সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

উত্তরে পুশ-ইন ঠেকালো বিজিবি, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ৭১

উত্তরে পুশ-ইন ঠেকালো বিজিবি, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ৭১

লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নারী-শিশুসহ অন্তত ৭১ জনকে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালালেও তারা সফল হয়নি।শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন জেলার বিভিন্ন সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটে। এখনও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অপেক্ষা করছে ওই সব নারী-পুরুষ ও শিশুরা।লালমনিরহাট: জেলার বড়খাতা, পয়ষট্টিবাড়ি, দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপি এলাকায় ভোর ৫টার দিকে বিএসএফ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ঈমাম জানান, ‘পুশ-ইন করা নারী-পুরুষদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন এবং পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। অন্যদিকে, ১৫ বিজিবির অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপিতে আরও ১২ জনের উপস্থিতি লক্ষ্য করে টহল দল। বিজিবি সদস্যরা মাইকে সতর্ক করলে তারা ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।পঞ্চগড়: সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।  নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলেও পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।শূন্যরেখায় পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু অপেক্ষা করছে। এ ঘটনায় সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টার পর ২৮ জন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ২০৩/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ২৮ জনকে (১২ পুরুষ, ১০ নারী, ৬ শিশু) পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশ-ইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে নেয়।বিজিবি জানায়, তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে ওই ২৮ জন ভারতের অভ্যন্তরে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছেন।


ঢাকা ২০৫০: বাতাসে বিষ, বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিক!

ঢাকা ২০৫০: বাতাসে বিষ, বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিক!

আজ থেকে আড়াই দশক পর কেমন হবে রাজধানী ঢাকা? একটু ভাবুন তো। ঠিক তখন ২০৫০ সালের ৫ জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা খুললেন। অবাক বিস্ময়ে দেখলেন, বাইরে বৃষ্টি নেই, গাছ নেই। শুধু ধূসর আকাশ আর ক্লান্ত রোদ। ঢাকা তখন আর ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ নয়- ‘প্রাচ্যের চুল্লি’।শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বেরুতে হলো মুখোমুখি হতে হবে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার।চোখমুখ ঢেকে যাচ্ছে ধুলোর প্রলেপে। ফুসফুস শক্ত হয়ে আসছে। কেন? কারণ, চারপাশের বাতাসে অক্সিজেন নয়, ভাসছে নাইট্রোজেন অক্সাইড আর সূক্ষ্ম বিষাক্ত মেঘ।পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০৪৭ সালের প্রতিবেদনে দেখাচ্ছে, ঢাকার সবুজ আচ্ছাদন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শতাংশে। ২০২৫ সালের তুলনায় কমেছে ৭০ শতাংশ! গাছ নেই, তাই ধুলো ধরে রাখার কেউ নেই। পুরো শহর যেন এক মরুকান্টার। ইউনিসেফের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের নবজাতকেরা জন্ম থেকেই ‘কৃত্রিম ফুসফুস’ নিয়ে বাঁচতে শিখছে। স্কুলের ছাদেও লাগানো হয়েছে অক্সিজেন বুথ।মেট্রো রেল বেড়েছে বটে তবে দখল কমেনি। ২০৩৮ সালের পর থেকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে আর যানবাহন চলে না; সেগুলো নোংরা, প্লাস্টিক নদীতে পরিণত হয়েছে। কারণ নগর পরিকল্পনাবিদেরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেও নিষ্কাশন ব্যবস্থা আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ থামাতে পারেনি কেউ।মূল সমস্যা কিন্তু পানির। বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর মুখ একেবারে বন্ধ। ২০৩৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছিল ‘এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণের নামে। এরপর চূড়ান্ত রূপ নেয় বিপর্যয়।সকাল ১০টায় পানি না পেয়ে এলাকায় এলাকায় হৈ চৈ। পানির ট্যাংকলরি এসেছে। চারদিকে সোয়া লিটার পানির বোতলের জন্য হুড়োহুড়ি। আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র ‘এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ লেটার্স’-এর প্রক্ষেপণ বলে, ২০৫০ সালের মধ্যেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাবে ২০৫ মিটার নিচে। বাংলার চিরচেনা ‘টিউবওয়েল’ এখন শুধু জাদুঘরেই দেখতে পাওয়া যায়।বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্লাইমেটিক চেঞ্জ’ নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণের ১২ জেলার ৯০ শতাংশের বেশি জনপদ ইতোমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।লাখ লাখ মানুষ ছুটেছে ঢাকায়। অথচ ঢাকা তো নিজেই দূষণের বিষে ডুবে যাওয়া নগরী।তখন ঠিক ঠিক মনে পড়বে ২০২৬ সালের মিডিয়ার ফিচারগুলো। ‘একটুখানি বৃষ্টিতেই ডুবছে রাজপথ’, ‘এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল মতিঝিল’।নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম জানে, সেগুনবাগিচায় এককালে পা ভিজিয়ে পার্কের ঘাটে বসা যেত; আজ সেটা নাকি নির্মল প্লাস্টিক আবর্জনার স্তূপ।পুরান ঢাকার গলির মুখ থেকে মায়াবী জলাশয়গুলো পুরোপুরি তলিয়ে গেছে কালভার্ট আর পাকা ফ্লাইওভারের নিচে। খাল নেই- সব ‘ভূগর্ভস্থ ড্রেন’, নাম যা-ই থাক, কাজ করে না। তাই যখন নামে বৃষ্টির ফোঁটা, তখন নর্দমার পানি রাস্তায় ভেসে ওঠে। ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ডেঙ্গু- রোগগুলো ২০৫০ সালে আর ‘আতঙ্ক’ নয়; নিত্যদিনের সঙ্গী।বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ২০৫০ সালের এই দৃশ্য ঠেকানো এখনো সম্ভব। প্রয়োজন আজ থেকেই ‘গ্রিন বিল্ডিং’ ও ‘পানি সংরক্ষণ’ আইনের কঠোর প্রয়োগ। ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমানো।অপরিকল্পিত নগরবিস্তার বন্ধ করা।


কিয়েভে ন্যাটো প্রধানের আকস্মিক সফর

কিয়েভে ন্যাটো প্রধানের আকস্মিক সফর

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলায় যখন কিয়েভ ও দনিপ্রোসহ বিভিন্ন শহর রক্তাক্ত, ঠিক তখনই ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখলেন সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে। বুধবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তার এই আকস্মিক সফর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে। রুশ আগ্রাসনের মুখে এই সফরকে পশ্চিমাদের এক জোরালো রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইউক্রেনের জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছে।ন্যাটো প্রধানের একটি ছবি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউক্রেনীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ লিখেছে, “আজ কিয়েভ রেলওয়ে স্টেশনে আমরা ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে সানন্দে স্বাগত জানাচ্ছি। পূর্ববর্তী সব সফরের মতোই এই সফরটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দেশের প্রতি জোটের পক্ষ থেকে সংহতি ও সমর্থনের একটি নিদর্শন।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বুক আকুতি আর কৃতজ্ঞতা। রুশ হামলায় লণ্ডভণ্ড রেলওয়ে স্টেশনে যখন ন্যাটোর শীর্ষ নেতার পা পড়ে, তখন তা কেবল একটি কূটনৈতিক সফর থাকে না, হয়ে ওঠে এক চরম মানবিক সংহতির প্রতীক।নিরাপত্তা ও সংহতির এক নতুন সমীকরণএই আকস্মিক সফরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজের দেশের আকাশ ও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোর আবেদন জানিয়ে আসছেন জেলেনস্কি। এই সফর সেই সহায়তার পথকে আরও মসৃণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, উত্তর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে বিশ্বনেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সমবেত হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই কিয়েভ ও দনিপ্রোতে রুশ হামলায় ২৩ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়। রক্তের দাগ শুকানোর আগেই কিয়েভে এসে পৌঁছান মার্ক রুটে। ধোঁয়া আর কান্নার জনপদে দাঁড়িয়ে ন্যাটো প্রধানের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে, যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও ইউক্রেন আজ একা নয়। এই সফর কেবল সামরিক কৌশলের অংশ নয়, বরং এক পৈশাচিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক মানবিক গল্প।


ফুঁসে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগর: ‘এল নিনো’র চোখরাঙানিতে চরম আবহাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব

ফুঁসে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগর: ‘এল নিনো’র চোখরাঙানিতে চরম আবহাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব

প্রকৃতির চেনা রূপ যেন এক লহমায় বদলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জমতে থাকা তীব্র উত্তাপ এবার বিশ্বজুড়ে বয়ে আনতে পারে এক চরম জলবায়ু বিপর্যয়। ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিশেষ রূপ ‘এল নিনো’র প্রভাবে আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি এবার আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা ৮০ শতাংশ এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে এর শক্তি সঞ্চয়ের আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ।দোরগোড়ায় জলবায়ু সতর্কতা: গুতেরেসের আর্তিসাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ফিরে আসা এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়াটি এবার মানব সভ্যতার জন্য বড় পরীক্ষা নিতে চলেছে। এর স্থায়িত্ব সাধারণত নয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত হয়, যা বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে এক বিশাল ওলটপালট তৈরি করে। চলমান এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন খোদ জাতিসংঘ প্রধান। এক ভিডিওবার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, "বিজ্ঞান স্পষ্ট, আগামী মাসগুলোতে ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বার্তা নিয়ে এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। বিশ্ববাসীকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।"খরা আর ঘূর্ণিঝড়ের চাদরে ঢাকবে পৃথিবীডব্লিউএমওর তথ্যমতে, এই এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন সাগরের জল উপচে পড়বে, অন্য প্রান্ত তখন পুড়বে তীব্র খরায়। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে দেখা দিতে পারে তীব্র খরা ও পানির হাহাকার। এছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হ্যারিকেন বা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এই আসন্ন সংকটের গভীরতা বুঝাতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, "এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে তীব্র রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তা সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে।" প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলায় বিশ্ব কতটা প্রস্তুত, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


অপূর্ব-নিহার ‘অচেনা আমি’

অপূর্ব-নিহার ‘অচেনা আমি’

সম্প্রতি দর্শকদের জন্য নতুন নাটক নিয়ে হাজির হলেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। ‘অচেনা আমি’ শিরোনামের এই নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন অপূর্ব নিজেই। নাটকটিতে অপূর্বর বিপরীতে অভিনয় করেছেন নাজনীন নাহার নিহা। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে তারিক আনাম খানকে। বসুন্ধরা সিমেন্ট নিবেদিত ‘অচেনা আমি’ প্রকাশ পায় ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। নির্মাতার ভাষ্য, রোমান্টিক ঘরানার গল্পে নির্মিত এই নাটকে প্রেমের পাশাপাশি মানুষের জীবনের উপলব্ধি ও প্রিয়জনকে হারিয়ে আবার খুঁজে পাওয়ার আবেগঘন গল্প উঠে এসেছে। অংশু বলেন, “এ ধরনের কাজ আগে করা হয়নি। অপূর্ব যখন গল্পটি আমার সঙ্গে শেয়ার করে, তখনই ভালো লেগে যায়। গল্প শুনেই এর ভিজ্যুয়াল পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছিলাম।” এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো নাটকের চিত্রনাট্য লিখলেন অপূর্ব। এর আগে নিজের পরিচালিত একটি টেলিফিল্মের চিত্রনাট্য করেছিলেন তিনি। নির্মাতা আরও বলেন, “অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প বলার ক্ষেত্রেও অপূর্ব দারুণ দক্ষ। তার গল্পে যেমন আবেগ ও বার্তা থাকে, তেমনি থাকে সিনেমাটিক আবহ। ‘অচেনা আমি’তেও দর্শক তেমন কিছুই দেখতে পাবেন।”এদিকে নাটকের পোস্টার প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপূর্ব লিখেছেন, “সব চেহারাই কি চেনা? নাকি সব চেনা মানুষের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে এক অচেনা আমি? ভালোবাসা আর আত্মপরিচয়ের এক অদ্ভুত সমীকরণ নিয়ে আসছি আমরা।”


হাঁড়িভাঙ্গায় ২০০ কোটি টাকার স্বপ্ন, বাজারে ২০ জুন

হাঁড়িভাঙ্গায় ২০০ কোটি টাকার স্বপ্ন, বাজারে ২০ জুন

দেশের ঐতিহ্যবাহি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম আগামী ২০ জুন থেকে বাজারে আসা শুরু হবে। দেশে উৎপাদিত একমাত্র আঁশবিহিন সুস্বাদু এই ফল দেশে উৎপাদিত সব আমের সেরা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এবারেও আম পুষ্ট হবার আগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে ২৫ কোটি টাকারও বেশি আমের রপ্তানি অর্ডার পেয়েছেন বাগান মালিকরা।তবে এবার বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে ফলন কম হবার আশঙ্কা করছেন আমচাষিরা। তারা বলছেন, এবারের বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতার কারণে ফলন ভালো হচ্ছে না।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রংপুরে ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে।যা গত বছরের চেয়ে ২শ হেক্টর বেশি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছেন বাগান মালিক ও চাষিরা। যাতে অন্তত ২শ কোটি টাকার আম তারা বিক্রি করতে পারবেন।এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাঁড়িভাঙ্গা আম পুরোপুরি পুষ্ট হতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আমের চেয়ে বেশি সময় লাগে।ফলে আগামী ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আকার অন্যান্য বারের চেয়ে কাঙ্ক্ষিত হয়েছে।ন্যায্য মূল্য পেলে আমচাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তাছাড়া অন্যান্য বারের চেয়ে এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি হবে বলে আশা করছেন আম ব্যবসায়ীরা।হাঁড়িভাঙ্গার ইতিহাসরংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লালমাটি বলে পরিচিত পদাগঞ্জ এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আম প্রথম উৎপাদন করেন সালাম নামের এক চাষি।সম্পূর্ণ আঁশমুক্ত আর দারুণ সুস্বাদু হওয়ায় আমটির চাহিদা এখন উত্তরাঞ্চল আর দেশ ছাপিয়ে সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে।প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার আম রপ্তানি করছেন চাষিরা।ফলে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর, পদাগঞ্জ, কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সর্দ্দারপাড়া, সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করণী ইউনিয়নের কাঁটাবাড়ি, পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই এখন গড়ে উঠেছে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্যিক বাগান।মূলত, লালমাটি এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের যেমন ভালো ফলন হয়, তেমনি অনেক বেশি সুস্বাদুও। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠেছে।আমচাষিরা বলছেন, বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমের অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।ক্ষুদ্র চাষিদের অভিযোগ, আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন।আমচাষিদের অভিযোগ, বড় বড় ব্যবসায়ী আগাম টাকা দিয়ে আমের বাগান কিনে নেয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন বেশি।এভাবেই হাঁড়িভাঙ্গা আম বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তত ৯০টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে। এই আম চাষ করে হাজার হাজার পরিবার এখন একেবারেই স্বাবলম্বি।সরেজমিনে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ ও খোড়াগাছ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি বাগান ছাড়াও প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ১০-১৫টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ। আবার কোনো কোনো বাড়ি ঘিরে শুধুই আমগাছ। আম পাকা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একই এলাকার আমচাষি মনোয়ার হোসেন, রহমত আলী, আয়েশা বেগমসহ অনেকেই জানালেন, ১০ বছর আগেও এসব এলাকা ছিলো অভাবী মানুষে ভরা। এখন সেই অভাব দূর হয়েছে। সচ্ছলতা এসেছে ঘরে ঘরে।এক সময় তিন বেলা তো দূরের কথা এক বেলা খাবারও জুটতো না।মাটি লাল হওয়ায় বছরে একবার মাত্র ধান উৎপাদন হতো। বাকি ৮ মাস পতিত পড়ে থাকতো। তবে হাঁড়িভাঙ্গা আম এসে তাদের ভাগ্যের চাকা বদলে দিয়েছে। এখন এক ফসলি ধানী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক আম বাগান।বছরে আম বিক্রি করে সবার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের বাস্তুভিটাতেই হাঁড়িভাঙ্গা আম গাছ লাগিয়ে উৎপাদিত আম বিক্রি করে সচ্ছলতা এনেছেন।তবে চাষিদের সবার দাবি একটাই, আম সংরক্ষণে ব্যবস্থা করা। কারণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় পানির দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হন।এ ব্যাপারে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করছেন চাষিরা।হাঁড়িভাঙ্গা আমের সবচেয়ে বড় বাগান মালিক রমজান আলী জানান, ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজন আড়তদার এবার অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং করছেন। তার মতো আরও অন্তত ৪০টি বাগান মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আপাতত ২০ কোটি টাকার আমের অর্ডার মিলেছে। তবে রপ্তানি এবার ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা চাষিদের।একই কথা বললেন আমচাষি রবিউল ইসলাম।রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, সরাসরি বাগান থেকে যাতে আম কিনতে পারা যায়, সেজন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ খোলা হবে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিসগুলো পদাগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অফিস স্থাপন করেছে।তারা বাগান থেকে আম সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা রেখেছে।জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, কৃষিবিভাগসহ সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, এবার অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও তা অস্বাভাবিক নয়। এতে ততবেশি ক্ষতি হবে না বলেও মনে করছেন হাবিবুর রহমান।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিপণন বিভাগের উপ-পরিচালক সিফাত জাহান জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের ঐতিহ্যকে আরো বেশি করে দেশে বিদেশে পরিচিত করেছে। এবার আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে ফলন একটু কম হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। আশা করা যায়, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবার চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।


মানবতা ও ত্যাগের গল্পে কঙ্গনার নতুন চমক

মানবতা ও ত্যাগের গল্পে কঙ্গনার নতুন চমক

২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে নতুন বলিউড চলচ্চিত্র ভারত ভাগ্য বিধাতা। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় একেবারে ভিন্নধর্মী চরিত্রে হাজির হচ্ছেন কঙ্গনা রনৌত। তিনি অভিনয় করেছেন একজন নার্সের ভূমিকায়, যিনি চরম সংকটের মুহূর্তে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সিনেমাটির ফার্স্ট লুক ও মোশন পোস্টার। পোস্টারে ধ্বংসস্তূপ ও আগুনের মাঝ দিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যায় কঙ্গনাকে। মুখে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ নিয়ে নার্সের পোশাকে তিনি যেন মানবতার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন—যিনি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেও দায়িত্ব পালন করে যান।ফার্স্ট লুক প্রকাশের সঙ্গে একটি আবেগঘন বার্তাও শেয়ার করেন কঙ্গনা। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বিশেষ কিছু করেও তারা সাধারণ মানুষের মতোই থেকে যান, অথচ তাদের অবদান অনেক সময় অগোচরেই থেকে যায়।সিনেমাটি ২০০৮ সালের সেই বিভীষিকাময় রাতের একটি কম আলোচিত অধ্যায় তুলে ধরবে। বিশেষ করে কামা অ্যান্ড অ্যালবলেস হাসপাতাল-এর চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সাহসিকতার গল্প এতে স্থান পেয়েছে। হামলার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা শত শত রোগীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন, যা মানবতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।সিনেমাটি প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, “আমরা প্রায়ই বীরত্বকে বড় পরিসরে দেখি, কিন্তু প্রকৃত সাহস অনেক সময় নিঃশব্দে কাজ করে। সংকটের মুহূর্তে যারা দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় এবং অন্যদের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, এই গল্প তাদেরই।”তার ভাষায়, ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ শুধু একটি ঘটনার পুনর্কথন নয়; এটি মানবতা, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও ঐক্যের এক গভীর দলিল।চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মনোজ তাপাদিয়া। এতে কঙ্গনার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গিরিজা ওক, স্মিতা তাম্বে, অমৃতা নামদেভ, এষা দে, প্রিয়া বের্দে, আশা শেলার, সুহিতা থাত্তে, রসিকা আগাশে, আদিত্য মিশ্র এবং জাহিদ খান। আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গনার ইমার্জেন্সি, তেজস, চন্দ্রমুখী ২, ধাকড় এবং থালাইভি প্রত্যাশিত বক্স অফিস সাফল্য পায়নি। ফলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ কঙ্গনা রনৌতের ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।


রুবার কণ্ঠে নতুন গান ‘মেঘে ঢাকা চাঁদ’

রুবার কণ্ঠে নতুন গান ‘মেঘে ঢাকা চাঁদ’

প্রকাশিত হয়েছে সংগীতশিল্পী রুবা মজুমদার-এর নতুন গান ‘মেঘে ঢাকা চাঁদ’। প্রেম, অপেক্ষা ও না-বলা অনুভূতির আবহে নির্মিত গানটি ইতোমধ্যেই শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেছে।গানটির কথায় উঠে এসেছে মনের দ্বিধা কাটিয়ে প্রিয় মানুষকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেওয়ার আহ্বান। ‘রেখো না দ্বিধা মনে, বলে দাও কানে কানে’— এমন আবেগঘন কথামালার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে প্রেম, প্রত্যাশা এবং অনুভূতি প্রকাশের সৌন্দর্য।‘মেঘে ঢাকা চাঁদ’ গানের কথা ও সুর করেছেন এস. আই. খোকন। সংগীতায়োজন করেছেন রাজন সাহা। আর গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন রুবা মজুমদার।নতুন গান প্রসঙ্গে রুবা বলেন, “ভীষণভাবে চাই গানটা মানুষের কাছে পৌঁছাক। মানুষ বাংলা গানের চর্চা ও অভ্যাসে থাকুক। আরও ভালো ভালো গান করতে চাই, সুন্দর গান গাইতে চাই। আমাদের বাংলা সিনেমাতেও গান করার ইচ্ছা রয়েছে।”গানটির ভিডিও নির্মাণ ও পরিচালনা করেছেন এমডি সাইদুজ্জামান পলাশ এবং রুবা মজুমদার। ভিডিওটির চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন পলাশ।সংগীতাঙ্গনে রুবা মজুমদার একটি পরিচিত নাম। তিনি সরকারি সংগীত কলেজ থেকে সংগীতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি ছায়ানট-এ সাত বছর ফোক ও ধ্রুপদি সংগীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।তার নেতৃত্বে রয়েছে ঢাকা ফোকস নামের একটি ব্যান্ড, যারা মূলত ফোক ফিউশন ও কান্ট্রি মিউজিক নিয়ে কাজ করে। ২০১৫ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোক ফেস্ট-এ গান গেয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে আরটিভি ফোক স্টেশন-এর মাধ্যমে আরও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।এরই মধ্যে জি-সিরিজ এবং লেজার ভিশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার বেশ কয়েকটি মৌলিক ও ফোক গান। পাশাপাশি নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ করে আসছেন এই শিল্পী। বর্তমানে নতুন কিছু মৌলিক গান নিয়ে কাজ করছেন রুবা মজুমদার। পাশাপাশি ‘ঢাকা ফোকস’ ব্যান্ডের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্টেজ শোতেও অংশ নিচ্ছেন তিনি। নতুন গান ‘মেঘে ঢাকা চাঁদ’ নিয়েও শ্রোতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা তার।


উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে তিনি উখিয়ার বালুখালীসহ বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।এর আগে দুপুরে তিনি বিমানযোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান। সেখান থেকে বিকেল ৪টায় তিনি সরাসরি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। পরিদর্শনের শুরুতেই তিনি তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।বালুখালী ক্যাম্প থেকে হাকান ফিদান ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান ও আন্তর্জাতিক সহায়তার বিষয়েও তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন।সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ঘিরে ক্যাম্প এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তার সফর সম্পন্ন হয়েছে।দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিদর্শনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তার দেশের জোরালো সমর্থন আবারও প্রকাশ করেন।


কুমিল্লায় বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ

কুমিল্লায় বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ

কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসেই জেলায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ৭ জন, যার মধ্যে শুধু মে মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংক্রমণের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে অধিকাংশ সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অনিরাপদ যৌন আচরণের মাধ্যমে।কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি/এইডস এইচটিসি-এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের এইচআইভি পজিটিভ এসেছে। মে মাসে মৃত তিনজনের বয়স যথাক্রমে ২১, ৩৫ ও ৪৯ বছর। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে কুমিল্লার ৩৮৫ জনসহ মোট ৬১৫ জন আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।এআরটি সেন্টারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের প্রধান উৎস এখন অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। চলতি বছর শনাক্ত হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্ক, ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৩ জন বিবাহিত সঙ্গীর মাধ্যমে এবং ২ জন প্রবাসে থাকাকালে সংক্রমিত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি (৯১ জন) সংক্রমিত হয়েছেন পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সংক্রমণের হার বেশি থাকলেও এখন যৌনবাহিত সংক্রমণই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২১ বছর বয়সী এক মৃত যুবকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং আক্রান্তের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরীক্ষায় তিনিও পজিটিভ শনাক্ত হন। তবে তাদের একমাত্র সন্তানটি ভাগ্যক্রমে আক্রান্ত হয়নি। সামাজিক ও পারিবারিক বাধার মুখেও তিনি এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘সামাজিক লজ্জা ও গোপনীয়তার কারণে অনেকে সময়মতো পরীক্ষা করাতে আসেন না। ফলে রোগটি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হলেও এই সেবার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা গত ২ বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তারপরও মানবিক কারণে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনা জরুরি।


‘মায়া পাখি’তে অনবদ্য শিরতাজ জেবিন

‘মায়া পাখি’তে অনবদ্য শিরতাজ জেবিন

এই প্রজন্মের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী শিরতাজ জেবিন। বেছে বেছে নাটকে অভিনয় করে তিনি ইতোমধ্যেই দর্শকের নজর কেড়েছেন। এবারের ঈদে প্রচারিত আলোচিত নাটক মায়া পাখি-তে ‘সুমাইয়া’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।নাটকে সুমাইয়া চরিত্রটি কিছুটা নেতিবাচক হলেও চ্যালেঞ্জিং এই চরিত্রে অভিনয় করতে বেশ আগ্রহী ছিলেন জেবিন। তার মতে, যে চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, সেই ধরনের চরিত্রেই কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।জাকারিয়া শৌখিন রচিত ও পরিচালিত ‘মায়া পাখি’ নাটকে আরও অভিনয় করেছেন শাহেদ শরীফ খান, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব এবং নাজনীন নাহার নিহা। গল্পে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুমাইয়া ও মায়ার মধ্যে বসের আস্থাভাজন হওয়ার প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। একপর্যায়ে মায়ার কাছে পিছিয়ে পড়লেও নিজের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করে সুমাইয়া। নাটকের শেষ পরিণতি জানতে হলে পুরো নাটকটি দেখতে হবে।নাটকটি প্রসঙ্গে শিরতাজ জেবিন বলেন, “অভিনয়ে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল শৌখিন ভাইয়ের হাত ধরেই। তার ‘এক মুঠো প্রেম’ নাটকের মাধ্যমে আমার অভিষেক ঘটে। পরে ‘সুইট কিস’ নাটকে অভিনয় করে দর্শকের নজরে আসি। তাই শৌখিন ভাইয়ের কোনো নাটকের প্রস্তাব পেলে গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়ি এবং কাজ করার চেষ্টা করি।”তিনি আরও বলেন, “মায়া পাখি মূলত করপোরেট জীবনের অন্ধকার দিক নিয়ে নির্মিত একটি গল্প। নাটকটি ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। আমার চরিত্রটিও আলোচনায় এসেছে। চরিত্রটি কিছুটা নেতিবাচক হলেও দর্শকের কাছ থেকে ভালো-মন্দ মিলিয়ে যে প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি, সেটিই একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন শিরতাজ জেবিন। এদিকে গত ১৮ মে ছিল তার জন্মদিন। তবে এবার জন্মদিনে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করেননি তিনি। বরং রাজধানীর বসুন্ধরার একটি এতিমখানায় শিশুদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং পুরো আয়োজনের ব্যয় নিজেই বহন করেন। অভিনয়, শিক্ষাজীবন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে শিরতাজ জেবিন নিজেকে গড়ে তুলছেন নতুন প্রজন্মের একজন সম্ভাবনাময় শিল্পী হিসেবে।


সন্ধ্যা সাতটার পরও খোলা থাকবে সিনেমা হল

সন্ধ্যা সাতটার পরও খোলা থাকবে সিনেমা হল

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার আবারও বিপণিবিতান ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। ফলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার যে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেটি আর কার্যকর থাকছে না।তবে এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকছে দেশের সিনেমা হলগুলো। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি জানিয়েছে, শপিংমলের ভেতরে থাকা মাল্টিপ্লেক্স ও একক প্রেক্ষাগৃহগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তাদের প্রদর্শনী চালিয়ে যেতে পারবে। ফলে সন্ধ্যা ৭টার পরও দর্শকরা সিনেমা উপভোগের সুযোগ পাবেন।এ বিষয়ে হলমালিকদের সংগঠনের সভাপতি আওলাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের পরের সময়টিই সিনেমা ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রযোজক, পরিচালক ও হলমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের কাছে সিনেমা হল চালু রাখার আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, শপিংমল নির্ধারিত সময়ে বন্ধ হলেও সিনেমা প্রদর্শনের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং দর্শকরা আগের মতোই সিনেমা দেখতে পারবেন।এদিকে এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আটটি নতুন সিনেমা। এর মধ্যে রয়েছে রকস্টার, রইদ, বনলতা সেন, মালিক, পিনিক, অফিসার, মাসুদ রানা এবং তছনছ। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের ছুটিতে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর দর্শক উপস্থিতি বজায় রাখতে এবং চলচ্চিত্র ব্যবসাকে গতিশীল রাখতে সিনেমা হল খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


তিন দেশের ৪১ থিয়েটারে মুক্তি শাকিব খানের ‘রকস্টার’

তিন দেশের ৪১ থিয়েটারে মুক্তি শাকিব খানের ‘রকস্টার’

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমা রকস্টার এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। শাকিব খান অভিনীত সিনেমাটি আগামী ৫ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মোট ৪১টি থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন স্কয়ারকো-এর কর্ণধার সজীব সপ্তক। তিনি জানান, প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি, কানাডার ৭টি এবং যুক্তরাজ্যের ৪টি থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে ‘রকস্টার’।পরিবেশনা সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এএমসি থিয়েটার্স-এর ১৯টি, রিগাল সিনেমাস-এর ৭টি, সিনেমার্ক-এর ২টি এবং শোকেস সিনেমাস-এর ২টি স্ক্রিনে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। এছাড়া কানাডার সিনেপ্লেক্স-এর ৭টি এবং যুক্তরাজ্যের সিনেওয়ার্ল্ড-এর ৪টি স্ক্রিনেও সিনেমাটি দেখা যাবে।সংশ্লিষ্টদের মতে, হলিউডের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে প্রথম সপ্তাহেই এতগুলো থিয়েটার নিশ্চিত করতে পারা ‘রকস্টার’-এর জন্য ইতিবাচক দিক। দর্শকদের সাড়া ভালো হলে পরবর্তী সময়ে প্রদর্শনীর পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেও আশা করছেন তারা।উল্লেখ্য, ঈদের দিন থেকে দেশের ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘রকস্টার’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। এতে একজন রকস্টারের উত্থান, আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা এবং সুনিধি নায়েক। ইতোমধ্যে শাকিব খান ও মিথিলার রসায়ন দর্শকদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


শরীফ ও স্বরলিপির কণ্ঠে নতুন দ্বৈতগান

শরীফ ও স্বরলিপির কণ্ঠে নতুন দ্বৈতগান

ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে নতুন দ্বৈতগান ‘তুমি আসবে বলে’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শরীফ ও স্বরলিপি। গানটির কথা ও সুর করেছেন হাবিব মোস্তফা এবং সংগীতায়োজন করেছেন অণু মোস্তাফিজ। ঈদ উপলক্ষে নির্মিত নান্দনিক ভিডিও আকারে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে ‘তিন তার’ ইউটিউব চ্যানেলে। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন ইব্রাহিম আহমেদ। এতে মডেল হিসেবেও দেখা গেছে শরীফ ও স্বরলিপিকে।গানটি নিয়ে হাবিব মোস্তফা বলেন, “শরীফের কণ্ঠে রয়েছে আলাদা মায়া ও আকর্ষণীয় উচ্চারণভঙ্গি। স্বরলিপির গায়কীও ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়। তাই গানটির প্রতিটি অংশ অত্যন্ত যতœ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।” শরীফ বলেন, “ভালোবাসা একটি পবিত্র অনুভূতি, যা সহজে প্রকাশ করা যায় না। ‘তুমি আসবে বলে’ গানটির মাধ্যমে সেই অনুভূতিকে সুরে ও কথায় প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে।” অন্যদিকে স্বরলিপি জানান, সহজ কথা, মিষ্টি সুর ও পরিচ্ছন্ন সংগীতায়োজনে তৈরি এই গানটি শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। ঈদ আনন্দকে আরও রাঙিয়ে দিতেই গানটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


‘এই মেঘলা দিনে’ প্রকাশ করলেন মিমি আলাউদ্দিন

‘এই মেঘলা দিনে’ প্রকাশ করলেন মিমি আলাউদ্দিন

শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিমি আলাউদ্দিন প্রকাশ করেছেন নতুন মৌলিক গান এই মেঘলা দিনে। চলতি বছরে ধারাবাহিকভাবে নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। গানটির কথা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন নাদিম ভূঁইয়া। আর মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৌরভ ঘোষ নিলয়। গানটি প্রকাশ পেয়েছে ‘আলাউদ্দিন আলী মিউজিক ট্রেজার’ ইউটিউব চ্যানেলে।গানটি প্রসঙ্গে মিমি আলাউদ্দিন বলেন, গানটির কথা ও সুর তার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে বলেই দ্রুত শ্রোতাদের মাঝে নিয়ে এসেছেন। প্রকাশের পর কাছের মানুষ ও শ্রোতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ভালো কথা ও সুর ছাড়া কোনো গান গাইতে আগ্রহ পান না। এই গানটি তার মনে ধরেছে বলেই গেয়েছেন। সামনে আরও কয়েকটি মৌলিক গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই শিল্পী। উল্লেখ্য, গত পহেলা বৈশাখে মিমি আলাউদ্দিন এর কণ্ঠে প্রকাশ পায় বৈশাখীতে বসবে রঙের মেলা শিরোনামের আরেকটি মৌলিক গান। গানটির কথা লিখেছেন মনিরুজ্জামান মনির এবং সুর ও সংগীত করেছেন নাদিম ভূঁইয়া। স্টেজ শোতেও নিয়মিত পারফর্ম করেন মিমি আলাউদ্দিন। নিজের গানের পাশাপাশি তিনি গাইতে ভালোবাসেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন ও মিতালী মুখার্জি–এর জনপ্রিয় গানও। দেশে-বিদেশের নানা স্টেজ শোতে অংশ নিয়ে দর্শক-শ্রোতার ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।


এবার নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্ব

এবার নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্ব

দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ আবারও স্টুডিওর পেরিয়ে পৌঁছে গেছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির খোঁজে। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠানটির নতুন পর্ব ধারণ করা হয়েছে নরসিংদীতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনজীবনের অজানা গল্প দর্শকদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এবারের পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে এই প্রাচীন জনপদকে।নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের সামনে নির্মাণ করা হয় আকর্ষণীয় মঞ্চ। অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে পুরো জেলা জুড়েই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুপুরের পর থেকেই দর্শকরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা বিশেষ আমন্ত্রণপত্র নিয়ে হাজারো মানুষ উপস্থিত হন ধারণস্থলে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায় পুরো প্রাঙ্গণ। স্থানীয়দের ভাষ্য, নরসিংদীতে এর আগে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনে এত বিপুল জনসমাগম দেখা যায়নি। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় অনেকেই আশপাশের ভবনের ছাদ, দেয়াল, রাস্তার পাশ এমনকি গাছের ডালেও অবস্থান নেন অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার জন্য। প্রতিবারের মতো এবারের পর্বেও নরসিংদীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃতি ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরা হবে। দর্শকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস প্রমাণ করেছে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে ‘ইত্যাদি’ এখনো দেশের অন্যতম শীর্ষ টেলিভিশন অনুষ্ঠান।