সংবাদ

ঢাকা ২০৫০: বাতাসে বিষ, বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিক!


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

ঢাকা ২০৫০: বাতাসে বিষ, বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিক!
ছবি: এআই

আজ থেকে আড়াই দশক পর কেমন হবে রাজধানী ঢাকা? একটু ভাবুন তো। ঠিক তখন ২০৫০ সালের ৫ জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা খুললেন। অবাক বিস্ময়ে দেখলেন, বাইরে বৃষ্টি নেই, গাছ নেই। শুধু ধূসর আকাশ আর ক্লান্ত রোদ। ঢাকা তখন আর ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ নয়- ‘প্রাচ্যের চুল্লি’।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বেরুতে হলো মুখোমুখি হতে হবে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার।চোখমুখ ঢেকে যাচ্ছে ধুলোর প্রলেপে। ফুসফুস শক্ত হয়ে আসছে। কেন? কারণ, চারপাশের বাতাসে অক্সিজেন নয়, ভাসছে নাইট্রোজেন অক্সাইড আর সূক্ষ্ম বিষাক্ত মেঘ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০৪৭ সালের প্রতিবেদনে দেখাচ্ছে, ঢাকার সবুজ আচ্ছাদন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শতাংশে। ২০২৫ সালের তুলনায় কমেছে ৭০ শতাংশ! গাছ নেই, তাই ধুলো ধরে রাখার কেউ নেই। পুরো শহর যেন এক মরুকান্টার। ইউনিসেফের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের নবজাতকেরা জন্ম থেকেই ‘কৃত্রিম ফুসফুস’ নিয়ে বাঁচতে শিখছে। স্কুলের ছাদেও লাগানো হয়েছে অক্সিজেন বুথ।

মেট্রো রেল বেড়েছে বটে তবে দখল কমেনি। ২০৩৮ সালের পর থেকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে আর যানবাহন চলে না; সেগুলো নোংরা, প্লাস্টিক নদীতে পরিণত হয়েছে। কারণ নগর পরিকল্পনাবিদেরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেও নিষ্কাশন ব্যবস্থা আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ থামাতে পারেনি কেউ।

মূল সমস্যা কিন্তু পানির। বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর মুখ একেবারে বন্ধ। ২০৩৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছিল ‘এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণের নামে। এরপর চূড়ান্ত রূপ নেয় বিপর্যয়।

সকাল ১০টায় পানি না পেয়ে এলাকায় এলাকায় হৈ চৈ। পানির ট্যাংকলরি এসেছে। চারদিকে সোয়া লিটার পানির বোতলের জন্য হুড়োহুড়ি। আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র ‘এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ লেটার্স’-এর প্রক্ষেপণ বলে, ২০৫০ সালের মধ্যেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাবে ২০৫ মিটার নিচে। বাংলার চিরচেনা ‘টিউবওয়েল’ এখন শুধু জাদুঘরেই দেখতে পাওয়া যায়।

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্লাইমেটিক চেঞ্জ’ নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণের ১২ জেলার ৯০ শতাংশের বেশি জনপদ ইতোমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।লাখ লাখ মানুষ ছুটেছে ঢাকায়। অথচ ঢাকা তো নিজেই দূষণের বিষে ডুবে যাওয়া নগরী।

তখন ঠিক ঠিক মনে পড়বে ২০২৬ সালের মিডিয়ার ফিচারগুলো। ‘একটুখানি বৃষ্টিতেই ডুবছে রাজপথ’, ‘এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল মতিঝিল’।নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম জানে, সেগুনবাগিচায় এককালে পা ভিজিয়ে পার্কের ঘাটে বসা যেত; আজ সেটা নাকি নির্মল প্লাস্টিক আবর্জনার স্তূপ।

পুরান ঢাকার গলির মুখ থেকে মায়াবী জলাশয়গুলো পুরোপুরি তলিয়ে গেছে কালভার্ট আর পাকা ফ্লাইওভারের নিচে। খাল নেই- সব ‘ভূগর্ভস্থ ড্রেন’, নাম যা-ই থাক, কাজ করে না। তাই যখন নামে বৃষ্টির ফোঁটা, তখন নর্দমার পানি রাস্তায় ভেসে ওঠে। ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ডেঙ্গু- রোগগুলো ২০৫০ সালে আর ‘আতঙ্ক’ নয়; নিত্যদিনের সঙ্গী।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ২০৫০ সালের এই দৃশ্য ঠেকানো এখনো সম্ভব। প্রয়োজন আজ থেকেই ‘গ্রিন বিল্ডিং’ ও ‘পানি সংরক্ষণ’ আইনের কঠোর প্রয়োগ। ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমানো।অপরিকল্পিত নগরবিস্তার বন্ধ করা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


ঢাকা ২০৫০: বাতাসে বিষ, বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিক!

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

আজ থেকে আড়াই দশক পর কেমন হবে রাজধানী ঢাকা? একটু ভাবুন তো। ঠিক তখন ২০৫০ সালের ৫ জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা খুললেন। অবাক বিস্ময়ে দেখলেন, বাইরে বৃষ্টি নেই, গাছ নেই। শুধু ধূসর আকাশ আর ক্লান্ত রোদ। ঢাকা তখন আর ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ নয়- ‘প্রাচ্যের চুল্লি’।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বেরুতে হলো মুখোমুখি হতে হবে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার।চোখমুখ ঢেকে যাচ্ছে ধুলোর প্রলেপে। ফুসফুস শক্ত হয়ে আসছে। কেন? কারণ, চারপাশের বাতাসে অক্সিজেন নয়, ভাসছে নাইট্রোজেন অক্সাইড আর সূক্ষ্ম বিষাক্ত মেঘ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০৪৭ সালের প্রতিবেদনে দেখাচ্ছে, ঢাকার সবুজ আচ্ছাদন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শতাংশে। ২০২৫ সালের তুলনায় কমেছে ৭০ শতাংশ! গাছ নেই, তাই ধুলো ধরে রাখার কেউ নেই। পুরো শহর যেন এক মরুকান্টার। ইউনিসেফের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের নবজাতকেরা জন্ম থেকেই ‘কৃত্রিম ফুসফুস’ নিয়ে বাঁচতে শিখছে। স্কুলের ছাদেও লাগানো হয়েছে অক্সিজেন বুথ।

মেট্রো রেল বেড়েছে বটে তবে দখল কমেনি। ২০৩৮ সালের পর থেকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে আর যানবাহন চলে না; সেগুলো নোংরা, প্লাস্টিক নদীতে পরিণত হয়েছে। কারণ নগর পরিকল্পনাবিদেরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেও নিষ্কাশন ব্যবস্থা আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ থামাতে পারেনি কেউ।

মূল সমস্যা কিন্তু পানির। বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর মুখ একেবারে বন্ধ। ২০৩৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছিল ‘এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণের নামে। এরপর চূড়ান্ত রূপ নেয় বিপর্যয়।

সকাল ১০টায় পানি না পেয়ে এলাকায় এলাকায় হৈ চৈ। পানির ট্যাংকলরি এসেছে। চারদিকে সোয়া লিটার পানির বোতলের জন্য হুড়োহুড়ি। আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র ‘এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ লেটার্স’-এর প্রক্ষেপণ বলে, ২০৫০ সালের মধ্যেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাবে ২০৫ মিটার নিচে। বাংলার চিরচেনা ‘টিউবওয়েল’ এখন শুধু জাদুঘরেই দেখতে পাওয়া যায়।

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্লাইমেটিক চেঞ্জ’ নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণের ১২ জেলার ৯০ শতাংশের বেশি জনপদ ইতোমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।লাখ লাখ মানুষ ছুটেছে ঢাকায়। অথচ ঢাকা তো নিজেই দূষণের বিষে ডুবে যাওয়া নগরী।

তখন ঠিক ঠিক মনে পড়বে ২০২৬ সালের মিডিয়ার ফিচারগুলো। ‘একটুখানি বৃষ্টিতেই ডুবছে রাজপথ’, ‘এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল মতিঝিল’।নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম জানে, সেগুনবাগিচায় এককালে পা ভিজিয়ে পার্কের ঘাটে বসা যেত; আজ সেটা নাকি নির্মল প্লাস্টিক আবর্জনার স্তূপ।

পুরান ঢাকার গলির মুখ থেকে মায়াবী জলাশয়গুলো পুরোপুরি তলিয়ে গেছে কালভার্ট আর পাকা ফ্লাইওভারের নিচে। খাল নেই- সব ‘ভূগর্ভস্থ ড্রেন’, নাম যা-ই থাক, কাজ করে না। তাই যখন নামে বৃষ্টির ফোঁটা, তখন নর্দমার পানি রাস্তায় ভেসে ওঠে। ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ডেঙ্গু- রোগগুলো ২০৫০ সালে আর ‘আতঙ্ক’ নয়; নিত্যদিনের সঙ্গী।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ২০৫০ সালের এই দৃশ্য ঠেকানো এখনো সম্ভব। প্রয়োজন আজ থেকেই ‘গ্রিন বিল্ডিং’ ও ‘পানি সংরক্ষণ’ আইনের কঠোর প্রয়োগ। ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমানো।অপরিকল্পিত নগরবিস্তার বন্ধ করা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত