্ছেন না।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “সংযোগ সড়কের জমি পরিমাপ ও মূল্য নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত বাজেটের একটি প্রস্তাবনা এলজিইডিতে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই অর্থ পরিশোধ করে দ্রুত সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত