সংবাদ

সার পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানো জরুরি


প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

সার পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানো জরুরি

গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সার পাচারের একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। ভোলার চরফ্যাশনে নদীপথে ২৯৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ চারজনকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বরিশালের গৌরনদীতে ১৫ বস্তা সার পাচারের সময় ধরা পড়েছেন এক ডিলার। জরিমানা গুনতে হয়েছে তাকে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় কোস্টগার্ড ৭৬০ বস্তা সারসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক কৃষি কর্মকর্তাকে আটক করে। 

কৃষি খাতে সরকার প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দেয়, যাতে কৃষক ন্যায্য মূল্যে সার পান। বাস্তবতা হলো, একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কম দামে বরাদ্দকৃত সার বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশেও পাচার করছে। কৃষকরাই এই অনিয়মের প্রথম শিকার হচ্ছেন। 

ডিলার পর্যায়ে জবাবদিহি থাকলে, তদারকি ব্যবস্থা কঠোর হলে পাচারের এই সুযোগ তারা পেত না। কিছুক্ষেত্রে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাচারকারীদের আটক করেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না। 

সার পাচার বন্ধ করতে হলে ডিলার পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। 

অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। কৃষককে সহায়তা দেয়াই ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্য। সেই ভর্তুকির সুবিধা যদি প্রকৃত কৃষকের বদলে অসাধু চক্রের পকেটে চলে যায়, তাহলে সরকারের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে পড়ে। কাজেই সারা পাচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


সার পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানো জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সার পাচারের একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। ভোলার চরফ্যাশনে নদীপথে ২৯৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ চারজনকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বরিশালের গৌরনদীতে ১৫ বস্তা সার পাচারের সময় ধরা পড়েছেন এক ডিলার। জরিমানা গুনতে হয়েছে তাকে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় কোস্টগার্ড ৭৬০ বস্তা সারসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক কৃষি কর্মকর্তাকে আটক করে। 

কৃষি খাতে সরকার প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দেয়, যাতে কৃষক ন্যায্য মূল্যে সার পান। বাস্তবতা হলো, একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কম দামে বরাদ্দকৃত সার বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশেও পাচার করছে। কৃষকরাই এই অনিয়মের প্রথম শিকার হচ্ছেন। 

ডিলার পর্যায়ে জবাবদিহি থাকলে, তদারকি ব্যবস্থা কঠোর হলে পাচারের এই সুযোগ তারা পেত না। কিছুক্ষেত্রে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাচারকারীদের আটক করেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না। 

সার পাচার বন্ধ করতে হলে ডিলার পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। 

অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। কৃষককে সহায়তা দেয়াই ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্য। সেই ভর্তুকির সুবিধা যদি প্রকৃত কৃষকের বদলে অসাধু চক্রের পকেটে চলে যায়, তাহলে সরকারের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে পড়ে। কাজেই সারা পাচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। 



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত