সংবাদ

গুঞ্জন ও রাজনৈতিক সমীকরণ: রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিল বিএনপি!


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

গুঞ্জন ও রাজনৈতিক সমীকরণ: রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিল বিএনপি!

​সব হিসাব-নিকাশ মিলে গেলে আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যিনি হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

এর মধ্যেই বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করেছে দলটি এবং তাকে এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৭৫টি ভোটের প্রয়োজন হওয়ায়, দলটি যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন, তা প্রায় নিশ্চিত।
​১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর বাদে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে ১৯৮৬ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করা মির্জা ফখরুল ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন।
১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও কৃষকদলের সহ-সভাপতি হওয়া ফখরুল ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হেরে গেলেও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়েও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
​২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১১ সালের মার্চে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন, যে দায়িত্ব তিনি এখনও পালন করছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি শপথ নেননি।
শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে তিনি ১১ বার কারাবাস করেন এবং সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছেন। এখন সব সমীকরণ ঠিক থাকলে জীবন সায়াহ্নে থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি!

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই।’

এ দিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। র‌বিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


গুঞ্জন ও রাজনৈতিক সমীকরণ: রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিল বিএনপি!

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​সব হিসাব-নিকাশ মিলে গেলে আগামী ২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যিনি হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

এর মধ্যেই বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করেছে দলটি এবং তাকে এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৭৫টি ভোটের প্রয়োজন হওয়ায়, দলটি যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন, তা প্রায় নিশ্চিত।
​১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর বাদে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে ১৯৮৬ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করা মির্জা ফখরুল ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন।
১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও কৃষকদলের সহ-সভাপতি হওয়া ফখরুল ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হেরে গেলেও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়েও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
​২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১১ সালের মার্চে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন, যে দায়িত্ব তিনি এখনও পালন করছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি শপথ নেননি।
শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে তিনি ১১ বার কারাবাস করেন এবং সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছেন। এখন সব সমীকরণ ঠিক থাকলে জীবন সায়াহ্নে থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি!

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই।’

এ দিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। র‌বিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত