সংবাদ

মে মাস থেকে শুরু হতে পারে বিশেষ ক্যাম্পেইন

হামের টিকা দেয়া হবে ২ কোটি শিশুকে


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

হামের টিকা দেয়া হবে ২ কোটি শিশুকে

২০২৪ সালে নানা কারনে টিকার কাম্পেইন বন্ধ ছিল

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ভাবে মজুদ নেই, তবে জেলায় আছে: ডা. শাহরিয়ার

দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। চলতি বছরেই দেশজুড়ে প্রায় ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পালিত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে মানসম্মত এই টিকা আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। মহাখালী ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির উপ-পরিচালক ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাত বিষয়টি সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।

কর্মসূচি সম্পর্কে ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাত বলেন, "২০২০ সালে সর্বশেষ বড় ধরনের টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়েছিল। ২০২৪ সালে এমন একটি কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছর আমরা এই ক্যাম্পেইন করছি। সাধারণত আবুধাবি ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এ সব টিকা আমদানি করা হয়।"

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মহাখালী ইপিআই সেন্টারে টিকার মজুদ না থাকলেও জেলা পর্যায়ে কিছু টিকা সংরক্ষিত আছে। বছরে সাধারণত ৪২ লাখ শিশুকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় টিকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। বর্তমানে ৯টি টিকা দিয়ে হামসহ ১২টি রোগ প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ডা. সাজ্জাত মন্তব্য করেন, "বছরে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪২ লাখ শিশুর বিপরীতে বর্তমানে লজিস্টিকসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। সামনে টিকার আরও সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"

জানা গেছে, এই টিকা আমদানির জন্য সরকার প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা-উপজেলা এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এই কর্মসূচি বিস্তৃত করা হবে।

এদিকে, টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, টিকা দেওয়ার পরেও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। এই সংক্রামক ভাইরাস শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এই বিশাল কর্মসূচি সফল করতে টিকার পাশাপাশি প্রায় ২ কোটি সিরিঞ্জের প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিরিঞ্জসহ সব লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি দেশজুড়ে শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


হামের টিকা দেয়া হবে ২ কোটি শিশুকে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালে নানা কারনে টিকার কাম্পেইন বন্ধ ছিল

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ভাবে মজুদ নেই, তবে জেলায় আছে: ডা. শাহরিয়ার

দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। চলতি বছরেই দেশজুড়ে প্রায় ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পালিত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে মানসম্মত এই টিকা আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। মহাখালী ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির উপ-পরিচালক ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাত বিষয়টি সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।

কর্মসূচি সম্পর্কে ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাত বলেন, "২০২০ সালে সর্বশেষ বড় ধরনের টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়েছিল। ২০২৪ সালে এমন একটি কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছর আমরা এই ক্যাম্পেইন করছি। সাধারণত আবুধাবি ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এ সব টিকা আমদানি করা হয়।"

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মহাখালী ইপিআই সেন্টারে টিকার মজুদ না থাকলেও জেলা পর্যায়ে কিছু টিকা সংরক্ষিত আছে। বছরে সাধারণত ৪২ লাখ শিশুকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় টিকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। বর্তমানে ৯টি টিকা দিয়ে হামসহ ১২টি রোগ প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ডা. সাজ্জাত মন্তব্য করেন, "বছরে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪২ লাখ শিশুর বিপরীতে বর্তমানে লজিস্টিকসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। সামনে টিকার আরও সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"

জানা গেছে, এই টিকা আমদানির জন্য সরকার প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা-উপজেলা এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এই কর্মসূচি বিস্তৃত করা হবে।

এদিকে, টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, টিকা দেওয়ার পরেও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। এই সংক্রামক ভাইরাস শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এই বিশাল কর্মসূচি সফল করতে টিকার পাশাপাশি প্রায় ২ কোটি সিরিঞ্জের প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিরিঞ্জসহ সব লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি দেশজুড়ে শুরু হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত