সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

ধামরাইয়ে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কারাগারে

ধামরাইয়ে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কারাগারে

ধর্ষণচেষ্টা, চুরি ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য এবং ধামরাই পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার একটি আদালত এই আদেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণচেষ্টা ও চুরিসহ গুরুতর অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় (মামলা নং ১০৮/২০২৫) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আগামী ২২ জুন পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে মারধর করেন শরীফুল ইসলাম। এ সময় চুরির ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানায় তার বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল এবং এনজিওর আড়ালে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত নভেম্বর মাসে ধামরাই পৌরসভার মলয়ঘাট এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশ জানিয়েছে, শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে।


বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী তার জন্মভূমি ফরিদপুরের মধুখালীতে অত্যন্ত সাদামাটা ও দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে। প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করা হলেও এবার প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।গত ২০ এপ্রিল ছিল এই অকুতোভয় যোদ্ধার প্রয়াণ দিবস। সচরাচর এদিন সকাল সাতটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হলেও এবার চিত্র ছিল ভিন্ন। উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার’-এর কর্মচারীরা নিজেরাই সকাল নয়টায় পতাকা উত্তোলন করেন।জাদুঘরের সহকারী লাইব্রেরিয়ান সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে কর্মকর্তাদের জন্য অপেক্ষা করেছি। কেউ না আসায় সাধারণ নিয়মেই আমরা জাদুঘর খুলেছি এবং পতাকা উড়িয়েছি।’দিবসটি পালনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাঝেও ছিল চরম অনীহা। কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আসলে দিবসটির কথা আমার একদম স্মরণে ছিল না। দুপুরে ফরিদপুরে থাকাকালে একজন কর্মসূচির কথা জানতে চাইলে আমার ভুল ভাঙে। এরপর দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়ে মিলাদের ব্যবস্থা করি।’বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মধুখালী ইউএনও রওশনা জাহান উপস্থিত থাকলেও পুরো আয়োজনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।ইউএনও বলেন, এর আগে দিবসটি কীভাবে পালিত হতো, সে বিষয়ে তাকে কেউ অবহিত করেনি। তবে ভবিষ্যতে সব জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠের বড় বোন জোহরা বেগম ঢাকা থেকে এসে যোগ দিলেও প্রশাসনের এমন অগোছালো ও অবহেলাপূর্ণ ভূমিকায় তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মান রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো আরও পরিকল্পিত ও স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া উচিত।১৯৪৩ সালের ৮ মে মধুখালীর সালামতপুরে জন্মগ্রহণ করেন মুন্সি আব্দুর রউফ। ১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলে (ইপিআর) যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল রাঙামাটির মহালছড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে শহীদ হন এই বীর যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।


অস্ত্রসহ সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

অস্ত্রসহ সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ‘ছোট সুমন’ দস্যু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড বা দ্বিতীয় প্রধান আবদুস সামাদ মোল্লাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার আবদুস সামাদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়।কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর তৃতীয় ধাপে সোমবার রাত ১০টার দিকে রামপাল উপজেলার শুকদারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুস সামাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর হয়ে সুন্দরবনে ডাকাতি করে আসছিলেন।পরে সামাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে মোংলা থানার সুন্দরবন-সংলগ্ন নন্দবালা খাল এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি এয়ারগান ও দুটি অবিস্ফোরিত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্টগার্ডের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বাংলাদেশে গম পাচার: ফের ইডির জালে নায়িকা নুসরাত

বাংলাদেশে গম পাচার: ফের ইডির জালে নায়িকা নুসরাত

আবারও রেশন দুর্নীতি মামলায় ভারতের টালিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে গম পাচারের যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই সূত্র ধরেই এই তলব বলে জানা গেছে।পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচনের আগে আগামী ২২ এপ্রিল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নায়িকাকে। তবে কলকাতা না দিল্লি- কোন দপ্তরে তাকে হাজিরা দিতে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ সূত্র ধরে রেশন দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীর নাম উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে যখন বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগ আলোচনায় আসে, তখন নুসরাত জাহান বসিরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন।নায়িকা নুসরাত জাহানওই সময়ে বাংলাদেশে গম পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না- সেটা খতিয়ে দেখতেই তাকে তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইডির একাধিক কর্মকর্তা।বলা হচ্ছে, কলকাতায় নয়, বরং দিল্লির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত জাহান।খবর অনুযায়ী, ইডির পক্ষ থেকে প্রথমে কলকাতার দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিনেত্রী নিজেই বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরার আরজি জানিয়েছেন। বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি কেউ।এদিকে, যশ-নুসরাত দিন কয়েক ধরেই বিদেশে ছুটি কাটাচ্ছেন। মাঝেমধ্যেই তাদের ভ্রমণবিলাসের ঝলক দেখা যাচ্ছে নেটভুবনে। এমন সময় ইডির সমন পেলেন নায়িকা।নায়িকা নুসরাত জাহানপ্রসঙ্গত, অতীতেও ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীকে তলব করেছিল ইডি। সে সময়ও তিনি তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন।কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে অবৈধভাবে গম পাচারের একটি বড় চক্রের সন্ধান পেয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ওই পাচারচক্রের সঙ্গে ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহল জড়িত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এখন সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।নুসরাত জাহান বসিরহাটের এমপি থাকাকালীন তার কোনো লেনদেন ছিল কি না, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে ইডি।নতুন করে ইডির তলবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি নুসরাত জাহান। তার পক্ষ থেকে কেউ গণমাধ্যমের কাছে কিছু বলেননি। বেশ কয়েক দিন ধরেই তিনি স্বামী যশ দাশগুপ্তকে নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন।  ইডির তলব পাওয়ার পর তিনি দেশে ফিরছেন কি না, সেটাও জানা যায়নি।পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন ২৩ এপ্রিল। তার মাত্র একদিন আগে ২২ এপ্রিল নুসরাতকে তলব করা হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশে এই তলবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করছেন কেউ কেউ।নায়িকা নুসরাত জাহান ও স্বামী অভিনেতা যশতবে ইডি সূত্র বলছে, এটি সম্পূর্ণ তদন্তপ্রক্রিয়ার অংশ। বাংলাদেশে গম পাচারের ঘটনা যে শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব ছিল-সেটা খতিয়ে দেখতেই এগোচ্ছে তদন্ত।আগামী ২২ এপ্রিল নুসরাত জাহান ইডির দপ্তরে হাজিরা দেবেন কি না, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। তিনি হাজিরা দিলে কী তথ্য দেন এবং তাতে তদন্তের গতি কতটা বদলায়- সেটাই এখন দেখার বিষয়।এদিকে, বাংলাদেশের গম পাচার ইস্যুটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এই পাচারচক্রের মূল হোতা কে বা কারা, তা উদঘাটনে ইডির এই তলব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।


সৌদি থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের পথে 'এমটি নিনেমিয়া'

সৌদি থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের পথে 'এমটি নিনেমিয়া'

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই আশার আলো দেখছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছে বিশাল আকৃতির ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয় একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। তবে জাহাজটি ঠিক কবে নাগাদ বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।"সম্প্রতি ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটে পড়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্টটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়। নতুন এই জাহাজটি আসার খবরে সেই সংকট কেটে যাবে এবং দেশের একমাত্র শোধনাগারটি আবার পূর্ণ দমে উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে থাকা অন্য একটি জাহাজে থাকা আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল কবে নাগাদ আসবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় ৯২ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে চাহিদা মেটায়। গত অর্থবছরে দেশে সর্বাধিক জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়েছে পরিবহন খাতে, যার পরিমাণ মোট বিক্রির ৬৩ শতাংশেরও বেশি।এছাড়া কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় অঙ্কের জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ডিজেলের চাহিদা সবচাইতে বেশি হওয়ায় এই আমদানি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন 'হরমুজ প্রণালি' নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এই পথে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছিল বিএসসি ও বিপিসি। বিশেষ করে আমেরিকান চার্টারার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় গত মার্চ মাস থেকে দুটি বড় চালান আটকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় সৌদি আরব থেকে এই তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগর হয়ে সরাসরি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে, যা দেশের জ্বালানি মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে।


পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন : বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৪ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন : বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৪ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১৭তম বিধানসভা নির্বাচনের কারণে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। তবে এ সময় জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসাধারী যাত্রী ও ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমিত পরিসরে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার নির্বাচনের কারণে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সময়ে সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি ও চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।এর প্রভাবে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে পুনরায় বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।কোচবিহার জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত সিলগালা করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা বজায় রাখতে চ্যাংড়াবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন, ভোটের দিন, পরের দিন এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে চার দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সাইফুর রহমান জানান, ভারতের নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশিদের জন্য বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি চিকিৎসার জন্য ভিসাধারী যাত্রী এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকেরা যাতায়াত করতে পারবেন। এ ছাড়া নেপাল ও ভুটানের নাগরিকদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের উপকমিশনার মুহাম্মদ মহি উদ্দিন বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন উপলক্ষে বন্দর বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার চিঠিটিও তারা জমা দিয়েছেন।


টি-সিরিজে ইমরানের গান ‘তওবা ইশক তেরা’

টি-সিরিজে ইমরানের গান ‘তওবা ইশক তেরা’

বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল শুরু করলেন ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়। প্রথমবারের মতো ভারতের শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করলেন তিনি। এই ব্যানার থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে তার নতুন গান ‘তওবা ইশক তেরা’।শিল্পী নিজেই জানিয়েছেন, ২০ এপ্রিল টি-সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি উন্মুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংগীতাঙ্গনে সফলতার সঙ্গে কাজ করে আসা ইমরান মাহমুদুল একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে হাজির হচ্ছেন তিনি।‘তওবা ইশক তেরা’ গানটির কথায় রোমান্টিক আবহ তৈরি করেছেন বারিশ এবং সংগীতায়োজন করেছেন রূপক তিয়ারি।সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক সুর, নতুন ধাঁচের উপস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনার কারণে গানটি শ্রোতাদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।উল্লেখ্য, গত বছরই টি-সিরিজের সঙ্গে ইমরান মাহমুদুলের আনুষ্ঠানিক চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসে। তখন থেকেই ভক্তদের মধ্যে তার নতুন কাজ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে ‘তওবা ইশক তেরা’। জানা গেছে, এই ব্যানারে ইমরান মাহমুদুলের আরও কয়েকটি গান পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। ফলে দুই বাংলার সংগীতপ্রেমীদের জন্য সামনে আসছে নতুন নতুন চমক। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই যাত্রা ইমরান মাহমুদুলের সংগীত ক্যারিয়ারকে আরও বিস্তৃত করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে পরীক্ষার হলে এমপির ‘ফেসবুক লাইভ’

মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে পরীক্ষার হলে এমপির ‘ফেসবুক লাইভ’

শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করে কক্ষের ভেতর থেকে ‘ফেসবুক লাইভ’ করেছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার হোমনা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।‘অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে করা ওই লাইভে দেখা যায়, সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া বিদ্যালয়ের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠছেন। এরপর তিনি একটি কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি অন্য একটি কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সামনের বেঞ্চে বসা এক শিক্ষার্থীর কাছে গিয়ে জানতে চান, ‘পরীক্ষা সহজ হয়েছে কি না?’লাইভে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব তাজুল ইসলাম সংসদ সদস্যের কাছে এসে পরিচয় দিতে চাইলে তাকে নিজের কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য হাতের ইশারায় সরিয়ে দেন সংসদ সদস্য। এভাবে প্রায় ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড ধরে লাইভে যুক্ত থেকে বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন তিনি।এ ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার সচেতন মহল। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলমগীর খান সংবাদকে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ে। সে কারণেই হয়তো মন্ত্রী মহোদয় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। একজন সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করা অপ্রত্যাশিত। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’জানতে চাইলে হোমনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এমপি স্যার এসেছেন শুনে আমি দেখা করতে যাই। পরে প্রশ্নপত্রের কাজ থাকায় আমি চলে আসি। ফেসবুক লাইভের বিষয়টি আমার জানা নেই।’সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভিডিও করছিলেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি খেয়াল করেননি।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে কোনো জনপ্রতিনিধি কাউকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন না। সেখানে ফেসবুক লাইভ তো গুরুতর বিধিভঙ্গ। সংসদ সদস্য যদি এটি করে থাকেন, তবে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব।’


নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ খুনের নেপথ্যে ডাকাতি নাকি জমি বিরোধ

নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ খুনের নেপথ্যে ডাকাতি নাকি জমি বিরোধ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও নিহত পপি সুলতানার মায়ের অভিযোগে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি। ফলে ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে।গতকাল সোমবার মধ্যরাতে কোনো একসময় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের ছেলে পারভেজ (৯) ও তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। পুলিশ জানায়, হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং দুই শিশুকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল তিনি মান্দার চৌবাড়িয়া হাট থেকে গরু বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছিল, ওই টাকা ও বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা হানা দেয় এবং পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সবাইকে হত্যা করে।তবে নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করত। হাবিবুরের পাঁচ বোন মিলে আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনিদের মেরে ফেলেছে।’তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। হাবিবুরের বাবা তার পাঁচ মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি দিলেও একমাত্র ছেলে হাবিবুরকে বাড়িভিটাসহ প্রায় ১০ বিঘা জমি লিখে দেন। এই জমি বণ্টন নিয়েই ননদ ও তাদের স্বামীদের সঙ্গে হাবিবুরের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কয়েক দিন আগেও পপিকে মারধর করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং গ্রামে সালিশও হয়েছিল।মেয়ের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে সাবিনা বেগম বলেন, ‘রাতেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে বলছিল, ‘মা, তোমার নাতি পিঠা খাবে।’ আমি বললাম বানিয়ে দিও। সে বলল, ‘মা, রাত হয়ে গেছে, কাল বানাব।’ কে জানত এটাই শেষ কথা হবে!’নিয়ামতপুর থানা-পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ডাকাতি ও পারিবারিক বিরোধ—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।


রোয়াংছড়িতে মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিঃস্ব ৩ পরিবার

রোয়াংছড়িতে মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিঃস্ব ৩ পরিবার

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর ও একটি গরুর খামার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে খামারে থাকা তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাত আড়াইটার দিকে পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই তিনটি বসতঘর ও একটি গবাদিপশুর খামার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। আগুনে পুড়ে মারা যায় খামারে থাকা তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল।আগুনে কোনো মানুষ হতাহত না হলেও প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি করছেন।রোয়াংছড়ি ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক ইফতেখার উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।


পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ৩ যুবককে গলা কেটে হত্যা

পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ৩ যুবককে গলা কেটে হত্যা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় মানবপাচারকারী দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহতরা হলেন উত্তর শীলখালী এলাকার রবিউল হাসান (২০), মুজিব (৩০) ও নুরুল বাশার ওরফে কালু (২৬)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অজ্ঞাতনামা দুটি মানবপাচারকারী চক্রের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতদের প্রথমে অপহরণ করা হয় এবং পরে পিটিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। শুরুতে ঘটনাটি পাহাড়ি ডাকাতদের কাজ বলে মনে করা হলেও, পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে পাচারকারী চক্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হুমায়ুন কাদের বলেন, ‘সকালে পাহাড়সংলগ্ন গহীন এলাকা থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে একজন আমার আত্মীয়। এ ঘটনায় আরও অন্তত দুজন নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টেকনাফের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র সক্রিয়। এসব চক্রের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।


পতাকা ঢেকে প্রোটোকল ছাড়াই এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষামন্ত্রী

পতাকা ঢেকে প্রোটোকল ছাড়াই এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষামন্ত্রী

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে সেই ‘পুরোনো রূপে’ ঝটিকা সফর করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে তিনি উপজেলার জয়মণ্ডপ উচ্চবিদ্যালয় ও সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শনে যান।পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল ছিল না। এমনকি সরকারি গাড়ির পতাকাও ঢাকা থাকায় তার আগমনের বিষয়টি আগে থেকে টের পাননি কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনেকটা গোপনেই কেন্দ্রে প্রবেশ করে তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।সফরকালে জয়মণ্ডপ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের দুটি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকদের কাজে অবহেলা ও শিথিলতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় ওই দুই পরিদর্শককে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশনা দেন তিনি।পরিদর্শনকালে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলামসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলেননি মন্ত্রী।উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের শেষে এবং দুই হাজার সালের শুরুর দিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল বিরোধী ঝটিকা অভিযানের জন্য ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন এহছানুল হক মিলন। মানিকগঞ্জের এই সফর সেই পুরোনো স্মৃতিই মনে করিয়ে দিল স্থানীয়দের।


প্রশ্ন ফাঁসের কোনো আশঙ্কা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্ন ফাঁসের কোনো আশঙ্কা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

চলমান এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব বোর্ডে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ যথাযথভাবে আর্কাইভ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি পরবর্তীতে কোনো কেন্দ্র সম্পর্কে কোনো অভিযোগ আসে, তবে সেই সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।রাজধানীর ট্রাফিক জ্যাম বা যানজটের কারণে কোনো পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হলে তাদের প্রতি সদয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ট্রাফিকের কারণে দেরি হলে শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দ নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও আমাদের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"কিছু কিছু কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র না পাওয়া সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কয়েকটি জায়গায় কারিগরি সমস্যার কারণে এমনটি ঘটেছে। তিনি বলেন, "কিছু জায়গায় প্রিন্টআউট সমস্যা ছিল আবার কোথাও বিদ্যুৎ না থাকায় ডাউনলোড করা সম্ভব হয়নি বলে আমরা শুনেছি। তবে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে প্রবেশপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।"সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।  


কড়াকড়ির চরমে নির্বাচন কমিশন: ডাবল ভেরিফিকেশন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি ক্ষমতা

কড়াকড়ির চরমে নির্বাচন কমিশন: ডাবল ভেরিফিকেশন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি ক্ষমতা

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। কিন্তু তার আগেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্তে সরব নির্বাচন কমিশন। সাইলেন্স পিরিয়ড, ১০০ মিটারের নিষেধাজ্ঞা, ১৬৩ ধারা জারি সব মিলিয়ে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়।প্রথম দফার ভোটের আগে থেকেই শুরু হচ্ছে সাইলেন্স পিরিয়ড, যেখানে কোনওরকম নির্বাচনী প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক সেরেছে কমিশন। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি জমায়েত রুখতে ১৬৩ ধারা কার্যকর করতে হবে। বিশেষ করে যে সব এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক বেশি, সেই সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সেই এলাকা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুথের আশপাশে অযথা ভিড় বা জমায়েত রুখতে কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। ভোটার নন এমন কাউকে বুথের ভিতরে বা আশেপাশে থাকতে দেওয়া হবে না।তবে এবারের ভোটে সবথেকে বড় পরিবর্তন হিসেবে সামনে এসেছে “ডাবল আইডেন্টিফিকেশন” ব্যবস্থা। ভোট দিতে গেলে ভোটারদের দু’দফায় পরিচয় যাচাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। প্রথমে বুথের বাইরে প্রাথমিক যাচাই, তারপর ভিতরে গিয়ে আবার ভোটার তালিকার সঙ্গে নাম মিলিয়ে পরিচয়পত্র যাচাই, আঙুলে কালি লাগানো এবং রেজিস্টারে সই করার পরেই মিলবে ভোট দেওয়ার অনুমতি। কমিশনের দাবি, ভুয়ো ভোট রুখতেই এই কড়াকড়ি। যদিও সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, এতে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে।এরই মধ্যে আরও বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এবারের ভোটে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশের ওপর নির্ভর না করেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তারা। কোথাও অশান্তি বা বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হলে ঊর্ধ্বতন নির্দেশের অপেক্ষা না করেই লাঠিচার্জের মতো পদক্ষেপ করা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।শুধু তাই নয়, নিয়মিত রুট মার্চের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারি বাড়াতে তাদের গাড়িতে সিসিটিভি বসানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে বাইক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং হাওড়া জেলায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি লাঠিও তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ লাঠি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। প্রশাসনিক স্তরে দফায় দফায় বদলি এবং কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগও। অনেকেই মনে করছেন, ভোট দিতে গিয়ে যেন বারবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে এই কড়া অবস্থান কতটা কার্যকর হয়, নাকি তা সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার সকলের।  


মাঠে মমতার জনসংযোগ, রাস্তায় বিজেপির শক্তি প্রদর্শন—নন্দীগ্রামে রক্তক্ষয়

মাঠে মমতার জনসংযোগ, রাস্তায় বিজেপির শক্তি প্রদর্শন—নন্দীগ্রামে রক্তক্ষয়

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে প্রচারের পারদ আর সেই সঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও। একদিকে জনসংযোগে জোর দিচ্ছে শাসক শিবির, অন্যদিকে শক্তি প্রদর্শনে নামছে বিরোধীরা। এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গোটা রাজ্যের নির্বাচন ময়দান।শাসক দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর নেত্রী মমতা ব্যানার্জী এবার প্রচারে এনেছেন ভিন্নধর্মী কৌশল। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ‘ডোর টু ডোর’ প্রচারের মাধ্যমে সরাসরি ভোটারদের দরজায় পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। বড় জনসভা বা মিছিলের বদলে আবাসনে আবাসনে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের সমস্যা শোনা এবং উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি জনসংযোগকে আরও নিবিড় করার চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ কলকাতার সেক্সপিয়র সরণি থেকে লর্ড সিনহা রোড প্রতিটি এলাকায় ছোট ছোট বৈঠক এবং সরাসরি মতবিনিময় তাঁর প্রচারের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে, বিরোধী শিবির বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি জোর দিচ্ছে বড় রোডশো, জনসভা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সামনে রেখে শক্তি প্রদর্শনে। একইসঙ্গে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মারক্সিস্ট )-এর জোটও সভা, পদযাত্রা এবং সংগঠনভিত্তিক প্রচারে সক্রিয়। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে জনসভা, মিছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিড়।তবে এই জোরদার প্রচারের আবহেই বাড়ছে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম-এ বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয় বলে অভিযোগ। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।নন্দীগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা, আর ভোটের মুখে সেখানে উত্তেজনা নতুন নয়। তবে এবারের সংঘর্ষ রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনী আবহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়ার কৌশল, অন্যদিকে বৃহৎ জনসমর্থনের প্রদর্শন—এই দুই ভিন্ন ধারার প্রচারের মাঝেই বাড়ছে রাজনৈতিক মেরুকরণ।এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সংঘর্ষ রোখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।সব মিলিয়ে, বাংলার নির্বাচনী লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রচারের ঝাঁজ যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে সংঘর্ষের আশঙ্কা। শেষ পর্যন্ত কোন কৌশল ভোটারদের মন জয় করবে—সরাসরি জনসংযোগ, নাকি বড় মাপের শক্তি প্রদর্শন সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।  


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ ঘিরে বিতর্ক: আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ ৭০০ বিশিষ্ট নাগরিক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ ঘিরে বিতর্ক: আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ ৭০০ বিশিষ্ট নাগরিক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। দেশের প্রায় ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক যাঁদের মধ্যে প্রাক্তন আমলা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা রয়েছেন এই অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর কাছে লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ। অভিযোগকারীদের দাবি, দূরদর্শন , সংসদ টিভি এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও-র মতো সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে সেই ভাষণ প্রচার করা হয়, যেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন এই ধরনের ভাষণ স্পষ্টভাবেই নিয়মভঙ্গের শামিল।এই বিতর্কের সূত্রপাত কেন্দ্র সরকারের আনা মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, পরদিনের ভাষণে বিলের গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশেষ করে আসন পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বিরোধী দলগুলিকে ‘মহিলা বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। বিশেষত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-কে নিশানা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।এর আগেই এই একই ইস্যুতে সরব হয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বামপন্থী দলগুলিও চিঠি দিয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত।কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রায় আধঘণ্টার ভাষণে একাধিকবার কংগ্রেসকে নিশানা করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারাও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবার সেই অভিযোগেই নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিশিষ্ট নাগরিকদের এক বৃহৎ অংশ।এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হুগলির তারকেশ্বরের জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের দলের স্বার্থে বেআইনি প্রচার চালাচ্ছেন।তবে অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি । বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছিল সম্পূর্ণ নীতিগত ও বিষয়ভিত্তিক, যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ বলেই দাবি তাদের। পাশাপাশি, সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করাও নিয়মবিরুদ্ধ নয় বলে স্পষ্ট করেছে শাসকদল।এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।  


ধামরাইয়ে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কারাগারে

ধামরাইয়ে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কারাগারে

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

অস্ত্রসহ সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

অস্ত্রসহ সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে গম পাচার: ফের ইডির জালে নায়িকা নুসরাত

বাংলাদেশে গম পাচার: ফের ইডির জালে নায়িকা নুসরাত

সৌদি থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের পথে 'এমটি নিনেমিয়া'

সৌদি থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের পথে 'এমটি নিনেমিয়া'

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন : বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৪ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন : বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৪ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

টি-সিরিজে ইমরানের গান ‘তওবা ইশক তেরা’

টি-সিরিজে ইমরানের গান ‘তওবা ইশক তেরা’

মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে পরীক্ষার হলে এমপির ‘ফেসবুক লাইভ’

মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে পরীক্ষার হলে এমপির ‘ফেসবুক লাইভ’

নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ খুনের নেপথ্যে ডাকাতি নাকি জমি বিরোধ

নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ খুনের নেপথ্যে ডাকাতি নাকি জমি বিরোধ

রোয়াংছড়িতে মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিঃস্ব ৩ পরিবার

রোয়াংছড়িতে মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিঃস্ব ৩ পরিবার