বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হচ্ছে, যা দেশে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ এই প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশেষ করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর সংস্থাটি এই উদ্বেগের কথা জানাল। ওই মামলায় রাজনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দুই সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “বিগত সরকারের আমলের নিপীড়নের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। তবে অনেক বিচার প্রক্রিয়াই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। বাংলাদেশের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা, যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কোনো সুযোগ না থাকে।”
সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল আইনে কিছু সংশোধন আনলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও আইনে প্রয়োজনীয় আর কোনো সংস্কার করেনি।
এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দিতে একই অনুচ্ছেদ হুবহু ‘কপি-পেস্ট’ করা হয়েছে, যা সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ ছাড়া আসামিপক্ষকে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, প্রসিকিউটরদের বিনা প্রমাণে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং উচ্চ আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের সুযোগ না থাকাকেও বড় আইনি দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাপলা চত্বর মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের জনৈক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ও তার পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হচ্ছে, যা দেশে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ এই প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশেষ করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর সংস্থাটি এই উদ্বেগের কথা জানাল। ওই মামলায় রাজনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দুই সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “বিগত সরকারের আমলের নিপীড়নের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। তবে অনেক বিচার প্রক্রিয়াই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। বাংলাদেশের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা, যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কোনো সুযোগ না থাকে।”
সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল আইনে কিছু সংশোধন আনলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও আইনে প্রয়োজনীয় আর কোনো সংস্কার করেনি।
এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দিতে একই অনুচ্ছেদ হুবহু ‘কপি-পেস্ট’ করা হয়েছে, যা সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ ছাড়া আসামিপক্ষকে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, প্রসিকিউটরদের বিনা প্রমাণে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং উচ্চ আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের সুযোগ না থাকাকেও বড় আইনি দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাপলা চত্বর মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের জনৈক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ও তার পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আপনার মতামত লিখুন