মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ফেরাতে তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও বাস্তবে উপত্যকাটিতে রক্তপাত থামছে না। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই রোববার (২ আগস্ট) গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববারের হামলায় সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ঘটেছে গাজা সিটির আল-সুসি টাওয়ারে। সেখানে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন ৩৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান (২৯) এবং তাঁদের ৫ বছর বয়সী ছেলে আজম।
খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আল-কারারা এলাকায় আল-হামস পরিবারের ওপর হামলায় বাবা মাহমুদ, মা ফাতিমা ও তাদের শিশুসন্তান নিহত হন। এছাড়া দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে নিহত হন ৬৮ বছর বয়সী কামাল আবু মুয়াইলিক ও তার স্ত্রী হুদা (৫৯)। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার তাঁবুতেও ড্রোন ও বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দেইর আল-বালাহর আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের ওষুধ গুদামও ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি একে ‘ওষুধকে যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের শামিল বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ওয়াশিংটনের ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, হামাস এই রোডম্যাপ গ্রহণে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বরং কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই আবাসিক ভবন ও বেসামরিক জনসমাগমে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন, আলোচনার সময় হামলা বন্ধ রাখার কোনো চুক্তি হয়নি। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই তেল আবিবের।
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তথাকথিত এই ‘যুদ্ধবিরতি’র পর এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, শান্তি চুক্তির আড়ালে ইসরায়েল প্রকৃতপক্ষে সময়ক্ষেপণ করছে এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে।
/

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ফেরাতে তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও বাস্তবে উপত্যকাটিতে রক্তপাত থামছে না। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই রোববার (২ আগস্ট) গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববারের হামলায় সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ঘটেছে গাজা সিটির আল-সুসি টাওয়ারে। সেখানে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন ৩৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান (২৯) এবং তাঁদের ৫ বছর বয়সী ছেলে আজম।
খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আল-কারারা এলাকায় আল-হামস পরিবারের ওপর হামলায় বাবা মাহমুদ, মা ফাতিমা ও তাদের শিশুসন্তান নিহত হন। এছাড়া দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে নিহত হন ৬৮ বছর বয়সী কামাল আবু মুয়াইলিক ও তার স্ত্রী হুদা (৫৯)। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার তাঁবুতেও ড্রোন ও বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দেইর আল-বালাহর আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের ওষুধ গুদামও ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি একে ‘ওষুধকে যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের শামিল বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ওয়াশিংটনের ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, হামাস এই রোডম্যাপ গ্রহণে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বরং কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই আবাসিক ভবন ও বেসামরিক জনসমাগমে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন, আলোচনার সময় হামলা বন্ধ রাখার কোনো চুক্তি হয়নি। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই তেল আবিবের।
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তথাকথিত এই ‘যুদ্ধবিরতি’র পর এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, শান্তি চুক্তির আড়ালে ইসরায়েল প্রকৃতপক্ষে সময়ক্ষেপণ করছে এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে।
/

আপনার মতামত লিখুন