সংবাদ

স্বামী উধাও, তিন অবুঝ সন্তান নিয়ে রাস্তায় নিরুপায় মা

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬

যে বয়সে শিশুদের হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেই বয়সে স্রেফ বেঁচে থাকার তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মাস্ক বিক্রি করছে দুই শিশু। সন্তানদের এই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চাননি মা, কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ তারা পথচারী। সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন স্বামী, এখন যার কোনো পরিচয় বা খোঁজ কিছুই নেই। সেই মানসিক আঘাতে এই মা যেন আজ দিশেহারা, রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন পাগলের মতো। তিন সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন এক কঠিন যুদ্ধে নামেন এই মা। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর দিনে আয় মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এই যৎসামান্য টাকাতেই টেনেটুনে চলে পুরো সংসার। অবুঝ সন্তানরা রোজই বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। কান্নাকাটি করে। কিন্তু এই অসহায় মায়ের কাছে কোনো জবাব নেই। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কান্না করেই দিন কাটে তার। এমনও দিন আসে, সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়ালেও এই পরিবারটির কারও পেটে জোটে না এক মুঠো ভাত। ক্ষুধার কষ্ট নিয়েই জীবিকার তাগিদে বের হতে হয় চেনা রাজপথে। কোলের শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ান তিনি। সঙ্গে থাকে আট বছরের ছেলে আর ছয় বছরের মেয়ে। কয়েক বছর আগে মাত্র ৪১ দিনের দুধের শিশুসহ পুরো সংসার ফেলে চলে যান স্বামী। এরপরই অথৈ সাগরে পড়েন এই মা। নেই কোনো স্থায়ী আয়, নেই মাথা গোঁজার নিশ্চয়তা। বাধ্য হয়েই মায়ের কষ্ট একটুখানি কমাতে পরম মমতায় এগিয়ে এসেছে ছোট্ট সন্তানরাও। যে বয়সে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তারা এখন হকার। সারাদিন ঘুরে কখনও ১০০, কখনও ১৫০ টাকা জোটে। এই সামান্য পুঁজিতে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে আর নিত্যদিনের খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। বিলাসী কোনো স্বপ্ন নেই এই মায়ের। কেবল চান সন্তানরা যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারে, একটু পড়াশোনা করতে পারে আর মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। একদিকে স্বামীর প্রত্যাখ্যান, অন্যদিকে তিন সন্তানকে নিয়ে টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের একটু সাহায্য হয়তো বদলে দিতে পারে এই অসহায় পরিবারের ভাগ্য। দিনশেষে বিক্রি হয় মাত্র কয়েকটি মাস্ক। আর অবিক্রীত থেকে যায় একজন মায়ের বুকভরা কষ্ট, বেদনা এবং এই নিষ্পাপ শিশুদের হারিয়ে যাওয়া শৈশব।