চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নয়জন শ্রমিক মারা গেছে। আরও কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি পরিবহন করতো। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংকগুলো সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড বা হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল দুর্বল।
মালিকপক্ষের দাবি, গত শুক্রবার কারখানা বন্ধ ছিল। সেফটি বিভাগের লোকজন কাজ করছিলেন। গ্যাস লিকেজ দেখে কয়েকজন এগিয়ে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হন। ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। শিপ রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেবে বলে জানিয়েছে। সরকারও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধারের পর আহত শ্রমিকরা সময়মতো চিকিৎসা পায়নি। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স বা অক্সিজেন সরঞ্জাম পর্যাপ্ত ছিল না।
জেলা প্রশাসন, শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শিল্প মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরও তদন্ত করছে। আমরা আশা করবা, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় কোনো ছাড় দেয়া চলবে না।
দেশে জাহাজ ভাঙা শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই খাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। নিয়ম মেনে জাহাজত গ্যাসমুক্ত করা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম রাখা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা মালিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব। এসব না মানলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটবে।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নয়জন শ্রমিক মারা গেছে। আরও কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি পরিবহন করতো। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংকগুলো সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড বা হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল দুর্বল।
মালিকপক্ষের দাবি, গত শুক্রবার কারখানা বন্ধ ছিল। সেফটি বিভাগের লোকজন কাজ করছিলেন। গ্যাস লিকেজ দেখে কয়েকজন এগিয়ে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হন। ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। শিপ রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেবে বলে জানিয়েছে। সরকারও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধারের পর আহত শ্রমিকরা সময়মতো চিকিৎসা পায়নি। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স বা অক্সিজেন সরঞ্জাম পর্যাপ্ত ছিল না।
জেলা প্রশাসন, শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শিল্প মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরও তদন্ত করছে। আমরা আশা করবা, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় কোনো ছাড় দেয়া চলবে না।
দেশে জাহাজ ভাঙা শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই খাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। নিয়ম মেনে জাহাজত গ্যাসমুক্ত করা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম রাখা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা মালিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব। এসব না মানলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটবে।

আপনার মতামত লিখুন