সংবাদ

‘মেট্রোরেলে ঝুঁকি! জাপান দায় এড়াতে পারেনা’

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ড. মো. সামছুল হক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ। তার সঙ্গে আলাপ হবে মেট্রোরেল, শহরে পরিবহন বিশৃংখলা, দু/র্ঘটনা, মৃ/ত‍্যু এবং সড়ক মহাসড়ক নিয়ে। দেশের মেগা প্রজেক্টগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নী/তি এবং আমলাতান্ত্রিক অযোগ্যতার এক ভ/য়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে এই আলোচনায়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো আজ সাধারণ মানুষের মৃ/ত্যুর কারণ হচ্ছে, অথচ কারোর কোনো জবাবদিহিতা নেই! ভিডিওতে যে বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে: • মেট্রো রেলের ভ/য়াবহ ত্রুটি ও প্রা/ণহানি: মাত্র দুই বছরের মাথায় মেট্রোর পিয়ার হেডে ফাটল ধরেছে এবং ৩০% বিয়ারিং প্যাড সরে গিয়ে মানুষ মা/রা যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এটি মূলত অবহেলা ও ডিজাইনের ত্রুটি। • অতিরিক্ত ব্যয় ও অযোগ্য আমলানির্ভরতা: ইন্দোনেশিয়া বা পাকিস্তানের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি খরচে একটি সাধারণ মানের মেট্রো বানানো হয়েছে। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারের বদলে অযোগ্য আমলাদের (সচিব/পিডি) দিয়ে প্রজেক্ট চালানো হয়েছে, যারা জাপানি কনসালটেন্টদের কোনো প্রশ্ন পর্যন্ত করতে পারেনি। • জাপানি কনসালটেন্টদের দায় ও গাফিলতি: জাপানি কনসালটেন্টদের অতিমূল্যায়িত ফি দেওয়া হলেও তারা দুর্বল ম্যাটেরিয়াল দিয়েছে এবং পাবলিক অপারেশনে যাওয়ার আগে কোনো ডাইনামিক টেস্ট বা সেফটি অডিট করা হয়নি। • যাত্রী সুবিধা ও ফিডার সার্ভিসের অভাব: সাধারণ মানুষের জন্য স্টেশনের সাথে কোনো ফিডার সার্ভিস কানেকশন দেওয়া হয়নি এবং এর টিকিট ভাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের সামর্থ্যের বাইরে। এছাড়া স্টেশনের নিচে সাবস্টেশন করায় বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। • গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও রুট পারমিট বাণিজ্য: কোনো পরিবহন জ্ঞান ছাড়াই পুলিশসহ ৩১ জনের একটি কমিটি বাসের রুট পারমিট দিচ্ছে এবং ব্যানার বিক্রি করে চাঁদাবাজি ও রাস্তায় অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছে। বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি (এক রুটে এক কোম্পানি) সিস্টেম চালু করা হয়নি। • এআই (AI) ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে প্রহসন: রাস্তায় আনরেজিস্টার্ড গাড়ি, লেগুনা ও ইজিবাইকের বিশৃঙ্খলার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুধুই অর্থের অপচয় এবং পাগলামি। • ইজিবাইক সিন্ডি/কেট ও বিদ্যুৎ চু/রি: ইজিবাইকের নামে একটি অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা পুলিশ ও রাজনীতিবিদদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে হুড দিয়ে বিদ্যুৎ চু/রি করে গাড়ি চার্জ দিচ্ছে। • পরিকল্পনা কমিশনের ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতা: সঠিক পরিকল্পনাবিদ না থাকায় মেট্রোর খুঁটি বসাতে গিয়ে নতুন আন্ডারপাস ভাঙতে হচ্ছে। পুরান ঢাকা বা পূর্বাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার জন্য সাশ্রয়ী মনোরেলের বিকল্প না ভেবে শুধু ব্যয়বহুল ভারী মেট্রোর দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। • সড়ক দুর্ঘ/টনা ও হাইওয়ে পুলিশের নি/ষ্ক্রিয়তা: ৫৪ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে বানালেও সেখানে স্পিড ব্রেকার দিতে হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের চোখের সামনেই বাসগুলো অ/বৈধ স্টপেজে থামছে এবং দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। • লোক দেখানো মেগা উন্নয়ন: নৌপথের মতো টেকসই ও স্বল্প ব্যয়ের সমাধানের দিকে না গিয়ে সরকারগুলো শুধু লোক দেখানো মেগা প্রজেক্টের দিকে ছুটছে, যা কোনো দীর্ঘমেয়াদী সুফল আনছে না। 00:00 - মেট্রো রেলের ফাটল, বিয়ারিং প্যাড খসে পড়া ও প্রাণহানি 08:09 - ফিডার সার্ভিসের অভাব ও অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয় 10:15 - জাপানি কনসালটেন্টদের দায়মুক্তি ও সেফটি অডিটের গাফিলতি 16:17 - জবাবদিহিতা ও সুশাসনের চরম অভাব 18:25 - মেট্রোর স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক ও সাবস্টেশনে বৃষ্টির পানি ঢোকা 26:11 - গণপরিবহনে নৈরাজ্য এবং রুট পারমিট বাণিজ্য 34:12 - বিশৃঙ্খল রাস্তায় এআই (AI) ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর প্রহসন 36:23 - মনোরেল পরিকল্পনা এবং পুরান ঢাকার মানুষের বঞ্চনা 43:11 - ইজিবাইক সিন্ডিকেট এবং প্রকাশ্যে বিদ্যুৎ চুরি 50:18 - অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা কমিশনের ব্যর্থতা 52:26 - ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা এবং হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা 57:32 - মেগা প্রজেক্টের নামে লোক দেখানো উন্নয়ন ও সক্ষমতার অভাব