গণশুনানি ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে এবং দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আল-আমীন রহমানের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক তুহিন ফরাজির সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ, ঢাকা নগরের সদস্য ইয়াসিন খান, রিয়াজ হোসেন, আশিকুর রহমান, মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে চরম ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গিয়েছে। সেই সংকটময় অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশকে উদ্ধার করার পরিবর্তে সাধারণ জনগণের ওপর নতুন করে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে খেটে খাওয়া মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে উল্লেখ করে তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ বলেন, "জ্বালানী তেলের দামবৃদ্ধি না করেও সংকট সামাল দেয়ার কয়েকটি উপায় সরকারের হাতে ছিলো। কিন্তু সরকার বিকল্প না ভেবেই জনগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির ভার চাপিয়ে দিয়েছে, যা জনগণের নাভিশ্বাস তৈরী করেছে।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা কোথায়? হাসপাতাল থেকে স্টুডিও, কোথাও যদি মানুষ ও প্রতিষ্ঠান নিরাপদ না থাকে, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালন কোথায় করছে সেই প্রশ্ন উঠছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়সারা বক্তব্য নয়, অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আল-আমীন রহমান বলেন, "বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা না জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধি করা মানে জনগণের ওপর এই বোজা চাপিয়ে দিয়ে জনগণের স্বাভাবিক জীবন যাপনে আরো বেহত করছে এই সরকার। আমরা স্পষ্ট করে এই সরকারকে বলে দিতে চাই বিপিসিসহ সরকার বিগত সময়ে যে মুনাফা করছে সেখান থেকে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিতে হবে। এখানে শুল্ক, কর কীভাবে কমিয়ে দাম সমন্বয় করা যায় সেই পথ সরকারকে ঠিক করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই সরকার মূল্যবৃদ্ধির পরবর্তী সময়েও তারা বাজার যথাযথ মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখছে না। যার ফলে এখানে পরিবহন সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে নানা নৈরাজ্য এখানে হচ্ছে যার সরাসরি ভোগান্তি একমাত্র জনগণ মোকাবিলা করছে।"
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর একটি মশাল মিছিল শাহবাগ এলাকা থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অভিমুখে গমন করে এবং পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়। এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক লালরিথাং বম, যুগ্ম সম্পাদক সজল আহমেদ, যুব ফেডারেশনের সদস্য মো. সৌরভসহ বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গণশুনানি ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে এবং দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আল-আমীন রহমানের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক তুহিন ফরাজির সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ, ঢাকা নগরের সদস্য ইয়াসিন খান, রিয়াজ হোসেন, আশিকুর রহমান, মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে চরম ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গিয়েছে। সেই সংকটময় অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশকে উদ্ধার করার পরিবর্তে সাধারণ জনগণের ওপর নতুন করে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে খেটে খাওয়া মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে উল্লেখ করে তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ বলেন, "জ্বালানী তেলের দামবৃদ্ধি না করেও সংকট সামাল দেয়ার কয়েকটি উপায় সরকারের হাতে ছিলো। কিন্তু সরকার বিকল্প না ভেবেই জনগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির ভার চাপিয়ে দিয়েছে, যা জনগণের নাভিশ্বাস তৈরী করেছে।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা কোথায়? হাসপাতাল থেকে স্টুডিও, কোথাও যদি মানুষ ও প্রতিষ্ঠান নিরাপদ না থাকে, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালন কোথায় করছে সেই প্রশ্ন উঠছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়সারা বক্তব্য নয়, অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আল-আমীন রহমান বলেন, "বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা না জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধি করা মানে জনগণের ওপর এই বোজা চাপিয়ে দিয়ে জনগণের স্বাভাবিক জীবন যাপনে আরো বেহত করছে এই সরকার। আমরা স্পষ্ট করে এই সরকারকে বলে দিতে চাই বিপিসিসহ সরকার বিগত সময়ে যে মুনাফা করছে সেখান থেকে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিতে হবে। এখানে শুল্ক, কর কীভাবে কমিয়ে দাম সমন্বয় করা যায় সেই পথ সরকারকে ঠিক করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই সরকার মূল্যবৃদ্ধির পরবর্তী সময়েও তারা বাজার যথাযথ মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখছে না। যার ফলে এখানে পরিবহন সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে নানা নৈরাজ্য এখানে হচ্ছে যার সরাসরি ভোগান্তি একমাত্র জনগণ মোকাবিলা করছে।"
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর একটি মশাল মিছিল শাহবাগ এলাকা থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অভিমুখে গমন করে এবং পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়। এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক লালরিথাং বম, যুগ্ম সম্পাদক সজল আহমেদ, যুব ফেডারেশনের সদস্য মো. সৌরভসহ বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন