পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা ও এর কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে 'বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আর নতজানু হবে না'—এমন বার্তা বিশ্বদরবারে স্পষ্টভাবে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
নদী
ও পানিবণ্টনে দেশীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি
বলেন, "আমরা এতদিন ধরে
নদীবণ্টন ও পানি সমস্যা
সমাধানের কথা চিন্তা করেছিলাম।
আমরা চেয়েছিলাম প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে কোনোভাবে হোক
এ সমস্যাটা সমাধান করতে।"
সোমবার
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দ্য পদ্মা ব্যারাজ:
প্রসপেক্টটস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায়
তিনি এসব কথা বলেন।
ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল করপোরেশন
ফাউন্ডেশন এই আলোচনার আয়োজন
করে।
প্রতিবেশী
দেশের নীতির দিকে ইঙ্গিত করে
ড. সাইমুম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে পানির বিষয়ে যে আচরণ, পানিবণ্টন
বিষয়ে আমাদের যে অবস্থান, অন্য
কোনো দেশের স্বার্থ অনুযায়ী আমরা সে অবস্থান
নেবো না। বাংলাদেশের জনগণ
ও প্রাণ-প্রকৃতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া
হবে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া
উচিত, আমরা সেগুলো নিতে
পিছপা হবো না।"
মানুষের
তৈরি সংকট মোকাবিলায় এই
উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি
বলেন, "নদীর গতিপ্রকৃতি স্বাভাবিক
রাখা ও প্রকৃতির বেঁচে
থাকা; এটা আমরা চাই।
আমাদের মানবসৃষ্ট অনেক সমস্যা রয়েছে।
সেগুলো মোকাবিলার জন্য পদ্মা ব্যারাজ
দরকার।"
অনুষ্ঠানে
জাতীয় অর্থনীতিতে এই মেগা প্রকল্পের
ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক
উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল
মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "এ প্রকল্প জিডিপিতে
০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে
১ শতাংশ প্রভাব রাখবে। ২০৩৩ সালের মধ্যে
প্রকল্পটি শেষ হবে বলে
আশা করছি। ২০২৯ সালের মধ্যে
এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে।"
ঐতিহাসিক
প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে তিনি আরও বলেন,
"১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে পানি ব্যবস্থাপনার
যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৭ সাল বাংলাদেশের
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার একমাত্র মাইলফলক। এরপর ২০০২ সাল
পর্যন্ত কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ
নেওয়া হয়নি।"
বিদেশিদের
তৈরি করা 'ডেল্টা প্ল্যান'-এর সমালোচনা করে
তিনি জানান, মানুষ ও প্রকৃতির চাহিদা
বিবেচনা করে সম্পূর্ণ নিজস্ব
প্রয়োজনে রূপান্তর করা নকশায় প্রধানমন্ত্রীর
সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই পদ্মা ব্যারাজ।
এ সময়
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী ও ড. বুলবুল
সিদ্দিকীসহ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই ব্যারাজ বাস্তবায়িত
হলে যশোরের ভবদহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং
পলি অপসারণের মাধ্যমে নদ-নদীর প্রবাহ
ফিরে আসবে।

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা ও এর কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে 'বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আর নতজানু হবে না'—এমন বার্তা বিশ্বদরবারে স্পষ্টভাবে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
নদী
ও পানিবণ্টনে দেশীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি
বলেন, "আমরা এতদিন ধরে
নদীবণ্টন ও পানি সমস্যা
সমাধানের কথা চিন্তা করেছিলাম।
আমরা চেয়েছিলাম প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে কোনোভাবে হোক
এ সমস্যাটা সমাধান করতে।"
সোমবার
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দ্য পদ্মা ব্যারাজ:
প্রসপেক্টটস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায়
তিনি এসব কথা বলেন।
ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল করপোরেশন
ফাউন্ডেশন এই আলোচনার আয়োজন
করে।
প্রতিবেশী
দেশের নীতির দিকে ইঙ্গিত করে
ড. সাইমুম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে পানির বিষয়ে যে আচরণ, পানিবণ্টন
বিষয়ে আমাদের যে অবস্থান, অন্য
কোনো দেশের স্বার্থ অনুযায়ী আমরা সে অবস্থান
নেবো না। বাংলাদেশের জনগণ
ও প্রাণ-প্রকৃতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া
হবে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া
উচিত, আমরা সেগুলো নিতে
পিছপা হবো না।"
মানুষের
তৈরি সংকট মোকাবিলায় এই
উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি
বলেন, "নদীর গতিপ্রকৃতি স্বাভাবিক
রাখা ও প্রকৃতির বেঁচে
থাকা; এটা আমরা চাই।
আমাদের মানবসৃষ্ট অনেক সমস্যা রয়েছে।
সেগুলো মোকাবিলার জন্য পদ্মা ব্যারাজ
দরকার।"
অনুষ্ঠানে
জাতীয় অর্থনীতিতে এই মেগা প্রকল্পের
ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক
উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল
মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "এ প্রকল্প জিডিপিতে
০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে
১ শতাংশ প্রভাব রাখবে। ২০৩৩ সালের মধ্যে
প্রকল্পটি শেষ হবে বলে
আশা করছি। ২০২৯ সালের মধ্যে
এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে।"
ঐতিহাসিক
প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে তিনি আরও বলেন,
"১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে পানি ব্যবস্থাপনার
যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৭ সাল বাংলাদেশের
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার একমাত্র মাইলফলক। এরপর ২০০২ সাল
পর্যন্ত কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ
নেওয়া হয়নি।"
বিদেশিদের
তৈরি করা 'ডেল্টা প্ল্যান'-এর সমালোচনা করে
তিনি জানান, মানুষ ও প্রকৃতির চাহিদা
বিবেচনা করে সম্পূর্ণ নিজস্ব
প্রয়োজনে রূপান্তর করা নকশায় প্রধানমন্ত্রীর
সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই পদ্মা ব্যারাজ।
এ সময়
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী ও ড. বুলবুল
সিদ্দিকীসহ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই ব্যারাজ বাস্তবায়িত
হলে যশোরের ভবদহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং
পলি অপসারণের মাধ্যমে নদ-নদীর প্রবাহ
ফিরে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন