তিন দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার সফরে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতি এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ।
সফরকালে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের সঙ্গেও তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। সফরের একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সফর। সম্প্রতি বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং মস্কো ও আঙ্কারার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ও পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারগুলো সরাসরি জানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
সার্জিও গর একই সঙ্গে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অগ্রগতি এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্কের রসায়ন বুঝতে চেষ্টা করবেন তিনি। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো বিশেষ বার্তাও তিনি ঢাকার কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে ওয়াশিংটন আগ্রহী। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঢাকার উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা মার্কিন প্রশাসনের নজরে রয়েছে।
এর আগে, গত মার্চে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। সম্প্রতি ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়, যেখানে সার্জিও গর উপস্থিত ছিলেন। আজকের এই সফর মূলত সেই আলোচনারই ধারাবাহিকতা।
উল্লেখ্য, সার্জিও গর হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই দূতের সফরে বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন