গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাসংক্রান্ত অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি
স্পষ্ট করে জানান, বন্দিদের
চিকিৎসায় কর্তৃপক্ষের কোনো রকমের অবহেলা
নেই।
মঙ্গলবার
দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
তিনি এই বক্তব্য প্রদান
করেন।
সংবাদ
সম্মেলনে আইজি প্রিজন জানান,
বর্তমানে ঢাকা ও দেশের
বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে ১২২ জন বন্দি
কারাগারের বাইরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কারাবন্দিদের
মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি
বলেন, "চিকিৎসায় আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।
অসুস্থ হয়ে ২০২৫ সালে
১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু
হয়েছে। চলতি বছর এখন
পর্যন্ত ১২২ জন বন্দির
মৃত্যু হয়েছে।"
কারাগারগুলোতে
তীব্র চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি
জানান, মোট ১৫১টি অনুমোদিত
পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন
চিকিৎসক। অন্যান্য কারাগারে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা অন্যত্র
কর্মরত থাকায় পূর্ণকালীন সময় দিতে পারছেন
না।
এই সংকট কাটাতে ১০১
জন সিভিল সার্জন বিভিন্ন কারাগারে সেবা দিচ্ছেন উল্লেখ
করে তিনি জানান, বর্তমানে
প্রায় সব কারাগারেই ফার্মাসিস্ট
অথবা মেডিকেল/ডিপ্লোমা কোয়ালিফাইড কর্মী রয়েছেন। এছাড়া পিএসসি থেকে নতুন ৫৫
জন নার্স নিয়োগের আদেশ হয়েছে, যারা
খুব শিগগিরই যোগ দেবেন।
সম্প্রতি
সারাদেশে পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার বৃদ্ধি পাওয়া এবং বন্দি ব্যবস্থাপনা
বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন,
"সাধারণত প্রায় ৮০ হাজার বন্দি
নিয়ে কাজ করে কারা
বিভাগ। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯৮
হাজার হয়েছে। গতকালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন
প্রায় ২ হাজার ৭৯৬
জন বন্দি আসছেন এবং প্রায় ৩
হাজার বেরিয়ে যাচ্ছেন।"
কারাগারে
এই অতিরিক্ত চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মোবাইল
কোর্টে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আগমনকে দায়ী করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, "১
জুন থেকে ৩১ জুলাই
পর্যন্ত ২৬ হাজারের বেশি
মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত আসামি কারাগারে এসেছেন। তাদের কেউ একদিন, কেউ
পাঁচদিন, সাতদিন, এক মাস বা
তিন মাসের সাজা পেয়েছেন। এতে
কারাগারে বন্দির সংখ্যা বেড়ে বড় ধরনের
চাপ তৈরি হয়েছে।"
সংকট
নিরসনে বিষয়টি ইতোমধ্যে সরকারের নজরে আনা হয়েছে
এবং সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশাবাদ
ব্যক্ত করেন তিনি।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাসংক্রান্ত অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি
স্পষ্ট করে জানান, বন্দিদের
চিকিৎসায় কর্তৃপক্ষের কোনো রকমের অবহেলা
নেই।
মঙ্গলবার
দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
তিনি এই বক্তব্য প্রদান
করেন।
সংবাদ
সম্মেলনে আইজি প্রিজন জানান,
বর্তমানে ঢাকা ও দেশের
বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে ১২২ জন বন্দি
কারাগারের বাইরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কারাবন্দিদের
মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি
বলেন, "চিকিৎসায় আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।
অসুস্থ হয়ে ২০২৫ সালে
১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু
হয়েছে। চলতি বছর এখন
পর্যন্ত ১২২ জন বন্দির
মৃত্যু হয়েছে।"
কারাগারগুলোতে
তীব্র চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি
জানান, মোট ১৫১টি অনুমোদিত
পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন
চিকিৎসক। অন্যান্য কারাগারে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা অন্যত্র
কর্মরত থাকায় পূর্ণকালীন সময় দিতে পারছেন
না।
এই সংকট কাটাতে ১০১
জন সিভিল সার্জন বিভিন্ন কারাগারে সেবা দিচ্ছেন উল্লেখ
করে তিনি জানান, বর্তমানে
প্রায় সব কারাগারেই ফার্মাসিস্ট
অথবা মেডিকেল/ডিপ্লোমা কোয়ালিফাইড কর্মী রয়েছেন। এছাড়া পিএসসি থেকে নতুন ৫৫
জন নার্স নিয়োগের আদেশ হয়েছে, যারা
খুব শিগগিরই যোগ দেবেন।
সম্প্রতি
সারাদেশে পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার বৃদ্ধি পাওয়া এবং বন্দি ব্যবস্থাপনা
বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন,
"সাধারণত প্রায় ৮০ হাজার বন্দি
নিয়ে কাজ করে কারা
বিভাগ। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯৮
হাজার হয়েছে। গতকালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন
প্রায় ২ হাজার ৭৯৬
জন বন্দি আসছেন এবং প্রায় ৩
হাজার বেরিয়ে যাচ্ছেন।"
কারাগারে
এই অতিরিক্ত চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মোবাইল
কোর্টে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আগমনকে দায়ী করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, "১
জুন থেকে ৩১ জুলাই
পর্যন্ত ২৬ হাজারের বেশি
মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত আসামি কারাগারে এসেছেন। তাদের কেউ একদিন, কেউ
পাঁচদিন, সাতদিন, এক মাস বা
তিন মাসের সাজা পেয়েছেন। এতে
কারাগারে বন্দির সংখ্যা বেড়ে বড় ধরনের
চাপ তৈরি হয়েছে।"
সংকট
নিরসনে বিষয়টি ইতোমধ্যে সরকারের নজরে আনা হয়েছে
এবং সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশাবাদ
ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন