সংবাদ

ফুঁসে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগর: ‘এল নিনো’র চোখরাঙানিতে চরম আবহাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

ফুঁসে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগর: ‘এল নিনো’র চোখরাঙানিতে চরম আবহাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব

প্রকৃতির চেনা রূপ যেন এক লহমায় বদলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জমতে থাকা তীব্র উত্তাপ এবার বিশ্বজুড়ে বয়ে আনতে পারে এক চরম জলবায়ু বিপর্যয়। ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিশেষ রূপ ‘এল নিনো’র প্রভাবে আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি এবার আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা ৮০ শতাংশ এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে এর শক্তি সঞ্চয়ের আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ।

দোরগোড়ায় জলবায়ু সতর্কতা: গুতেরেসের আর্তি

সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ফিরে আসা এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়াটি এবার মানব সভ্যতার জন্য বড় পরীক্ষা নিতে চলেছে। এর স্থায়িত্ব সাধারণত নয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত হয়, যা বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে এক বিশাল ওলটপালট তৈরি করে। চলমান এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন খোদ জাতিসংঘ প্রধান। এক ভিডিওবার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, "বিজ্ঞান স্পষ্ট, আগামী মাসগুলোতে ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বার্তা নিয়ে এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। বিশ্ববাসীকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।"

খরা আর ঘূর্ণিঝড়ের চাদরে ঢাকবে পৃথিবী

ডব্লিউএমওর তথ্যমতে, এই এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন সাগরের জল উপচে পড়বে, অন্য প্রান্ত তখন পুড়বে তীব্র খরায়। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে দেখা দিতে পারে তীব্র খরা ও পানির হাহাকার। এছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হ্যারিকেন বা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই আসন্ন সংকটের গভীরতা বুঝাতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, "এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে তীব্র রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তা সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে।" প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলায় বিশ্ব কতটা প্রস্তুত, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


ফুঁসে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগর: ‘এল নিনো’র চোখরাঙানিতে চরম আবহাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

প্রকৃতির চেনা রূপ যেন এক লহমায় বদলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জমতে থাকা তীব্র উত্তাপ এবার বিশ্বজুড়ে বয়ে আনতে পারে এক চরম জলবায়ু বিপর্যয়। ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিশেষ রূপ ‘এল নিনো’র প্রভাবে আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি এবার আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা ৮০ শতাংশ এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে এর শক্তি সঞ্চয়ের আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ।

দোরগোড়ায় জলবায়ু সতর্কতা: গুতেরেসের আর্তি

সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ফিরে আসা এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়াটি এবার মানব সভ্যতার জন্য বড় পরীক্ষা নিতে চলেছে। এর স্থায়িত্ব সাধারণত নয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত হয়, যা বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে এক বিশাল ওলটপালট তৈরি করে। চলমান এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন খোদ জাতিসংঘ প্রধান। এক ভিডিওবার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, "বিজ্ঞান স্পষ্ট, আগামী মাসগুলোতে ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বার্তা নিয়ে এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। বিশ্ববাসীকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।"

খরা আর ঘূর্ণিঝড়ের চাদরে ঢাকবে পৃথিবী

ডব্লিউএমওর তথ্যমতে, এই এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন সাগরের জল উপচে পড়বে, অন্য প্রান্ত তখন পুড়বে তীব্র খরায়। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে দেখা দিতে পারে তীব্র খরা ও পানির হাহাকার। এছাড়া মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হ্যারিকেন বা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই আসন্ন সংকটের গভীরতা বুঝাতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, "এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে তীব্র রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তা সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে।" প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলায় বিশ্ব কতটা প্রস্তুত, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত