সংবাদ

টিকটকার স্ত্রীর ‘পরকীয়া’, স্বামীর আত্মহত্যায় নতুন মোড়


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

টিকটকার স্ত্রীর ‘পরকীয়া’, স্বামীর আত্মহত্যায় নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় দাম্পত্য বিরোধ ও কথিত পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক গার্মেন্টসকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর কথিত পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে অভিযুক্ত এক কলেজছাত্রের পরিবারকে পুলিশ ও সাংবাদিকদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার আশ্বাস দিয়ে ৪০ হাজার টাকার একটি চেক নেওয়া হয়েছে। 

নিহত সজল কুমার দেউরী (৩০) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের কলেজছাত্র শোভন বেপারীর সঙ্গে সজলের স্ত্রীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ঢাকায় অবস্থানরত সজল ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে আত্মহত্যা করেন। নিহতের ছোট ভাই তুহিন দেউরীর দাবি, ভিডিও কলে পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠার পরই তার ভাই এ সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার পর নতুন করে অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত কলেজছাত্রের পরিবারকে হয়রানি থেকে রক্ষার আশ্বাস দিয়ে ৪০ হাজার টাকার একটি চেক নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লিটন বলেন, কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে শোভনের বাড়িতে গিয়ে অর্থ দাবি করেন। নগদ টাকা না থাকায় শোভনের পরিবার একটি চেক দিতে রাজি হয়। তবে আগত ব্যক্তিরা নিজেদের নামে চেক না নিয়ে তার নামে চেক ইস্যু করান। তিনি দাবি করেন, ১ জুলাই ব্যাংক বন্ধ থাকায় পরে অন্য একজন চেকটি নিয়ে যান। বর্তমানে সেই ব্যক্তিরাই টাকার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছেন। তিনি নিজে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি বলেও দাবি করেন।

শোভন বেপারীর বাবা ভূপাল বেপারী বলেন, সজলের মৃত্যুর পর তিনি ছেলে ও রঞ্জিতার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন। পরে সাংবাদিক পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। নগদ ২ হাজার টাকা দেই এবং বাকি টাকা তার স্ত্রী স্থানীয় লিটনের নামে ৪০ হাজার টাকার একটি চেক দেন বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, শোভন বেপারী ও রঞ্জিতা হালদারের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। ঘটনার পর দুজনই এলাকা ছেড়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। চেক নেওয়ার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


টিকটকার স্ত্রীর ‘পরকীয়া’, স্বামীর আত্মহত্যায় নতুন মোড়

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় দাম্পত্য বিরোধ ও কথিত পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক গার্মেন্টসকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর কথিত পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে অভিযুক্ত এক কলেজছাত্রের পরিবারকে পুলিশ ও সাংবাদিকদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার আশ্বাস দিয়ে ৪০ হাজার টাকার একটি চেক নেওয়া হয়েছে। 

নিহত সজল কুমার দেউরী (৩০) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের কলেজছাত্র শোভন বেপারীর সঙ্গে সজলের স্ত্রীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ঢাকায় অবস্থানরত সজল ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে আত্মহত্যা করেন। নিহতের ছোট ভাই তুহিন দেউরীর দাবি, ভিডিও কলে পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠার পরই তার ভাই এ সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার পর নতুন করে অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত কলেজছাত্রের পরিবারকে হয়রানি থেকে রক্ষার আশ্বাস দিয়ে ৪০ হাজার টাকার একটি চেক নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লিটন বলেন, কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে শোভনের বাড়িতে গিয়ে অর্থ দাবি করেন। নগদ টাকা না থাকায় শোভনের পরিবার একটি চেক দিতে রাজি হয়। তবে আগত ব্যক্তিরা নিজেদের নামে চেক না নিয়ে তার নামে চেক ইস্যু করান। তিনি দাবি করেন, ১ জুলাই ব্যাংক বন্ধ থাকায় পরে অন্য একজন চেকটি নিয়ে যান। বর্তমানে সেই ব্যক্তিরাই টাকার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছেন। তিনি নিজে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি বলেও দাবি করেন।

শোভন বেপারীর বাবা ভূপাল বেপারী বলেন, সজলের মৃত্যুর পর তিনি ছেলে ও রঞ্জিতার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন। পরে সাংবাদিক পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। নগদ ২ হাজার টাকা দেই এবং বাকি টাকা তার স্ত্রী স্থানীয় লিটনের নামে ৪০ হাজার টাকার একটি চেক দেন বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, শোভন বেপারী ও রঞ্জিতা হালদারের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। ঘটনার পর দুজনই এলাকা ছেড়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। চেক নেওয়ার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত