আগামী ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির বহুল আলোচিত নির্বাচন। প্রায় ৪ হাজার ভোটারের এই নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে নির্বাচনের আগেই সভাপতিসহ শীর্ষ চারটি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় সাধারণ ভোটার ও বিএনপির একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন-সভাপতি পদে মীর নাসির হোসেন (আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক সভাপতি), সহসভাপতি পদে অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব (জামায়াত সমর্থিত), অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান (ড্যাব সমর্থিত) ও চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ (বিএনপি সমর্থিত)। ফারিয়ান ইউসুফ সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের ভাতিজা।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া পদগুলো বাদে বাকি ১৩টি পদের জন্য লড়াই করছেন ৭৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ৯ জন, কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদের জন্য ৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনী মাঠের খবর অনুযায়ী, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ওপর দলটির সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মীর নাসির হোসেনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বিএনপি কৌশলগত বড় ভুল করেছে। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপেক্ষা করে একজন কনিষ্ঠ নেতাকে প্রথম সহসভাপতি করায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
শহরের সাধারণ ভোটার ও বিএনপির ক্ষুব্ধ অংশের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা এবার ‘বোঝাপড়া’র রাজনীতির প্রতিবাদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী মাঠে কৌশলগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন