চলমান গ্যাস সংকট বিবেচনায় ‘সরকারের পাশে দাঁড়াতে’ ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে ‘বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’। তবে নিজেদের ব্যবসা ‘টিকিয়ে রাখতে’ দাবিগুলো পূরণে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস না পেয়ে আগামী ৩০ জুলাই প্রতীকী ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিল সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন। তবে মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আগামী ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে এই ঘোষণা দেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০ জুলাই এক দিনের প্রতীকী ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেদিন বলা হয়েছিল, ৩০ জুলাই ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন প্রতীকীভাবে বন্ধ রাখা হবে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ধারাবাহিক গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে দীর্ঘ এক দশক ধরে সিএনজি বিক্রির ওপর মার্জিন বা কমিশন না বাড়ানোয় ‘চরম সংকটে পড়েছেন’ দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা। বারবার দাবি জানিও কোন সাড়া না তারা পাননি।
প্রতীকী ধর্মঘটে দাবি আদায় না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় দাবি আদায় না হলে পূর্ব ঘোষিত আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি বহাল থাকবে।
ধর্মঘট কেন?
সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে (১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে) সিএনজি প্রতি ঘনমিটারে নির্ধারিত ৮ টাকা কমিশন অপরিবর্তিত রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকের গ্যারান্টি কমিশন ও সুদ বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে লোকসান গুনে সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করা মালিকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিএনজি ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে সরকারের কাছে ৪টি দাবি রয়েছে তাদের।
দাবিগুলো কী?
১. সিএনজি বিক্রির কমিশন বর্তমানের ৮টাকা থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৩.৯৬ টাকা নির্ধারণ করা। ২. ভবিষ্যতে সিএনজি উৎপাদনে ব্যবহৃত যেকোনো জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে, তা আনুপাতিক ও স্বয়ংক্রিয় পন্থায় কমিশন বা মার্জিনের সাথে সমন্বয় করা। ৩. গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে বর্ধিত জামানত জমা নেওয়ার প্রথা পুরোপুরি বাতিল করা। ৪. সড়ক ও জনপথের ভূমি বা সংযোগ সড়কের ইজারা মাশুলসহ সকল সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি এবং নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
দাবির স্বপক্ষে যুক্তি
১. বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির সমন্বয়: ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখের বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের মাসিক বিদ্যুৎ বিল এক-পঞ্চমাংশ (২০%) বৃদ্ধি পাবে। এই বাড়তি উৎপাদন খরচ সমন্বয়ের জন্য কমিশন ২ টাকা ৪৬ পয়সা বৃদ্ধি করা জরুরি। ২. মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয়: বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির কারণে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সমন্বয় বাবদ আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, সিএনজি খাতের এই কমিশন বৃদ্ধির দাবি নতুন নয়। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন বা মার্জিন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০১৫ সালে মাত্র ১ টাকা মার্জিন বৃদ্ধি করে অবশিষ্ট ১ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির বিষয়টি দীর্ঘ এক দশক ধরে ‘রহস্যজনকভাবে ফাইলবন্দি’ করে রেখেছে।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারিত থাকায় যানবাহনে সরবরাহ সংশ্লিষ্ট বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। ফলে প্রায় ‘পাঁচ হাজার কোটি টাকার’ এই পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এখন ‘চরম লোকসান ও ধ্বংসের মুখে’ পড়েছে।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
চলমান গ্যাস সংকট বিবেচনায় ‘সরকারের পাশে দাঁড়াতে’ ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে ‘বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’। তবে নিজেদের ব্যবসা ‘টিকিয়ে রাখতে’ দাবিগুলো পূরণে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস না পেয়ে আগামী ৩০ জুলাই প্রতীকী ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিল সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন। তবে মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আগামী ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে এই ঘোষণা দেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০ জুলাই এক দিনের প্রতীকী ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেদিন বলা হয়েছিল, ৩০ জুলাই ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন প্রতীকীভাবে বন্ধ রাখা হবে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ধারাবাহিক গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে দীর্ঘ এক দশক ধরে সিএনজি বিক্রির ওপর মার্জিন বা কমিশন না বাড়ানোয় ‘চরম সংকটে পড়েছেন’ দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা। বারবার দাবি জানিও কোন সাড়া না তারা পাননি।
প্রতীকী ধর্মঘটে দাবি আদায় না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় দাবি আদায় না হলে পূর্ব ঘোষিত আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি বহাল থাকবে।
ধর্মঘট কেন?
সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে (১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে) সিএনজি প্রতি ঘনমিটারে নির্ধারিত ৮ টাকা কমিশন অপরিবর্তিত রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকের গ্যারান্টি কমিশন ও সুদ বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে লোকসান গুনে সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করা মালিকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিএনজি ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে সরকারের কাছে ৪টি দাবি রয়েছে তাদের।
দাবিগুলো কী?
১. সিএনজি বিক্রির কমিশন বর্তমানের ৮টাকা থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৩.৯৬ টাকা নির্ধারণ করা। ২. ভবিষ্যতে সিএনজি উৎপাদনে ব্যবহৃত যেকোনো জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে, তা আনুপাতিক ও স্বয়ংক্রিয় পন্থায় কমিশন বা মার্জিনের সাথে সমন্বয় করা। ৩. গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে বর্ধিত জামানত জমা নেওয়ার প্রথা পুরোপুরি বাতিল করা। ৪. সড়ক ও জনপথের ভূমি বা সংযোগ সড়কের ইজারা মাশুলসহ সকল সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি এবং নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
দাবির স্বপক্ষে যুক্তি
১. বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির সমন্বয়: ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখের বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের মাসিক বিদ্যুৎ বিল এক-পঞ্চমাংশ (২০%) বৃদ্ধি পাবে। এই বাড়তি উৎপাদন খরচ সমন্বয়ের জন্য কমিশন ২ টাকা ৪৬ পয়সা বৃদ্ধি করা জরুরি। ২. মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয়: বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির কারণে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সমন্বয় বাবদ আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, সিএনজি খাতের এই কমিশন বৃদ্ধির দাবি নতুন নয়। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন বা মার্জিন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০১৫ সালে মাত্র ১ টাকা মার্জিন বৃদ্ধি করে অবশিষ্ট ১ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির বিষয়টি দীর্ঘ এক দশক ধরে ‘রহস্যজনকভাবে ফাইলবন্দি’ করে রেখেছে।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারিত থাকায় যানবাহনে সরবরাহ সংশ্লিষ্ট বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। ফলে প্রায় ‘পাঁচ হাজার কোটি টাকার’ এই পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এখন ‘চরম লোকসান ও ধ্বংসের মুখে’ পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন