সংবাদ

ভুল পরিকল্পনা ও অব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সংকট: হাসনাত আব্দুল্লাহ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম

ভুল পরিকল্পনা ও অব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সংকট: হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বর্তমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত, অপেশাদারত্ব ও পরিকল্পনাহীনতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার নিজের অব্যবস্থাপনা আড়াল করতে বিশ্ব পরিস্থিতি ও যুদ্ধের দোহাই দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে সরকারের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ভুলের কথা তুলে ধরেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময় সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। প্রথমে মূল্যস্ফীতির অজুহাতে দাম না বাড়িয়ে পরে হুট করে বড় ধরনের দাম বাড়ানো হয়। এতে জনজীবনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এছাড়া ভর্তুকির টাকা কোথা থেকে আসবে, তার কোনো সঠিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সরকারের ছিল না।

তার মতে, সরকার ভুল জায়গায় ভর্তুকি কাটছাঁট করেছে। যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে না, সেই সব কেন্দ্রকে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়া অব্যাহত রাখা হলেও তেল ও কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়নি। ফলে অনেক কেন্দ্র উৎপাদনে ফিরতে পারছে না। এমনকি ভারতের আদানি গ্রুপসহ অন্যান্য আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিলও এই সংকটের একটি প্রধান কারণ।

পোস্টে তিনি পিজিবিসির তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, দেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম লোডশেডিং প্রত্যক্ষ করছে। গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। গত ১০ আগস্ট রাতে দেশে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো হালনাগাদ ‘ফুয়েল প্ল্যান’ বা আপদকালীন পরিকল্পনা নেই। এছাড়া সোলার প্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর শূন্য শুল্কের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ১৭ শতাংশ শুল্ক বসানোর তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

ভারতের সঙ্গে ‘বিদ্যুৎ করিডোর’ পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ ও নদী রক্ষা করে যেকোনো আমদানি হতে পারে, কিন্তু দেশের ক্ষতি করে কোনো করিডোর মেনে নেওয়া হবে না।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে বরগুনা ও কক্সবাজারের জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না এবং শিল্পকারখানা ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এনসিপির দেওয়া সমাধান প্রস্তাবগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


ভুল পরিকল্পনা ও অব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সংকট: হাসনাত আব্দুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের বর্তমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত, অপেশাদারত্ব ও পরিকল্পনাহীনতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার নিজের অব্যবস্থাপনা আড়াল করতে বিশ্ব পরিস্থিতি ও যুদ্ধের দোহাই দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে সরকারের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ভুলের কথা তুলে ধরেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময় সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। প্রথমে মূল্যস্ফীতির অজুহাতে দাম না বাড়িয়ে পরে হুট করে বড় ধরনের দাম বাড়ানো হয়। এতে জনজীবনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এছাড়া ভর্তুকির টাকা কোথা থেকে আসবে, তার কোনো সঠিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সরকারের ছিল না।

তার মতে, সরকার ভুল জায়গায় ভর্তুকি কাটছাঁট করেছে। যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে না, সেই সব কেন্দ্রকে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়া অব্যাহত রাখা হলেও তেল ও কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়নি। ফলে অনেক কেন্দ্র উৎপাদনে ফিরতে পারছে না। এমনকি ভারতের আদানি গ্রুপসহ অন্যান্য আমদানিকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিলও এই সংকটের একটি প্রধান কারণ।

পোস্টে তিনি পিজিবিসির তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, দেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম লোডশেডিং প্রত্যক্ষ করছে। গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। গত ১০ আগস্ট রাতে দেশে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো হালনাগাদ ‘ফুয়েল প্ল্যান’ বা আপদকালীন পরিকল্পনা নেই। এছাড়া সোলার প্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর শূন্য শুল্কের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ১৭ শতাংশ শুল্ক বসানোর তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

ভারতের সঙ্গে ‘বিদ্যুৎ করিডোর’ পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ ও নদী রক্ষা করে যেকোনো আমদানি হতে পারে, কিন্তু দেশের ক্ষতি করে কোনো করিডোর মেনে নেওয়া হবে না।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে বরগুনা ও কক্সবাজারের জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না এবং শিল্পকারখানা ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এনসিপির দেওয়া সমাধান প্রস্তাবগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত