সংবাদ

হুইলচেয়ারেই স্বপ্নজয়: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জিপিএ-৫ পেল ইয়াসার


এএসএম এনায়েত, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ)
এএসএম এনায়েত, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

হুইলচেয়ারেই স্বপ্নজয়: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জিপিএ-৫ পেল ইয়াসার
ছবি : সংবাদ

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। চলাফেরা করতে পারেন না স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের কাছে হার মেনেছে সব প্রতিবন্ধকতা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পলাশতলী গ্রামের ইয়াসার ইসলাম নিরব এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দিয়ে অভাবনীয় এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

ইয়াসার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তার বাবা সিরাজুল ইসলাম একজন সাধারণ কৃষক। ছেলের পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে সিরাজুল ইসলাম পৈতৃক ভিটেবাড়ি বিক্রি করে বিদ্যালয়ের পাশে নতুন বাড়ি তৈরি করেন, যাতে ইয়াসারের যাতায়াতে সুবিধা হয়।

ইয়াসার জানান, তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বাবা-মা, শিক্ষক ও বন্ধুদের। বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে বিদ্যালয়ে যেতেও তাকে বাবার কাঁধে বা বন্ধুদের সাহায্য নিতে হতো। ইয়াসার বলেন, ‘আমি সোজা হয়ে বসে লিখতে পারতাম না। বিছানায় শুয়ে পড়তে পছন্দ করতাম। পরীক্ষার দুই মাস আগে থেকে অনেক কষ্ট করে বসে লেখা আয়ত্ত করেছি। আমার আঙুলগুলোও স্বাভাবিক নয়, মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম হাতে আমাকে লিখতে হয়।’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ইয়াসার আরও বলেন, ‘আমি জীবনে কখনো প্রাইভেট পড়িনি। শিক্ষকদের সহযোগিতা আর বন্ধুদের ভালোবাসায় আমি আজ এই পর্যায়ে। আমার বন্ধুরা আমাকে কাঁধে করে বা হুইলচেয়ারে করে ক্লাসে নিয়ে যেত। ওয়াশরুমে যেতে হলেও তারাই সাহায্য করত। আমি তাদের ঋণ কোনোদিন ভুলব না।’

ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ইয়াসার। তবে দরিদ্র কৃষক বাবার পক্ষে ছেলের উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইয়াসার তার স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন।

ইয়াসারের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিন সন্তানের মধ্যে ইয়াসার সবার বড়। আমি কামিল পাস করেও চাকরি পাইনি, এখন অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করি। আমার সম্পত্তি বলতে শুধু ভিটেমাটি। এখন একটাই চাওয়া, ছেলে যেন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।’

পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম সায়ফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘নিরবের সাফল্য আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, নিরবের এই সাফল্য অত্যন্ত গর্বের। তার উচ্চশিক্ষার পথে যেন কোনো বাধা না আসে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


হুইলচেয়ারেই স্বপ্নজয়: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জিপিএ-৫ পেল ইয়াসার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। চলাফেরা করতে পারেন না স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের কাছে হার মেনেছে সব প্রতিবন্ধকতা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পলাশতলী গ্রামের ইয়াসার ইসলাম নিরব এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দিয়ে অভাবনীয় এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

ইয়াসার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তার বাবা সিরাজুল ইসলাম একজন সাধারণ কৃষক। ছেলের পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে সিরাজুল ইসলাম পৈতৃক ভিটেবাড়ি বিক্রি করে বিদ্যালয়ের পাশে নতুন বাড়ি তৈরি করেন, যাতে ইয়াসারের যাতায়াতে সুবিধা হয়।

ইয়াসার জানান, তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বাবা-মা, শিক্ষক ও বন্ধুদের। বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে বিদ্যালয়ে যেতেও তাকে বাবার কাঁধে বা বন্ধুদের সাহায্য নিতে হতো। ইয়াসার বলেন, ‘আমি সোজা হয়ে বসে লিখতে পারতাম না। বিছানায় শুয়ে পড়তে পছন্দ করতাম। পরীক্ষার দুই মাস আগে থেকে অনেক কষ্ট করে বসে লেখা আয়ত্ত করেছি। আমার আঙুলগুলোও স্বাভাবিক নয়, মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম হাতে আমাকে লিখতে হয়।’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ইয়াসার আরও বলেন, ‘আমি জীবনে কখনো প্রাইভেট পড়িনি। শিক্ষকদের সহযোগিতা আর বন্ধুদের ভালোবাসায় আমি আজ এই পর্যায়ে। আমার বন্ধুরা আমাকে কাঁধে করে বা হুইলচেয়ারে করে ক্লাসে নিয়ে যেত। ওয়াশরুমে যেতে হলেও তারাই সাহায্য করত। আমি তাদের ঋণ কোনোদিন ভুলব না।’

ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ইয়াসার। তবে দরিদ্র কৃষক বাবার পক্ষে ছেলের উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইয়াসার তার স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন।

ইয়াসারের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিন সন্তানের মধ্যে ইয়াসার সবার বড়। আমি কামিল পাস করেও চাকরি পাইনি, এখন অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করি। আমার সম্পত্তি বলতে শুধু ভিটেমাটি। এখন একটাই চাওয়া, ছেলে যেন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।’

পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম সায়ফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘নিরবের সাফল্য আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, নিরবের এই সাফল্য অত্যন্ত গর্বের। তার উচ্চশিক্ষার পথে যেন কোনো বাধা না আসে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত