সংবাদ

শেষবার দেখা হলো না স্বামীর মুখ, কোলের শিশু নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

শেষবার দেখা হলো না স্বামীর মুখ, কোলের শিশু নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী
ছবি : সংবাদ

স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পাগলের মতো ছুটেছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দিকে। মনে একটাই আশা ছিল-জীবিত না হোক, অন্তত শেষবারের মতো মানুষটার মুখটা তো দেখা হবে! কিন্তু পথেই জানতে পারলেন, স্বামীর নিথর দেহটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে গাইবান্ধার গ্রামে। শাপলা বেগম যখন সুন্দরগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছালেন, ততক্ষণে সব শেষ। প্রিয়তম স্বামীকে মাটি দেওয়া হয়ে গেছে। দেড় বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে এখন এক অতল অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে এই নারী।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে গত শুক্রবার যে আটজন শ্রমিকের প্রাণ গেছে, তাদেরই একজন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের খোকন মিয়া (২৮)। শনিবার সকালে তার মরদেহ সুন্দরগঞ্জের কিসমত হলদিয়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুপুর ১২টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত খোকন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী আর কোলের শিশুকে নিয়ে তারই আয়ে চলত সংসার। খোকনের মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। শাপলা বেগমের আক্ষেপ, তার দেড় বছরের সন্তানটিকেও শেষবারের মতো বাবার চেহারা দেখতে দেওয়া হলো না। শাপলার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর এখন শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকেও তাকে ও তার সন্তানকে অস্বীকার করার চেষ্টা চলছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাপলা বেগম বলেন, ‘এই ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার তো আর কেউ নেই। মালিকপক্ষ আর সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তবে আমাদের মরণ ছাড়া আর পথ নেই।’

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এতিম শিশু ও বিধবা শাপলার ভবিষ্যতের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


শেষবার দেখা হলো না স্বামীর মুখ, কোলের শিশু নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পাগলের মতো ছুটেছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দিকে। মনে একটাই আশা ছিল-জীবিত না হোক, অন্তত শেষবারের মতো মানুষটার মুখটা তো দেখা হবে! কিন্তু পথেই জানতে পারলেন, স্বামীর নিথর দেহটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে গাইবান্ধার গ্রামে। শাপলা বেগম যখন সুন্দরগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছালেন, ততক্ষণে সব শেষ। প্রিয়তম স্বামীকে মাটি দেওয়া হয়ে গেছে। দেড় বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে এখন এক অতল অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে এই নারী।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে গত শুক্রবার যে আটজন শ্রমিকের প্রাণ গেছে, তাদেরই একজন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের খোকন মিয়া (২৮)। শনিবার সকালে তার মরদেহ সুন্দরগঞ্জের কিসমত হলদিয়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুপুর ১২টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত খোকন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী আর কোলের শিশুকে নিয়ে তারই আয়ে চলত সংসার। খোকনের মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। শাপলা বেগমের আক্ষেপ, তার দেড় বছরের সন্তানটিকেও শেষবারের মতো বাবার চেহারা দেখতে দেওয়া হলো না। শাপলার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর এখন শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকেও তাকে ও তার সন্তানকে অস্বীকার করার চেষ্টা চলছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাপলা বেগম বলেন, ‘এই ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার তো আর কেউ নেই। মালিকপক্ষ আর সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তবে আমাদের মরণ ছাড়া আর পথ নেই।’

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এতিম শিশু ও বিধবা শাপলার ভবিষ্যতের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত