পদ্মা সেতু চালুর ৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। দেশের এই বৃহত্তম অবকাঠামোকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতি এলেও সেতুর উত্তর প্রান্ত মাওয়া ও আশপাশের এলাকায় এখনো প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। গত ৪ বছরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবনমানে বড় পরিবর্তন এসেছে। যাতায়াত সহজ হওয়ায় এলাকায় পর্যটন বিকশিত হয়েছে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এক সময়ের ক্রেতাশূন্য জমির দাম এখন বেড়ে গেছে ১০ থেকে ২০ গুণ। বড় বড় শিল্প গ্রুপ ও আবাসন ব্যবসায়ীরা এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে জমি কিনছেন ঠিকই, তবে তা মূলত হাউজিং বা পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে।
লৌহজংয়ের বাসিন্দা আলী হাসান বলেন, “পদ্মা সেতুর কারণে আমাদের জীবনমান উন্নত হয়েছে, যাতায়াতের কষ্ট দূর হয়েছে। কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম বড় বড় কারখানা হবে, স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। সেই বড় শিল্পায়ন এখনো আমরা দেখিনি।”
লৌহজং উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি উদ্যোগে শিল্পায়ন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত চার বছরে পদ্মা সেতু থেকে রাজস্ব আদায় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ (ইটিসি) পদ্ধতির কারণে এখন যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হচ্ছে না। এতে সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সেতু কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদ রানা শিকদার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কৃষি, মৎস্য ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য আশির্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাওয়া প্রান্তের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পর্যটন ও আবাসন খাতের পাশাপাশি দ্রুত শিল্প-কারখানা স্থাপিত হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে।
/

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
পদ্মা সেতু চালুর ৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। দেশের এই বৃহত্তম অবকাঠামোকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতি এলেও সেতুর উত্তর প্রান্ত মাওয়া ও আশপাশের এলাকায় এখনো প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। গত ৪ বছরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবনমানে বড় পরিবর্তন এসেছে। যাতায়াত সহজ হওয়ায় এলাকায় পর্যটন বিকশিত হয়েছে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এক সময়ের ক্রেতাশূন্য জমির দাম এখন বেড়ে গেছে ১০ থেকে ২০ গুণ। বড় বড় শিল্প গ্রুপ ও আবাসন ব্যবসায়ীরা এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে জমি কিনছেন ঠিকই, তবে তা মূলত হাউজিং বা পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে।
লৌহজংয়ের বাসিন্দা আলী হাসান বলেন, “পদ্মা সেতুর কারণে আমাদের জীবনমান উন্নত হয়েছে, যাতায়াতের কষ্ট দূর হয়েছে। কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম বড় বড় কারখানা হবে, স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। সেই বড় শিল্পায়ন এখনো আমরা দেখিনি।”
লৌহজং উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি উদ্যোগে শিল্পায়ন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত চার বছরে পদ্মা সেতু থেকে রাজস্ব আদায় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ (ইটিসি) পদ্ধতির কারণে এখন যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হচ্ছে না। এতে সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সেতু কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদ রানা শিকদার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কৃষি, মৎস্য ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য আশির্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাওয়া প্রান্তের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পর্যটন ও আবাসন খাতের পাশাপাশি দ্রুত শিল্প-কারখানা স্থাপিত হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে।
/

আপনার মতামত লিখুন