শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের পূর্ব তেঘরিয়া, পশ্চিম তেঘরিয়া, উত্তর আরপিন নগর, দক্ষিণ আরপিন নগর, বড়পাড়া, জামতলা, জামাইপাড়া, নতুনপাড়া, উকিলপাড়া, কাজীর পয়েন্ট ও ষোলঘরসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নতুনপাড়া এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বহু মানুষের বসতবাড়িতে নোংরা পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে, বন্ধ হয়ে গেছে রান্নার চুলাও।
পশ্চিম নতুনপাড়ার বাসিন্দা বিমান মৈত্র আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে। থালা-বাটি দিয়ে পানি সেচে বের করতে হচ্ছে। এই নরকযন্ত্রণা সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখি না।’ স্থানীয় মুদিদোকানি সজল রায় জানান, জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে পারছেন না, রিকশাচালকেরাও এই এলাকায় ঢুকতে চান না। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব তেঘরিয়া মড়লহাটি এলাকার বাসিন্দা শিরিন বেগম অভিযোগ করেন, ড্রেনের নোংরা পানি ঘরে ঢুকে চরম বিড়ম্বনা তৈরি করছে।
পরিবেশ ও সমাজকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, সুনামগঞ্জে একসময় অনেক খাল ছিল যা প্রাকৃতিকভাবে পানি নিষ্কাশন করত। এখন অনেক খালের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এমনকি খালের ওপর ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। খাল পুনরুদ্ধার ও পরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, খাল পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় একটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কালি কৃষ্ণ পাল বলেন, এলাকাগুলো ভৌগোলিকভাবে নিচু হওয়ায় সাময়িকভাবে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন