মৌলভীবাজার জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র জেলা শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। জেলার সাতটি উপজেলা থেকে জটিল রোগীদের শেষ ভরসা হিসেবে পাঠানো হয় এখানে। অথচ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট, অচল যন্ত্রপাতি আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হাসপাতালটি নিজেই এখন ধুঁকছে। উন্নত চিকিৎসার ‘শেষ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে এসে রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৮৪টি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪২ জন। অর্থাৎ পদের অর্ধেক চিকিৎসক দিয়েই কোনোমতে খুঁড়িয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। শুধু চিকিৎসক নয়, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদেও রয়েছে বড় ঘাটতি; ১৪টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৯ জন। ফলে বহির্বিভাগ ও ইনডোর–উভয় জায়গাতেই রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেবা নিতে আসা মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষায় রয়েছে পাহাড়সম সীমাবদ্ধতা। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে বিভাগটি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন চালু থাকে। প্যাথলজি বিভাগের অবস্থাও তথৈবচ; অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটতে হচ্ছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পকেট কাটছে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো, আর সরকারি হাসপাতালের বিশাল ভবন দাঁড়িয়ে আছে নামমাত্র সুবিধা নিয়ে।
সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও করিডোরে গিয়ে দেখা যায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় চারদিকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সেবা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালে এসে আমরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। গন্ধে টেকা যায় না, টয়লেটে যাওয়া যায় না। ডাক্তারও পাওয়া যায় না ঠিকমতো।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মৌলভীবাজার জেলা রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হলেও মৌলভীবাজারবাসী স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ, প্যাথলজিক্যাল সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং এক্স-রে বিভাগ নিয়মিত সচল করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
মৌলভীবাজার জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র জেলা শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। জেলার সাতটি উপজেলা থেকে জটিল রোগীদের শেষ ভরসা হিসেবে পাঠানো হয় এখানে। অথচ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট, অচল যন্ত্রপাতি আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হাসপাতালটি নিজেই এখন ধুঁকছে। উন্নত চিকিৎসার ‘শেষ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে এসে রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৮৪টি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪২ জন। অর্থাৎ পদের অর্ধেক চিকিৎসক দিয়েই কোনোমতে খুঁড়িয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। শুধু চিকিৎসক নয়, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদেও রয়েছে বড় ঘাটতি; ১৪টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৯ জন। ফলে বহির্বিভাগ ও ইনডোর–উভয় জায়গাতেই রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেবা নিতে আসা মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষায় রয়েছে পাহাড়সম সীমাবদ্ধতা। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে বিভাগটি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন চালু থাকে। প্যাথলজি বিভাগের অবস্থাও তথৈবচ; অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটতে হচ্ছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পকেট কাটছে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো, আর সরকারি হাসপাতালের বিশাল ভবন দাঁড়িয়ে আছে নামমাত্র সুবিধা নিয়ে।
সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও করিডোরে গিয়ে দেখা যায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় চারদিকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সেবা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালে এসে আমরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। গন্ধে টেকা যায় না, টয়লেটে যাওয়া যায় না। ডাক্তারও পাওয়া যায় না ঠিকমতো।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মৌলভীবাজার জেলা রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হলেও মৌলভীবাজারবাসী স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ, প্যাথলজিক্যাল সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং এক্স-রে বিভাগ নিয়মিত সচল করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন