সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

আখাউড়ার সেই ‘লালসালুুুুুুুুুুুু’ গাছটি কেটে ফেলল প্রশাসন

আখাউড়ার সেই ‘লালসালুুুুুুুুুুুু’ গাছটি কেটে ফেলল প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়ে যাওয়ার পর আবার দাঁড়িয়ে যাওয়ায় আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে প্রশাসন।শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের গাছটি অপসারণ করা হয়।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে এটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “গাছটির কিছু অংশ আগে থেকেই কাটা ছিল। সেটি হেলে পড়েছিল কি না, তা জানা নেই। গাছের মালিকের সঙ্গে কথা বলে তার সম্মতিতেই গাছটি কাটা হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মালিক। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চাইলে এটি নিতে পারবে।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ঝড়ের সময় গাছটি শেকড়সহ মাটিতে পড়ে যায়। পরে এর ডালপালা ও বেশ কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়। তবে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই গাছটির অবশিষ্ট অংশ আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় মুন্সীবাড়ির একটি পুকুরপাড়ে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার ডালপালাবিহীন গাছের একটি অংশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছটির নিচের কয়েক ইঞ্চি বাদে বাকিটা কাটা ছিল এবং শেকড়ের অংশ মাটির ওপর ও নিচে দৃশ্যমান ছিল। কাটা অংশগুলো পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। গাছের গোড়ায় লাল কাপড় পেঁচানো ছিল। সেখানে অনেককে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালাতেও দেখা যায়। চারপাশে নিশানাও টানানো হয়েছিল।গাছটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ব্যাখ্যা সামনে আসে। কেউ ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে দাবি করলেও অনেকেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজারের বাসিন্দা ও রাজনীতিবিদ মির্জা মারুফ ফেসবুকে লিখেছেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা অলৌকিক নয়। গাছের মূলের টান, মাটির স্থিতিস্থাপকতা এবং অভ্যন্তরীণ রসের চাপের কারণে এমনটি ঘটতে পারে। তার ভাষ্য, ঝড়ের চাপ সরে যাওয়ার পর শিকড়ের ইলাস্টিক শক্তির প্রভাবে গাছটি পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে।অলৌকিক ভেবে গাছে গোড়ায় লালসালু বেঁধে দেওয়া হয়।অন্যদিকে জিলানী বিগদাদি নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, “খোদার কেরামত বা কোনো রহস্য থাকতে পারে। তবে গাছকে কেন্দ্র করে পূজা, তাবিজ বা মানতের মতো কর্মকাণ্ড ইসলামে হারাম।”গাছটিকে ঘিরে এলাকায় মাজার তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। এ কারণে দ্রুত গাছটি অপসারণের দাবি ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচিত গাছটি কেটে ফেলা হয়।


বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।শুক্রবার (৫ জুন) উজবেকিস্তানের সমরখন্দে অনুষ্ঠিত জিইএফ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।সমরখন্দে অনুষ্ঠিত জিইএফ সম্মেলনে ১৮৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন বলে সরকারের তথ্য ও বিবরণীতে জানানো হয়।সম্মেলনে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামবলেন, "পরিবেশ দূষণের উৎসসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।"তিনি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জিইএফ-এর লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"এ লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


টেকনাফে শোডাউনে মাতালেন আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা

টেকনাফে শোডাউনে মাতালেন আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা

কক্সবাজারের টেকনাফে ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল শুক্রবারের (৫ জুন) বিকেল। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বাইক শোডাউন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নিয়ে শত শত সমর্থক প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উৎসবমুখর পরিবেশে।শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ২টায় টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। আর্জেন্টিনার পতাকা, জার্সি ও বিভিন্ন রঙিন ব্যানারে সজ্জিত মোটরসাইকেল নিয়ে সমর্থকেরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।শোভাযাত্রাটি টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান এবং আনন্দঘন উপস্থিতিতে টেকনাফজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ।বাইক শোডাউন শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট। এতে কক্সবাজারের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইফতি ও সংগতি সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপস্থিত ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন এক আনন্দঘন বিকেল।আয়োজকদের পক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন জানান, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।মেরিন ড্রাইভে মিলনমেলাসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।স্থানীয়দের মতে, ফুটবলকে কেন্দ্র করে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন টেকনাফের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি এটি তরুণদের মধ্যে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


টেবিলে ফের ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ’ বিল

টেবিলে ফের ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ’ বিল

আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের নির্বাচনে সাফল্যের পর নতুন রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসে ভর করে কেন্দ্রীয় সরকার ফের সামনে আনতে চলেছে বহুচর্চিত ডিলিমিটেশন বিল। বর্ষাকালীন অধিবেশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তৎপরতা।সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে ফের পেশ হতে পারে ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ’ বা ডিলিমিটেশন বিল। চলতি বছরের বাজেট অধিবেশনে প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাবে বিলটি পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল কেন্দ্র। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব ভারতে নির্বাচনী সাফল্য- বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে শক্তি বৃদ্ধি- কেন্দ্রীয় সরকারের কৌশলকে আরও আক্রমণাত্মক করেছে। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই ফের সংসদে বিলটি তোলার পরিকল্পনা।সূত্রের খবর, বিল পাশ করাতে বিরোধী শিবিরের একাধিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু বিক্ষুব্ধ সাংসদের ইতিবাচক মনোভাব এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সংসদে সংখ্যার অঙ্ক এবার অন্য রকম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকের অবস্থান নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দলটির অবস্থান নরম হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। যদি তা হয়, তাহলে বিল পাশের পথে বড় বাধা অনেকটাই কমে যাবে।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশনে ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল-২০২৬’ এবং ‘সংবিধান (১৩১তম) সংশোধনী বিল-২০২৬’ লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না থাকায় তা পাশ হয়নি।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিল কার্যকর হলে দেশের নির্বাচনী মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে আমূল বদলে দিতে সক্ষম। তাই বিলটি পাশ করানোর আগে সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র।যদিও এখনও পর্যন্ত বর্ষাকালীন অধিবেশনের নির্দিষ্ট সূচি ঘোষণা হয়নি, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে অধিবেশন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই অধিবেশনেই ডিলিমিটেশন বিলকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতির বড় সংঘর্ষ দেখা যেতে পারে।


গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার পরিকল্পিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার পরিকল্পিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে

স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার একটি উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে। তার মতে, গণতন্ত্র আবারও সংকটের মুখে পড়েছে এবং চারদিকে সুপরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাব-এ ১৯৬২ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সদস্য মাহবুবুল হকের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম তারার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দেশের রাজনীতি ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং সমাজের কাছে তাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।তিনি অভিযোগ করেন, রাজনীতিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে একটি ষড়যন্ত্র চলছে, যা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশনিসংকেত।তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও স্বাভাবিক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। চরিত্রহননের এই প্রবণতা রাজনীতির স্বাভাবিক বিকাশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকেই কিছু রাজনৈতিক শক্তি এমনভাবে তৎপর হয়েছে যাতে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়। তবে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুত এসব ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা।বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এটি কোনো বিপ্লবী দল নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণই বিএনপির রাজনৈতিক পথ।অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ও কুৎসা রটানো হচ্ছে।তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও জনগণ বিএনপি এবং বর্তমান সরকারের পাশে রয়েছে।আলোচনা সভায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে জিরো টলারেন্স ভারতের

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে জিরো টলারেন্স ভারতের

ত্রিপুরার লঙ্কামুরা সীমান্ত চৌকিতে শুক্রবার (৫ জুন) বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বিহার-সহ কোনও সীমান্তবর্তী রাজ্যেই জনবিন্যাস পরিবর্তন বরদাস্ত করা হবে না।বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ত্রিপুরা সফরে গিয়ে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনবিন্যাস ইস্যুতে কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে কেন্দ্র কোনওভাবেই সরে আসবে না। বর্তমানে এই রাজ্যগুলিতে ডবল ইঞ্জিনের সরকার থাকায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।শাহের বক্তব্যে উঠে আসে কেন্দ্রের মূল উদ্বেগ- ভিন দেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।এই প্রেক্ষিতে তিনি জানান, সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আনা হচ্ছে এবং অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।একইসঙ্গে তিনি “স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট” প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।এই প্রকল্পের মাধ্যমে ড্রোন, সেন্সর ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে শাহ বলেন, এই অঞ্চলে কোনওভাবেই জনবিন্যাস পরিবর্তন হতে দেওয়া হবে না।অন্যদিকে, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিএসএফ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি। তার কথায়, গাছকে নিজের ভাই-বোন বা সন্তানের মতো যত্ন নিতে হবে এবং যত গাছ কাটা হয়েছে তার চেয়ে বেশি গাছ লাগাতে হবে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারি নির্দেশে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এটিকে ব্যক্তিগত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।সব মিলিয়ে, ত্রিপুরা সফর থেকে অমিত শাহ-এর এই বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কেন্দ্রের কড়া অবস্থানই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


মহেশখালীতে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু

মহেশখালীতে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু

কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাছ ধরার সময় তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সামশুল আলম (৬৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা এলাকার একটি চিংড়িঘেরে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সকালে জীবিকার তাগিদে চিংড়িঘেরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সামশুল আলম। এ সময় প্রচণ্ড গরমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের ছেলে মো. সেলিম জানান, তার বাবা সকালে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সেখানে অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে না পেরে তিনি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন।স্বজনরা জানান, সামশুল আলম দীর্ঘ দিন ধরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন গভীর সংকটে পড়েছে।মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নরসিংদীতে তুমুল উন্মাদনা

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নরসিংদীতে তুমুল উন্মাদনা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো কিছুটা সময় বাকি থাকলেও এর ঢেউ আছড়ে পড়েছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভায়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কোনো কমতি রাখছেন না ফুটবলপ্রেমীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ঘোড়াশালের সরকার টেক গ্রামের ব্রাজিল সমর্থকেরা তৈরি করেছেন ৩০০ ফুট দীর্ঘ এক বিশাল পতাকা। যা ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতি নিজেদের সমর্থন ও ভালোবাসা জানাতেই ব্রাজিল সমর্থকদের এই যৌথ প্রয়াস। পতাকাটি তৈরি করার পর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ সেটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। পুরো গ্রামজুড়ে এখন যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।ব্রাজিল ভক্ত নইমুদ্দিন বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের অন্ধ সমর্থক। প্রিয় দলের প্রতি আমাদের এই ভালোবাসা এবং আবেগ প্রকাশ করতেই আমরা সবাই মিলে এই ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল পতাকাটি তৈরি করেছি। আমাদের ইচ্ছা আছে এটিকে ১০০০ ফুটে নিয়ে যাওয়ার। আশা করছি, এবারের বিশ্বকাপ ট্রফিটা আমাদের প্রিয় দলের ঘরেই যাবে।’বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আগেই ঘোড়াশালের এই ফুটবল উন্মাদনা প্রমাণ করছে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও বাঙালির রক্তে ফুটবলের আবেগ কতটা মিশে আছে। মাঠের লড়াইয়ে প্রিয় দল কেমন করে, এখন সেই অপেক্ষায় স্থানীয় ফুটবল অনুরাগীরা।


উত্তরে পুশ-ইন ঠেকালো বিজিবি, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ৭১

উত্তরে পুশ-ইন ঠেকালো বিজিবি, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ৭১

লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নারী-শিশুসহ অন্তত ৭১ জনকে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালালেও তারা সফল হয়নি।শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন জেলার বিভিন্ন সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটে। এখনও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অপেক্ষা করছে ওই সব নারী-পুরুষ ও শিশুরা।লালমনিরহাট: জেলার বড়খাতা, পয়ষট্টিবাড়ি, দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপি এলাকায় ভোর ৫টার দিকে বিএসএফ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ঈমাম জানান, ‘পুশ-ইন করা নারী-পুরুষদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন এবং পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। অন্যদিকে, ১৫ বিজিবির অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপিতে আরও ১২ জনের উপস্থিতি লক্ষ্য করে টহল দল। বিজিবি সদস্যরা মাইকে সতর্ক করলে তারা ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।পঞ্চগড়: সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।  নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলেও পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।শূন্যরেখায় পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু অপেক্ষা করছে। এ ঘটনায় সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টার পর ২৮ জন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ২০৩/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ২৮ জনকে (১২ পুরুষ, ১০ নারী, ৬ শিশু) পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশ-ইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে নেয়।বিজিবি জানায়, তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে ওই ২৮ জন ভারতের অভ্যন্তরে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছেন।


ঢাকা ২০৫০: বাতাসে বিষ, বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিক!

ঢাকা ২০৫০: বাতাসে বিষ, বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিক!

আজ থেকে আড়াই দশক পর কেমন হবে রাজধানী ঢাকা? একটু ভাবুন তো। ঠিক তখন ২০৫০ সালের ৫ জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা খুললেন। অবাক বিস্ময়ে দেখলেন, বাইরে বৃষ্টি নেই, গাছ নেই। শুধু ধূসর আকাশ আর ক্লান্ত রোদ। ঢাকা তখন আর ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ নয়- ‘প্রাচ্যের চুল্লি’।শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বেরুতে হলো মুখোমুখি হতে হবে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার।চোখমুখ ঢেকে যাচ্ছে ধুলোর প্রলেপে। ফুসফুস শক্ত হয়ে আসছে। কেন? কারণ, চারপাশের বাতাসে অক্সিজেন নয়, ভাসছে নাইট্রোজেন অক্সাইড আর সূক্ষ্ম বিষাক্ত মেঘ।পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০৪৭ সালের প্রতিবেদনে দেখাচ্ছে, ঢাকার সবুজ আচ্ছাদন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শতাংশে। ২০২৫ সালের তুলনায় কমেছে ৭০ শতাংশ! গাছ নেই, তাই ধুলো ধরে রাখার কেউ নেই। পুরো শহর যেন এক মরুকান্টার। ইউনিসেফের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের নবজাতকেরা জন্ম থেকেই ‘কৃত্রিম ফুসফুস’ নিয়ে বাঁচতে শিখছে। স্কুলের ছাদেও লাগানো হয়েছে অক্সিজেন বুথ।মেট্রো রেল বেড়েছে বটে তবে দখল কমেনি। ২০৩৮ সালের পর থেকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে আর যানবাহন চলে না; সেগুলো নোংরা, প্লাস্টিক নদীতে পরিণত হয়েছে। কারণ নগর পরিকল্পনাবিদেরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেও নিষ্কাশন ব্যবস্থা আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ থামাতে পারেনি কেউ।মূল সমস্যা কিন্তু পানির। বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর মুখ একেবারে বন্ধ। ২০৩৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছিল ‘এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণের নামে। এরপর চূড়ান্ত রূপ নেয় বিপর্যয়।সকাল ১০টায় পানি না পেয়ে এলাকায় এলাকায় হৈ চৈ। পানির ট্যাংকলরি এসেছে। চারদিকে সোয়া লিটার পানির বোতলের জন্য হুড়োহুড়ি। আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র ‘এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ লেটার্স’-এর প্রক্ষেপণ বলে, ২০৫০ সালের মধ্যেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাবে ২০৫ মিটার নিচে। বাংলার চিরচেনা ‘টিউবওয়েল’ এখন শুধু জাদুঘরেই দেখতে পাওয়া যায়।বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্লাইমেটিক চেঞ্জ’ নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণের ১২ জেলার ৯০ শতাংশের বেশি জনপদ ইতোমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।লাখ লাখ মানুষ ছুটেছে ঢাকায়। অথচ ঢাকা তো নিজেই দূষণের বিষে ডুবে যাওয়া নগরী।তখন ঠিক ঠিক মনে পড়বে ২০২৬ সালের মিডিয়ার ফিচারগুলো। ‘একটুখানি বৃষ্টিতেই ডুবছে রাজপথ’, ‘এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল মতিঝিল’।নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম জানে, সেগুনবাগিচায় এককালে পা ভিজিয়ে পার্কের ঘাটে বসা যেত; আজ সেটা নাকি নির্মল প্লাস্টিক আবর্জনার স্তূপ।পুরান ঢাকার গলির মুখ থেকে মায়াবী জলাশয়গুলো পুরোপুরি তলিয়ে গেছে কালভার্ট আর পাকা ফ্লাইওভারের নিচে। খাল নেই- সব ‘ভূগর্ভস্থ ড্রেন’, নাম যা-ই থাক, কাজ করে না। তাই যখন নামে বৃষ্টির ফোঁটা, তখন নর্দমার পানি রাস্তায় ভেসে ওঠে। ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ডেঙ্গু- রোগগুলো ২০৫০ সালে আর ‘আতঙ্ক’ নয়; নিত্যদিনের সঙ্গী।বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ২০৫০ সালের এই দৃশ্য ঠেকানো এখনো সম্ভব। প্রয়োজন আজ থেকেই ‘গ্রিন বিল্ডিং’ ও ‘পানি সংরক্ষণ’ আইনের কঠোর প্রয়োগ। ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমানো।অপরিকল্পিত নগরবিস্তার বন্ধ করা।


অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় বাউবি উপাচার্যের বিশেষ গুরুত্ব

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় বাউবি উপাচার্যের বিশেষ গুরুত্ব

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান শুক্রবার (৫ জুন) রংপুরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সকালে উপাচার্য রংপুরের মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এমএ ও এমএসএস পরীক্ষা এবং মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা পরিদর্শন করেন। তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপাচার্য। এ সময় তিনি বলেন, ‘শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বাউবি নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা যেন কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। আগ্রহী তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।’পরবর্তীতে উপাচার্য সৈয়দপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় তিনি শিক্ষার্থীসেবার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।পরিদর্শন শেষে উপাচার্য নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।সফরকালে উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানু, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদ, রংপুর আঞ্চলিক পরিচালক আবু হাফিজ মো. ফজলে নিজামী এবং যুগ্ম-পরিচালক মো. আজিজার রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


কিয়েভে ন্যাটো প্রধানের আকস্মিক সফর

কিয়েভে ন্যাটো প্রধানের আকস্মিক সফর

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলায় যখন কিয়েভ ও দনিপ্রোসহ বিভিন্ন শহর রক্তাক্ত, ঠিক তখনই ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখলেন সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে। বুধবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তার এই আকস্মিক সফর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে। রুশ আগ্রাসনের মুখে এই সফরকে পশ্চিমাদের এক জোরালো রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইউক্রেনের জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছে।ন্যাটো প্রধানের একটি ছবি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউক্রেনীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ লিখেছে, “আজ কিয়েভ রেলওয়ে স্টেশনে আমরা ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে সানন্দে স্বাগত জানাচ্ছি। পূর্ববর্তী সব সফরের মতোই এই সফরটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দেশের প্রতি জোটের পক্ষ থেকে সংহতি ও সমর্থনের একটি নিদর্শন।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বুক আকুতি আর কৃতজ্ঞতা। রুশ হামলায় লণ্ডভণ্ড রেলওয়ে স্টেশনে যখন ন্যাটোর শীর্ষ নেতার পা পড়ে, তখন তা কেবল একটি কূটনৈতিক সফর থাকে না, হয়ে ওঠে এক চরম মানবিক সংহতির প্রতীক।নিরাপত্তা ও সংহতির এক নতুন সমীকরণএই আকস্মিক সফরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজের দেশের আকাশ ও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোর আবেদন জানিয়ে আসছেন জেলেনস্কি। এই সফর সেই সহায়তার পথকে আরও মসৃণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, উত্তর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে বিশ্বনেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সমবেত হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই কিয়েভ ও দনিপ্রোতে রুশ হামলায় ২৩ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়। রক্তের দাগ শুকানোর আগেই কিয়েভে এসে পৌঁছান মার্ক রুটে। ধোঁয়া আর কান্নার জনপদে দাঁড়িয়ে ন্যাটো প্রধানের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে, যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও ইউক্রেন আজ একা নয়। এই সফর কেবল সামরিক কৌশলের অংশ নয়, বরং এক পৈশাচিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক মানবিক গল্প।


ফুঁসে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগর: ‘এল নিনো’র চোখরাঙানিতে চরম আবহাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব

ফুঁসে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগর: ‘এল নিনো’র চোখরাঙানিতে চরম আবহাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব

প্রকৃতির চেনা রূপ যেন এক লহমায় বদলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জমতে থাকা তীব্র উত্তাপ এবার বিশ্বজুড়ে বয়ে আনতে পারে এক চরম জলবায়ু বিপর্যয়। ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিশেষ রূপ ‘এল নিনো’র প্রভাবে আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি এবার আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা ৮০ শতাংশ এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে এর শক্তি সঞ্চয়ের আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ।দোরগোড়ায় জলবায়ু সতর্কতা: গুতেরেসের আর্তিসাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ফিরে আসা এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়াটি এবার মানব সভ্যতার জন্য বড় পরীক্ষা নিতে চলেছে। এর স্থায়িত্ব সাধারণত নয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত হয়, যা বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে এক বিশাল ওলটপালট তৈরি করে। চলমান এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন খোদ জাতিসংঘ প্রধান। এক ভিডিওবার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, "বিজ্ঞান স্পষ্ট, আগামী মাসগুলোতে ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বার্তা নিয়ে এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। বিশ্ববাসীকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।"খরা আর ঘূর্ণিঝড়ের চাদরে ঢাকবে পৃথিবীডব্লিউএমওর তথ্যমতে, এই এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন সাগরের জল উপচে পড়বে, অন্য প্রান্ত তখন পুড়বে তীব্র খরায়। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে দেখা দিতে পারে তীব্র খরা ও পানির হাহাকার। এছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হ্যারিকেন বা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এই আসন্ন সংকটের গভীরতা বুঝাতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, "এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে তীব্র রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তা সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে।" প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলায় বিশ্ব কতটা প্রস্তুত, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


অপূর্ব-নিহার ‘অচেনা আমি’

অপূর্ব-নিহার ‘অচেনা আমি’

সম্প্রতি দর্শকদের জন্য নতুন নাটক নিয়ে হাজির হলেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। ‘অচেনা আমি’ শিরোনামের এই নাটকের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন অপূর্ব নিজেই। নাটকটিতে অপূর্বর বিপরীতে অভিনয় করেছেন নাজনীন নাহার নিহা। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে তারিক আনাম খানকে। বসুন্ধরা সিমেন্ট নিবেদিত ‘অচেনা আমি’ প্রকাশ পায় ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে।নাটকটি পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। নির্মাতার ভাষ্য, রোমান্টিক ঘরানার গল্পে নির্মিত এই নাটকে প্রেমের পাশাপাশি মানুষের জীবনের উপলব্ধি ও প্রিয়জনকে হারিয়ে আবার খুঁজে পাওয়ার আবেগঘন গল্প উঠে এসেছে। অংশু বলেন, “এ ধরনের কাজ আগে করা হয়নি। অপূর্ব যখন গল্পটি আমার সঙ্গে শেয়ার করে, তখনই ভালো লেগে যায়। গল্প শুনেই এর ভিজ্যুয়াল পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছিলাম।” এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো নাটকের চিত্রনাট্য লিখলেন অপূর্ব। এর আগে নিজের পরিচালিত একটি টেলিফিল্মের চিত্রনাট্য করেছিলেন তিনি। নির্মাতা আরও বলেন, “অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প বলার ক্ষেত্রেও অপূর্ব দারুণ দক্ষ। তার গল্পে যেমন আবেগ ও বার্তা থাকে, তেমনি থাকে সিনেমাটিক আবহ। ‘অচেনা আমি’তেও দর্শক তেমন কিছুই দেখতে পাবেন।”এদিকে নাটকের পোস্টার প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপূর্ব লিখেছেন, “সব চেহারাই কি চেনা? নাকি সব চেনা মানুষের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে এক অচেনা আমি? ভালোবাসা আর আত্মপরিচয়ের এক অদ্ভুত সমীকরণ নিয়ে আসছি আমরা।”


হাঁড়িভাঙ্গায় ২০০ কোটি টাকার স্বপ্ন, বাজারে ২০ জুন

হাঁড়িভাঙ্গায় ২০০ কোটি টাকার স্বপ্ন, বাজারে ২০ জুন

দেশের ঐতিহ্যবাহি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম আগামী ২০ জুন থেকে বাজারে আসা শুরু হবে। দেশে উৎপাদিত একমাত্র আঁশবিহিন সুস্বাদু এই ফল দেশে উৎপাদিত সব আমের সেরা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এবারেও আম পুষ্ট হবার আগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে ২৫ কোটি টাকারও বেশি আমের রপ্তানি অর্ডার পেয়েছেন বাগান মালিকরা।তবে এবার বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে ফলন কম হবার আশঙ্কা করছেন আমচাষিরা। তারা বলছেন, এবারের বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতার কারণে ফলন ভালো হচ্ছে না।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রংপুরে ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে।যা গত বছরের চেয়ে ২শ হেক্টর বেশি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছেন বাগান মালিক ও চাষিরা। যাতে অন্তত ২শ কোটি টাকার আম তারা বিক্রি করতে পারবেন।এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাঁড়িভাঙ্গা আম পুরোপুরি পুষ্ট হতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আমের চেয়ে বেশি সময় লাগে।ফলে আগামী ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আকার অন্যান্য বারের চেয়ে কাঙ্ক্ষিত হয়েছে।ন্যায্য মূল্য পেলে আমচাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তাছাড়া অন্যান্য বারের চেয়ে এবারে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি হবে বলে আশা করছেন আম ব্যবসায়ীরা।হাঁড়িভাঙ্গার ইতিহাসরংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লালমাটি বলে পরিচিত পদাগঞ্জ এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আম প্রথম উৎপাদন করেন সালাম নামের এক চাষি।সম্পূর্ণ আঁশমুক্ত আর দারুণ সুস্বাদু হওয়ায় আমটির চাহিদা এখন উত্তরাঞ্চল আর দেশ ছাপিয়ে সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে।প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার আম রপ্তানি করছেন চাষিরা।ফলে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর, পদাগঞ্জ, কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সর্দ্দারপাড়া, সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করণী ইউনিয়নের কাঁটাবাড়ি, পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই এখন গড়ে উঠেছে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্যিক বাগান।মূলত, লালমাটি এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের যেমন ভালো ফলন হয়, তেমনি অনেক বেশি সুস্বাদুও। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠেছে।আমচাষিরা বলছেন, বৈশাখ মাস জুড়ে অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমের অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।ক্ষুদ্র চাষিদের অভিযোগ, আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন।আমচাষিদের অভিযোগ, বড় বড় ব্যবসায়ী আগাম টাকা দিয়ে আমের বাগান কিনে নেয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন বেশি।এভাবেই হাঁড়িভাঙ্গা আম বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তত ৯০টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে। এই আম চাষ করে হাজার হাজার পরিবার এখন একেবারেই স্বাবলম্বি।সরেজমিনে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ ও খোড়াগাছ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি বাগান ছাড়াও প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ১০-১৫টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ। আবার কোনো কোনো বাড়ি ঘিরে শুধুই আমগাছ। আম পাকা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একই এলাকার আমচাষি মনোয়ার হোসেন, রহমত আলী, আয়েশা বেগমসহ অনেকেই জানালেন, ১০ বছর আগেও এসব এলাকা ছিলো অভাবী মানুষে ভরা। এখন সেই অভাব দূর হয়েছে। সচ্ছলতা এসেছে ঘরে ঘরে।এক সময় তিন বেলা তো দূরের কথা এক বেলা খাবারও জুটতো না।মাটি লাল হওয়ায় বছরে একবার মাত্র ধান উৎপাদন হতো। বাকি ৮ মাস পতিত পড়ে থাকতো। তবে হাঁড়িভাঙ্গা আম এসে তাদের ভাগ্যের চাকা বদলে দিয়েছে। এখন এক ফসলি ধানী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক আম বাগান।বছরে আম বিক্রি করে সবার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের বাস্তুভিটাতেই হাঁড়িভাঙ্গা আম গাছ লাগিয়ে উৎপাদিত আম বিক্রি করে সচ্ছলতা এনেছেন।তবে চাষিদের সবার দাবি একটাই, আম সংরক্ষণে ব্যবস্থা করা। কারণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় পানির দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হন।এ ব্যাপারে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করছেন চাষিরা।হাঁড়িভাঙ্গা আমের সবচেয়ে বড় বাগান মালিক রমজান আলী জানান, ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজন আড়তদার এবার অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং করছেন। তার মতো আরও অন্তত ৪০টি বাগান মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আপাতত ২০ কোটি টাকার আমের অর্ডার মিলেছে। তবে রপ্তানি এবার ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা চাষিদের।একই কথা বললেন আমচাষি রবিউল ইসলাম।রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, সরাসরি বাগান থেকে যাতে আম কিনতে পারা যায়, সেজন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ খোলা হবে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিসগুলো পদাগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অফিস স্থাপন করেছে।তারা বাগান থেকে আম সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা রেখেছে।জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, কৃষিবিভাগসহ সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, এবার অবিরাম ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও তা অস্বাভাবিক নয়। এতে ততবেশি ক্ষতি হবে না বলেও মনে করছেন হাবিবুর রহমান।রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিপণন বিভাগের উপ-পরিচালক সিফাত জাহান জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের ঐতিহ্যকে আরো বেশি করে দেশে বিদেশে পরিচিত করেছে। এবার আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে ফলন একটু কম হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। আশা করা যায়, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবার চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।


মানবতা ও ত্যাগের গল্পে কঙ্গনার নতুন চমক

মানবতা ও ত্যাগের গল্পে কঙ্গনার নতুন চমক

২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে নতুন বলিউড চলচ্চিত্র ভারত ভাগ্য বিধাতা। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় একেবারে ভিন্নধর্মী চরিত্রে হাজির হচ্ছেন কঙ্গনা রনৌত। তিনি অভিনয় করেছেন একজন নার্সের ভূমিকায়, যিনি চরম সংকটের মুহূর্তে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সিনেমাটির ফার্স্ট লুক ও মোশন পোস্টার। পোস্টারে ধ্বংসস্তূপ ও আগুনের মাঝ দিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যায় কঙ্গনাকে। মুখে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ নিয়ে নার্সের পোশাকে তিনি যেন মানবতার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন—যিনি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেও দায়িত্ব পালন করে যান।ফার্স্ট লুক প্রকাশের সঙ্গে একটি আবেগঘন বার্তাও শেয়ার করেন কঙ্গনা। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বিশেষ কিছু করেও তারা সাধারণ মানুষের মতোই থেকে যান, অথচ তাদের অবদান অনেক সময় অগোচরেই থেকে যায়।সিনেমাটি ২০০৮ সালের সেই বিভীষিকাময় রাতের একটি কম আলোচিত অধ্যায় তুলে ধরবে। বিশেষ করে কামা অ্যান্ড অ্যালবলেস হাসপাতাল-এর চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সাহসিকতার গল্প এতে স্থান পেয়েছে। হামলার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা শত শত রোগীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন, যা মানবতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।সিনেমাটি প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, “আমরা প্রায়ই বীরত্বকে বড় পরিসরে দেখি, কিন্তু প্রকৃত সাহস অনেক সময় নিঃশব্দে কাজ করে। সংকটের মুহূর্তে যারা দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় এবং অন্যদের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, এই গল্প তাদেরই।”তার ভাষায়, ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ শুধু একটি ঘটনার পুনর্কথন নয়; এটি মানবতা, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও ঐক্যের এক গভীর দলিল।চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মনোজ তাপাদিয়া। এতে কঙ্গনার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গিরিজা ওক, স্মিতা তাম্বে, অমৃতা নামদেভ, এষা দে, প্রিয়া বের্দে, আশা শেলার, সুহিতা থাত্তে, রসিকা আগাশে, আদিত্য মিশ্র এবং জাহিদ খান। আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গনার ইমার্জেন্সি, তেজস, চন্দ্রমুখী ২, ধাকড় এবং থালাইভি প্রত্যাশিত বক্স অফিস সাফল্য পায়নি। ফলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ কঙ্গনা রনৌতের ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।