ফেনীর ফুলগাজীতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের সাবেক এক কর্মচারীর ভাড়া বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। অবৈধভাবে ত্রাণ মজুদের ঘটনায় অভিযুক্ত অফিস সহকারী আবদুল বাকেরের (৬৫) বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত হওয়ায় মামলাটি এখন দুদকের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফুলগাজী সদর বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে এসব ত্রাণ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত আবদুল বাকের নোয়াখালীর সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ২০২৪ সালে ফুলগাজী পিআইও কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি নোয়াখালীর একটি উপজেলায় কর্মরত থাকলেও তার পরিবার ফুলগাজীর ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসায় সরকারি ত্রাণসামগ্রী অবৈধভাবে মজুত রয়েছে - এমন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউসার হামিদের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ বাসিন্দারাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩০০ কেজি চাল, ৩২ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০ কেজি লবণ, ৩০ কেজি চিনি, ৩৩ কেজি মসুর ডাল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে হলুদ, মরিচ ও ধনিয়ার গুঁড়ার প্যাকেট। সব মিলিয়ে ১০ বস্তা ত্রাণের প্যাকেট ও তিন বস্তা শুকনো খাবার জব্দ করে পুলিশ।
ইউএনও মোহাম্মদ কাউসার হামিদ জানান, উদ্ধার করা মালামাল ২০২৪-২৫ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ এসেছিল। জব্দ করা এসব পণ্য বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।
ফুলগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদ বাদী হয়ে আবদুল বাকেরকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যেহেতু ঘটনাটি দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দুদকের শিডিউলভুক্ত, তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগটি দুদকে পাঠানো হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন